সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৩০ অপরাহ্ন

আইএসে যোগ দেওয়া ফেঞ্চুগঞ্জের একই পরিবারের ১২ সদস্যের মৃত্যু

আইএসে যোগ দেওয়া ফেঞ্চুগঞ্জের একই পরিবারের ১২ সদস্যের মৃত্যু

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেঁচে নেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামাক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেওয়া ফেঞ্চুগঞ্জের যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেই পরিবারের ১২ সদস্যই। মারা গেছেন তাদের সবাই। এমন তথ্য প্রকাশ করছে ডেইলি মিরর।

ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়- যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশদ্ভূত একটি পরিবারের ১২ সদস্য নিজেদের বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্য থেকে সিরিয়ায় চলে যায়।

প্রতিবেদনেউল্লেখ করা হয়- ওই পরিবারের তিন সন্তান সিরিয়ায় যুদ্ধরত অবস্থায়, তিন শিশু বিমান হামলায় নিহত হয়। পরিবারের প্রধান, বাবা মুহাম্মদ মান্নান ডায়াবেটিস এবং মা মিনারা খাতুন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সিরিয়াতেই মারা যান।

পরিবারটির ওই ১২ সদস্যকে চার বছরে বাংলাদেশের কোথাও দেখা যায়নি। তাদের আত্মীয়দের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারটিকে সিরিয়াতে প্রবেশ করার সময় তুরস্কে থামানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। তখন আত্মীয়রা দাবি করেন, পরিবারটি ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।

মান্নানের আরেক ছেলে সেলিম বলেন, তারা সবাই মারা গেছে। তাদের সাথে আসলে কী হয়েছিলো তা জানতে আমরা চেষ্টা করেছি। শুধু এতটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছি যে, তারা সবাই মারা গেছে।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশদ্ভূত ওই পরিবারের সদস্যরা হলেন- মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান (৭৫), তার স্ত্রী মিনারা খাতুন (৫৩), তাদের কন্যা রাজিয়া খানম (২১), ছেলে মুহাম্মদ জায়েদ হুসাইন (২৫), মুহাম্মদ তৌফিক হুসাইন (১৯), মুহাম্মদ আবিল কাশেম শাকের (৩১), কাশেমের স্ত্রী শায়েদা খানম (২৭), পরিবারের আরেকজন সদস্য মুহাম্মদ সালেহ (২৬), তার স্ত্রী রওশনারা বেগম (২৪) এবং আরও তিন শিশু। এরা সবাই আইএসে যোগ দিয়েছিল।

ডেইলি মিরর জানায়, সিরিয়ায় পৌঁছানোর দুই মাসের মধ্যে তারা আইএসকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দেয়।বিবৃতিতে তারা শরিয়াহ মোতোবেক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আইএসকে সমর্থন জানাতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে।

মান্নানের আগের স্ত্রীর ঘরের দুই সন্তানও যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তারাও ওই ঘটনার পর পুলিশের কাছে পরিবারটি নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করেন।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাওয়ে এই পরিবারটির আদি নিবাস। ২০১৫ সালের ১০ এপ্রিল পরিবারের ১২ সদস্যকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন গ্রামের বাড়িতে। একমাস পর ১১ মে তুরস্ক হয়ে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তুরস্ক থেকে তারা কথিত জিহাদের জন্য চলে যায় সিরিয়ায়।

ওদিকে তারা বাংলাদেশ থেকে বের হয়ে যখন ব্রিটেনে ফিরছিলো না, তখনই উদ্বিগ্ন আত্মীয়-স্বজনরা তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশে রিপোর্ট করে।

সিরিয়া পৌঁছানোর দুই মাস পরে পরিবারটি এক বার্তায় ঘোষণা করে যে তারা ইসলামিক স্টেটের সমর্থন জানিয়ে ওই দেশে অবস্থান করছে। বার্তাটিতে বলা হয়- ‘আমরা এখন সুখি, এমন একটি দেশে আমরা এখন বাস করছি যেখানে কোনও দুর্নীতি নেই, মনুষ্য সৃষ্ট আইনের নিষ্পেষণ নেই, শরিয়া আইনেই যার শাসন চলছে।’

বার্তাটিতে আরও বলা হয়, ‘হ্যাঁ, আমাদের ১২ জনের পরিবারের সবাই এসেছি, আর এই সংখ্যাটি শুনে কেনো আপনারা আহত হচ্ছেন, যখন বিশ্বের বিভিন্ন অংশ থেকে হাজার হাজার মুসলিম প্রতিদিন দীর্ঘ পথ, সমুদ্র পাড়ি দিয়ে চলে আসছে এই ইসলামিক স্টেটে’।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ