সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

আমরণ অনশন : লতিফ সিদ্দিকী হাসপাতালে

আমরণ অনশন : লতিফ সিদ্দিকী হাসপাতালে

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক : আমরণ অনশনে থাকা টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ায় টানা চার দিন অবস্থান ধর্মঘটে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট করছিলেন তিনি।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান জানান, ধর্মঘটের চতুর্থ দিন মঙ্গলবার সকালে লতিফ সিদ্দিকীর চিকিৎসাসেবায় ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

ওই দিন মেডিকেল টিম তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। তিনি শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন। অবস্থার অবনতি হলে আজ সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মোফাজ্জল হোসেন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুজাউদ্দিন তালুকদার ও রাশেদুল হাসান মঙ্গলবার দুপুরে লতিফ সিদ্দিকীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, লতিফ সিদ্দিকীর হৃদস্পন্দন কমে গেছে, রক্তচাপ বেড়েছে। তিনি আগে থেকেই ‘হৃদরোগে’ আক্রান্ত। তার হার্টে দুটি রিং পরানো আছে। ওষুধ বন্ধ রাখায় তিনি ঝুঁকির মধ্যে আছেন। চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে গতকাল ছিল লতিফ সিদ্দিকীর ৮২তম জন্মদিন। জন্মদিনেও ধর্মঘটে অনঢ় ছিলেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ। ৮২তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে এসে স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী তাকে ওষুধ সেবনের অনুরোধ জানান। তবে লতিফ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, বিচার পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার মৃত্যু হলেও তিনি অনশন ভাঙবেন না।

প্রসঙ্গত গত রোববার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সড়াতৈল এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও চারটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তিনি কালিহাতী থানার ওসির প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবি জানান।

প্রবীণ এ রাজনীতিক রোববার দুপুর থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে তার গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন। লতিফ সিদ্দিকী হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং কালিহাতী থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন। তার সমর্থকরা জানান, এ কর্মসূচি শুরু করার পর থেকে তিনি খাদ্য গ্রহণ করেননি। মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টির সময় লতিফ সিদ্দিকীসহ চৌকিটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বারান্দায় তোলা হয়। দুপুরের পর ওই কার্যালয়ের সামনে একটি টিনশেডের নিচে নেয়া হয় লতিফ সিদ্দিকীকে।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, এর পর ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক এ মন্ত্রী নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও কথা বলেন। এ কারণে মন্ত্রিত্ব হারান, আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ