বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

উৎসবের আমেজে ভোটগ্রহণ চলছে

উৎসবের আমেজে ভোটগ্রহণ চলছে

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক: উৎসবের আমেজে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। ঘড়ির কাঁটা ৮ টার ঘরে আসতেই শুরু হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব। এই ভোট গ্রহণ চলবে কোনো রকম বিরতি ছাড়াই আজ রোববার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

শীতের সকালে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করেই ভোট দিতে এখন কেন্দ্রমুখি ভোটাররা। সকালে ভোটারদের সংখ্যা কম হলেও বেলা গড়ার সাথে সাথে তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের পর এটাই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই এ নির্বাচন তাদের জন্যও এক অগ্নি-পরীক্ষা।

দীর্ঘ ১০ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুখোমুখি দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি। এই ভোটযুদ্ধ নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে ভোট যুদ্ধ কেমন হবে বা হয়েছে তা দুপুর ১২টার পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে। নির্বাচন নিয়ে সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একের পর এক অভিযোগ তুললেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

ভোট হবে ২৯৯ সংসদীয় আসনে : দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি আসনের প্রার্থী মারা যাওয়ায় ২৯৯ আসনে ভোট হবে আজ। মৃত্যুজনিত কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোটগ্রহণ পিছিয়ে আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার সারা দেশে ভোটে লড়ছেন ১ হাজার ৮৬১জন প্রার্থী। তার মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৩৩জন। স্বতন্ত্র হয়ে লড়ছেন ১২৮জন। আর তাদের নির্বাচিত করবেন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভোটার।

দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা : নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। যে কোনো অরাজকতা বা নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সেনা সদস্যরা সার্বক্ষণিক সর্তক অবস্থানে রয়েছেন। সারা দেশে তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা রয়েছে। মোতায়েন রয়েছেন প্রায় ৭ লাখের বেশি আইন-শৃঙখলা বাহিনীর সদস্য। তার মধ্যে ভোটকেন্দ্র পাহারায় নিয়োজিত আছেন ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য। পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পালন করছে গ্রাম পুলিশ। বাড়তি নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছেন সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরাও।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মধ্যে পুলিশ সদস্য প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার, আনসার ৪ লাখ ৪৬ হাজার এবং গ্রাম পুলিশ ৪১ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাবাহিনী (প্রতি প্লাটুনে ৩০জন) ৩৮৯টি উপজেলায় ৪১৪ প্লাটুন, নৌবাহিনী ১৮টি উপজেলায় ৪৮ প্লাটুন, কোস্টগার্ড (প্রতি প্লাটুনে ৩০জন) ১২টি উপজেলায় ৪২ প্লাটুন, বিজিবি (প্রতি প্লাটুনে ৩০জন) ৯৮৩ প্লাটুন, র‌্যাব (প্রতি প্লাটুনে ৩০জন) প্রায় ৬০০ প্লাটুন ভোটের মাঠে নিয়োজিত আছে। ভ্রামমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা (র‌্যাবসহ) প্রায় ২ হাজার প্লাটুন (প্রায় ৬৫ হাজার)। সারাদেশে জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন থানা পুলিশও নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছেন।

ইভিএমে ভোট ৬ টি আসনে : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দেশের ছয়টি সংসদীয় আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। আসনগুলো হচ্ছে- ঢাকা-৬ ও ১৩, রংপুর-৩, খুলনা-২, সাতক্ষীরা-২ ও চট্টগ্রাম-৯ । এ সব আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৪৮ জন। ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৪। ভোট কেন্দ্র ৮৪৫ ও ভোটকক্ষ ৫ হাজার ৪৫টি। ঢাকা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮। এ আসনে ৯৮টি ভোট কেন্দ্র ও ৬৩৮টি ভোটকক্ষ রয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনে প্রার্থী ১০ জন। ভোট কেন্দ্র ১৩৪ এবং ভোটকক্ষ ৮৭০টি। রংপুর-৩ আসনে প্রার্থী ৯ জন। ভোট কেন্দ্র ১৭৫ ও ভোটকক্ষ ১ হাজার ২৩টি। খুলনা-২ আসনে প্রার্থী ৭ জন। এতে ১৫৭টি ভোট কেন্দ্র ও ৭২০টি ভোটকক্ষ রয়েছে। সাতক্ষীরা-২ আসনে প্রার্থী সংখ্যা ৬। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭ এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮৭৪। চট্টগ্রাম-৯ আসনে প্রার্থী সংখ্যা ৮। এ আসনে ভোট কেন্দ্র ১৪০টি ও ভোটকক্ষ ৯২০টি।

আজ ছুটি : ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আজ রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রতীক্ষার অবসান : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠনের পর থেকে আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন এ দেশের জনগণ। শেষবার নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ বেশির ভাগ দল অংশ নেয়নি। কিন্তু এবার সব রাজনৈতিক দল ও জোট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ কারণে এবারের নির্বাচন আগের বার নির্বাচনের চেয়ে অনেক বেশি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি অনিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দল প্রধান দুই জোটে শরিকদল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যাদের কোনো দল নেই তারা স্বতন্ত্রভাবে লড়ছেন।

মূল লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষের : ভোটের আগে টানা ১৮ দিন প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পান বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। ঢাকাসহ সারা দেশে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে ছিল আওয়ামী লীগের নৌকা। তবে প্রচার-প্রচারণার সময় আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে বিএনপির অভিযোগ ছিল বেশি। প্রচারণায় পিছিয়ে ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোন নেতা কোন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তা জানার সুযোগ পাননি ভোটাররা। তবে নৌকা-ধানের শীষের প্রতীক থাকার কারণে কেন্দ্র গিয়েই তাদের পছন্দের প্রতীক বা প্রার্থীকে চিনে নিতে বেগ পেতে হবে না। নির্বাচনে অন্যান্য দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষের।

ভোটের দায়িত্বে ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনি কর্মকর্তা : ১ হাজার ৩২৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য ৬৫২জন, অবশিষ্ট ৬৭৬জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে নিয়োজিত রয়েছেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬৪০জন, ১২২টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে ২৪৪জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪০ হাজার ১৮৩জন, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৬২৪জন।

এক নজরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ : নির্বাচন কমিশন সচিব (ইসি সচিব) হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, এবার ভোটে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ৬৬ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে দুইজন বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জন জেলা প্রশাসক। ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২টি ভোটকক্ষে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২জন। প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ