বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:০৮ অপরাহ্ন

অস্ত্র-মাদকের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে গোয়াইনঘাট পুলিশ

অস্ত্র-মাদকের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে গোয়াইনঘাট পুলিশ

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:সীমান্তঘেরা জনপদ গোয়াইনঘাট। দেশ-বিদেশে এই জনপদকে বিখ্যাত করেছে রূপের রানী জাফলং। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ মায়াজল মুগ্ধতা ছড়ায় মানুষের মনে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটনের তীর্থভূমি খ্যাত এই জনপদের সুনাম নষ্ট করছে মাদক চোরাচালান। ভারতীয় মদ, গাঁজা, সিগারেট, বিড়ি ছাড়িয়ে এখন ইয়াবার চালানও দেশে নিয়ে আসছে চোরাকারবারিরা। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে অস্ত্র চোরাচালান। একই সঙ্গে মাদক, অবৈধ অস্ত্র চোরাই পথে দেশে প্রবেশ করায় চিন্তার বলিরেখা দেখা দিয়েছে প্রশাসনে।
বিগত দিনে বিভিন্ন অভিযানে মাদকদ্রব্যের অসংখ্য চালান ধরতে সক্ষম হলেও অস্ত্রের চালান ধরতে তেমন সফল হচ্ছিল না গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। দক্ষ অফিসার হিসেবে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আহাদকে ২ আগস্ট এই থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। এরপর সফলতাও অনেকখানি আসতে থাকে। গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের বদনাম ঘুচাতে অনেকটা সফল নবাগত এই পুলিশ কর্মকর্তা। মাদককে জিরো টলারেন্সে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সেই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারেও বৃথা যায়নি তার প্রয়াস। সর্বশেষ সোমবার দিনগত রাতে ওসি আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে আরব আলী নামে এক অস্ত্র চোরাকারবারিকে আটক করে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। তার কাছ থেকে দুটি রিভলবার জব্দ করা হয়। তাকে নিয়ে আরো অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ। বুধবার অস্ত্রসহ আটক আরম আলীকে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এসপির মুখেও ভূয়সী প্রশংসা ছিল গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের। খোজ নিয়ে জানা গেছে, ওসি আব্দুল আহাদ যোগদানের ৪০ দিনের মধ্যেই ২টি অস্ত্র, মাদক মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় ১৭১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত ১০৫ জন, সাজা পরোয়ানাভুক্ত ২০ জন, নিয়মিত মাদক মামলাসহ নিয়মিত মামলায় ৪৫ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া ভারতীয় মদ ২৯ বোতল, সিএনজি অটোরিকশাসহ ৩২ লিটার চুলাই মদ, ৩ হাজার ২৯০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৯৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২ কেজি গাজা এবং ৮ হাজার পিস ভারতীয় সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর সালুটিকর এলাকায় বন্ধুক যুদ্ধে ২১ মামলার আসামী ফজর আলী নিহত হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২টি রিভলবার, ৫রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় থানা পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোয়াইনঘাটের জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল,পান্তুমাই পর্যটন এলাকা ছাড়াও একাধিক আদিবাসী পল্লী (খাসিয়াপুঞ্জি) একাধিক চা বাগান রয়েছে। তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট, বিছনাকান্দি, সালুটিকর মাদক জোন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। জাফলং এবং সালুটিকরে পুলিশের নজরদারী এবং সাম্প্রতিককালে বন্ধুকযুদ্ধে মাদক বিক্রেতা মারা যাওয়ার ঘটনায় সীমান্ত এলাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ জানান, মাদকের কারণে সীমান্তবর্তী জনপদে অশান্তি বিরাজমান। তাই মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে এ্যাকশন অব্যাহত রাখবে গোয়াইনঘাট পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ