সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:২৩ অপরাহ্ন

উপজেলা নির্বাচন: প্রশাসন বেইমানী করলে কোম্পানীগঞ্জে ‘কারবালা’ হবে

উপজেলা নির্বাচন: প্রশাসন বেইমানী করলে কোম্পানীগঞ্জে ‘কারবালা’ হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক : জমে উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী শামীম আহমদ।

সিলেটে নৌকা প্রতীক না পেয়ে নৌকা ঠেকাতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন শামীম আহমদ। দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জে নানা অপকর্মের কারণে বিতর্কিত তিনি। নিজে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি, বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এবার চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চেয়েছিলেন শামীম নিজেই। কিন্তু বিধি বাম। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ ধ্বংস এবং সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগ এনে পরিবেশ অধিদফতরে অভিযোগপত্র এবং তার অতীত কর্মকা-ের সব রকমের তথ্য দিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর তিনি মনোনয়ন পাননি আওয়ামী লীগের। তাতে কি? দলের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

শুধু শামীম নিজে নন, প্রার্থী করেছিলেন তার বাবা বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল বাছির ও শামীমের স্ত্রী জরিনা বেগমকেও। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতে এ যেন নৌকা ঠেকানো কর্মসূচি। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলী আমজাদ জানান, এমন ঘটনা তিনি আগে কখনো শোনেননি। তবে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে এরা আওয়ামী লীগের কেউ না, সুসময়ের কাঁক। ১০ বছর আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা বানিয়েছে।

এখন নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, তাতে লাভ নেই। উপজেলা আওয়ামী লীগ এক হয়ে কাজ করছি, নৌকার বিজয় হবেই। ৫ম উপজেলা নির্বাচনের ২য় ধাপে সিলেটের ১২ উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন।

শেষ দিনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বিতর্কিত শামীম আহমদ, তার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল বাছির, শামীমের স্ত্রী জরিনা বেগমসহ আরও তিনজন।

কে এই শামীম : এক সময় কিছুই ছিল না তার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলে ভিড়ে যান তিনি। দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম চালান ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি ও শাহ আরেফিন টিলা এলাকায়। তৈরি করেন নিজের বাহিনী। অবৈধভাবে বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর তোলে ধ্বংস করেন ধলাই নদী আর প্রাচীন শাহ আরেফিন টিলা। এসব কর্মকা-ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেই শুরু হতো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, না হয় হত্যা।

তার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা আবদুল আলী হত্যা মামলা চলছে। ২০১৭ সালে শাহ আরেফিন টিলায় শ্রমিকদের দিয়ে অবৈধভাবে পাথর তোলার সময় এক দিনেই ৫ শ্রমিক নিহত হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি শামীমকে অবৈধ পাথর উত্তোলনসহ নানা অপরাধের গডফাদার চিহ্নিত করে ৪৭ পাথর খেকোর তালিকা তৈরি করে। ওই বছরের ৬ নভেম্বর শামীম ও তার ভাই বিলালসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করে পরিবেশ অধিদফতর।

যে মামলায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। এসব অপরাধের পরও তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। তার এসব অপকর্মের জন্যই মনোনয়ন পাননি। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একই পরিবারের তিন প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে শামীম আহমদ বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তৎপর।

তারা আমাদের মনোনয়ন বাতিলের চক্রান্তে লিপ্ত। তাই তিন প্রার্থী দিয়েছি। কারণ এলাকাবাসী আমাদের পরিবার থেকে যে কোনো একজনকে প্রার্থী চায়। আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতীক বা দলের বিরোধিতা নয় দাবি করে তিনি বলেন, আমার মতো দলের অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন। এলাকার ভোটাররা সবাই আমাদের পক্ষে। দলের প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান গড়লেন এখন দলের বিরুদ্ধে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি দলের নাম ভাঙিয়ে কিছুই করিনি।

এবিষয়ে আলাপকালে শামীম আহমদের  ভাই জেলা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান, স্থানীয় প্রশাসন আমাদের পক্ষে কাজ করছে। শামীমকে বিজয়ী করতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। যদি প্রশাসন বেইমানী করে তা হলে কোম্পানীগঞ্জে ‘কারবালা’ হবে ‘কারবালা’।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাথরখেকো শামীমরা কালো টাকার মালিক হলেও কোম্পানীগঞ্জবাসী অতিথে তাদের সকল অপকর্মর প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিরোধ করেছে। তাদের সকল কুৎচক্রান্ত কোম্পানীগঞ্জবাসী প্রতিহত করবে। আমার বিশ্বাস তাদের কালো টাকার কাছে প্রশাসন বিক্রি না হয়ে নিরপেক্ষ দায়িত্বপালন করবে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম পিপিএম জানান, কোম্পানীগঞ্জে উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্বপালন করবে। কে যদি মনে করেন রাম রাজত্ব কায়েম করবে তা হতে দেওয়া হবে না।

সূত্র : dreamsylhet.com

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ