সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৩২ অপরাহ্ন

ইউরোপের নতুন চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল

ইউরোপের নতুন চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক :প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে রূপকথা তৈরি করতে পারলো না টটেনহাম হটস্পার। গত ৫ বছরে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দাপট ভেঙে ইউরোপের নতুন চ্যাম্পিয়ন হলো লিভারপুল। টানা দ্বিতীয় ফাইনালে উঠে তারা ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের ‍মুকুট মাথায় দিলো টটেনহাম হটস্পারকে ২-০ গোলে হারিয়ে। ২০০৫ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের চ্যাম্পিয়ন হলো তারা।

মাত্র ২২ সেকেন্ডে বড় ধাক্কা খায় টটেনহাম। বক্সের মধ্যে সাদিও মানের বুদ্ধিদ্বীপ্ত শট মুসা সিসোকোর হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় লিভারপুল। গত ফাইনালে মাত্র ৩১ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া মোহাম্মদ সালাহ নেন পেনাল্টি কিকের দায়িত্ব। ঠাণ্ডা মাথায় বাঁ পায়ের শট নেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড। বল ঠেকাতে ঠিকভাবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েছিলেন উগো লরি। কিন্তু তার শরীরের উপর দিয়ে বল জালে জড়ায়।

২ মিনিটের এই লক্ষ্যভেদী শটে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল করেন সালাহ। ২০০৫ সালের ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষেই এসি মিলানের হয়ে ৫০ সেকেন্ডে গোল করেন পাওলো মালদিনি।

প্রথমার্ধে এই এক গোলেই এগিয়ে ছিল লিভারপুল। দুই দল এই সময়ে পরিষ্কার কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে গোলমুখের সামনে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল রেডরা। ১৭ মিনিটে ডানদিকে বক্সের বাইরে থেকে আলেক্সান্দার আর্নল্ডের শক্তিশালী শট দূরের পোস্টের পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। লরি লিভারপুলের ব্যবধান দ্বিগুণ হতে দেননি ৩৮ মিনিটে অ্যান্ডি রবার্টসনের দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে।

চোট কাটিয়ে হ্যারি কেইন ফিরলেও টটেনহামকে এগিয়ে দেওয়ার মতো কোনও ভূমিকা রাখতে পারেননি প্রথম ৪৫ মিনিটে। ডেলে আলী ও ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনও তাদের নামের সুবিচার করতে পারেননি। সন হিউং মিন কয়েকবার গোলমুখে শট নিলেও বিরতিতে যাওয়ার আগে কোনও ধরনের পরীক্ষা দিতে হয়নি লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসনকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটে কর্নার থেকে ট্রিপিয়েরের শটে ভারটনঘেনের হেড গোলবারের উপর দিয়ে যায়। ৭০ ও ৭৩ মিনিটে ট্রিপিয়ের ও ডেলের উঁচু দুর্বল শট সহজে হাতে নেন লিভারপুল গোলরক্ষক। ৭৮ মিনিটে ট্রিপিয়েরের ক্রস থেকে ডেলের হেড গোলবারের উপর দিয়ে যায়।

বিরতির পর লিভারপুল সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে ৬৭ মিনিটে। মানে এক দৌড়ে স্পারদের রক্ষণ চিড়ে বল দেন সালাহকে। এই ফরোয়ার্ড সুযোগ বুঝে পাস দেন জেমস মিলনারকে, কিন্তু তার বাঁ পায়ের গড়ানো শট গোলপোস্টের কয়েক ইঞ্চি পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।

৭৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে সনের দুর্দান্ত শট ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন আলিসন। ফিরে আসা বল পায়ে পেয়ে রোজ পাস দেন লুকাস মোরাকে। কিন্তু আলিসন দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন সেমিফাইনাল জয়ের নায়ককে। ৮৪ মিনিটে আবারও স্পারদের হতাশ করেন লিভারপুল গোলরক্ষক। বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে এরিকসেনের ভাসিয়ে দেওয়া ফ্রি কিক মাঠের বাইরে পাঠান আলিসন। পরের মিনিটে সনের শট গোলবারের উপর দিয়ে যায়।

শেষ দিকে টটেনহামের মুহুর্মুহু আক্রমণে তটস্থ লিভারপুল স্বস্তিতে ফেরে ৮৭ মিনিটে ওরিগির গোলে। এই গোলেই সুনিশ্চিত হয়ে যায় তাদের জয়।

এতে করে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি হাতে নিলেন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। ২০১৩ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও গত বছর এই লিভারপুলকে ফাইনালে তুলেও রানার্স আপ হতে হয় তাকে।

আগামী ১৪ আগস্ট তুরস্কের ইস্তানবুলের ভোদাফোন পার্কে প্রথমবার অল-ইংলিশ উয়েফা সুপার কাপে মুখোমুখি হবে লিভারপুল ও চেলসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ