বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

আরিফের কাজে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আরিফের কাজে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনপ্রতিনিধিরা যে দলেরই হোন, জনগণ যাকে নির্বাচিত করেছে তার সম্মান রাখবে সরকার। তাকে কাজ করার সুযোগ দিতে সব ধরণের সহায়তা করবে সরকার।

বুধবার সকালে গণভবনে সিলেট সিটি মেয়রে আরিফুল হক চৌধুরী ও রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য প্রশংসিত হন বিএনপি নেতা আরিফুল হক। পুরো মেয়াদকালে স্থানীয় সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের স্নেহধন্য হওয়া এবং সরকারের তরফ থেকেও আরিফের উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টি সর্বশেষ নির্বাচনেও আলোচিত হয়।

এবার দেশের বিভিন্ন সিটি আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিপরীতে সিলেটে পুণরায় বিজয়ী হন আরিফুল হক। আগের মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণেই এবার জয়গনের রায় তাঁর পক্ষে যায় বলে মনে করেন অনেকে। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে আরিফ নির্বাচিত হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠে- এবার সরকার থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা মিলবে তো?

তবে শপথ গ্রহণের দিনই এমন সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। আরিফের নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেছেন, জনপ্রতিনিধিরা যা দলেরই হোক তাঁর কাজে সহযোগিতা করবে সরকার।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন, কেউ অনিয়ম দুর্নীতি করলে, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসে জড়িত থাকলে তাকেও রেহাই দেওয়া হবে না।

আরিফের বিজয়কে গণতন্ত্রের বিজয় উল্লেখ করে এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে আলীগ মনোনীত প্রার্থী জিতেছে, সিলেটে বিএনপির মনোনীত আরিফ সাহেব জিতেছেন। এটা প্রমাণ করে মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনো সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। একটা দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে নিজস্ব পছন্দের প্রার্থী, সরকারি এবং বিরোধী দলীয় সদস্যকে অবাধে ভোট দিতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক এলাকার মানুষ অবাধে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।’

প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়রকে শপথবাক্য পাঠ করানোর পর এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুই সিটিরে কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং রাজশাহী এবং সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং ৪০ জন কাউন্সিলর এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং ৩৬ জন কাউন্সিলর এ বছর ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল বলেই এই উন্নয়ন সম্ভবপর হয়েছে।
জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের লড়াই-সংগ্রামের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাঁরা তাদের ইচ্ছেমত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাচ্ছে।

একটি দেশের উন্নয়নে দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছর দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় ছিল বলেই বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধিত করেছে।

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে দিন বদলের অঙ্গীকার নিয়েই তাঁর সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে। আজ আপনারা সেই দিন বদল নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন, জনগণ ক্ষুধা থেকে মুক্তি পেয়েছে।
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং এই উন্নয়নের ধারাকে টেকসই রূপ দিতে তাঁর সরকার ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান-২১০০’ নামে আগামী একশ’ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলেটে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি কখনই কোন রাজনৈতিক ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের বাজেট বরাদ্দ করি না।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শুধু নিজেদের সম্পদ গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করলেই চলবে না জনগণ কিভাবে সম্পদশালী হতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রেখেই কাজ করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ