সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

একাকিত্বের গল্প, শেষ পর্ব

একাকিত্বের গল্প, শেষ পর্ব

নিউজটি শেয়ার করুন

একাকিত্বের গল্প:মানুষের জীবনটা খুব ছোট,এই একজীবনে মানুষ কতকিছুই অর্জন করে আবার অনেক কিছুই হারিয়েও ফেলে,তারপরেও জীবন কিন্তু থেমে থাকেনা,চলতে থাকে।বেশিরভাগ সময়ই একজনের আবেগ আরেকজনের কাছে হাস্যকর হয়ে উঠে, আবার ঠিক একি অভিজ্ঞতাওয়ালা মানুষ কিন্তু এই বিষয় নিয়ে হাসে না,কারণ সে জানে একাকিত্ব ব্যাপারটা কষ্টের।প্রচলিত কথা অনুযায়ী মানুষ একা থাকতে পারেনা,সঙ্গীর দরকার হয়।কিন্তু আমাদের জন্মের সময়ও আমরা একা এসেছি, মৃত্যুর সময়ও একাই মরতে হবে।কত বিচিত্র অথচ কত সত্য যে,হাজার মানুেষর ভীড়ে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষই শুধু মৃত্যুযন্ত্রণা বুজতে পারে, আশপাশের কেউ কিন্তু বুজতে পারেনা।একাকিত্বে পড়ে যাওয়া মানুষ তার আশপাশের মানুষকে একি কথা বলতে বলতে বিরক্ত করে ফেলে,কিন্তু একসময় এই মানুষটাই চুপ মেড়ে দেয়।অনেক বছরের গড়ে তুলা সম্পর্ক এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলে প্রথম দিকে বিষয়টা বিশাল মনে হলেও,আস্তে আস্তে গাঁ সওয়া হয়ে যায়।
কোথায় যেন শুনেছিলাম, এক মহিলা অনেক বছর সংসার করার পর যখন তার স্বামীর মৃত্যু হয় এবং তাকে যখন স্বামীর লাশের সাথে রাতে থাকতে বলা হয়,শুনে ভয়েই তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন।অন্য মানুষের কথা কেন বলছি?নিজের কথাই বলি,বাবাকে আমি প্রচন্ড ভালবাসতাম, মৃত্যুর ২ দিন পরই গভীররাতে যখন বাবাকে স্বপ্ন দেখলাম, ভয়ে আঁতকে উঠেছিলাম।অদ্ভুত শোনালেও কিন্তু এই কথাটি বেশির ভাগ মানুষের বেলাই সত্য।জীবিত আর মৃত এই দুই জগতের মানুষের কোন স্বাভাবিক যোগাযোগ না থাকায়, ভালবাসার সাথে আরেকটা জিনিষের জন্ম নেয় আর তার নাম হচ্ছে ভয়।
মানুষের মৌলিক চাহিদার যখনই স্বাভাবিকভাবে পূরন হয়ে যায়,তখনই তার মধ্যে প্রেম সম্পর্কে চিন্তা করায় সময় হয়।
দুই চাকার সাইকেল চড়তে চড়তে হঠাৎ যদি একটা চাকা খুলে নেওয়া হয় বা নষ্ট হয়ে যায়,খুব স্বাভাবিক যে, একচাকার সাইকেলে ভারসাম্য রক্ষার চিন্তা করা বা নতুন চাকা লাগানো সময়সাপেক্ষ বা কষ্টসাধ্য বিষয়।
মায়া জিনিষটা কি?এটা কি সবার জন্য হয়।উত্তর হচ্ছে,’না’।হয়না।হলে সবার জন্য আমাদের আলাদা আলাদা অনুভূতি হত না।কিছুদিন আগে রিক্সা থেকে নেমে,এক দোকানীর কাছে সিগারেট চাইতেই,দোকানী জিজ্ঞেস করল,”ভাই,আপনাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে।আমি:ছোট শহর, হয়তো দেখেছেন, কোথাও।দোকানী :হ্যা,ভাই,মনে পড়েছে,আপনি ঐ বাসার এক আপুকে প্রায়ই রিক্সায় করে নামিয়ে দিয়ে যেতেন,সম্ভবত এটা উনার খালার বাসা,আপা কেমন আছেন,ভাই?আমি:জানিনা,বলতে পারবো না।মনে হয় ভালো আছেন।দোকানী একটু বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকাল।আমি:ভাই,উনার সাথে আমার এখন আর যোগাযোগ নেই।উনি অন্য একজনকে ভালবাসেন,এখন উনার সাথেই আছেন।দোকানী হা করে তাকিয়ে রইলো, আমার অস্বস্তি হচ্ছিল খুব,তাড়াতাড়ি করে চলে আসতে চাচ্ছিলাম,তিনি আমাকে একটা কথা বলার জন্য থামালেন,”ভাই,আমি জানিনা, আপা কি করে এই কাজ করতে পারল কিন্তু একটা কথা বলছি,মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনার নাম শুনলে উনার বুক কাপবে।আমি:হয়তো।
আমি আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে আসলাম।পিছনে বিস্মিত মানুষটা যে দাঁড়িয়ে রয়েছে,তা বেশ বুজতে পারছিলাম।
সাথে সাথে অনেকদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল।পাড়ার এক বন্ধু(নাম বলছিনা)কিডনিতে সমস্যা হয়েছিল।ও খুব ভালো ক্রিকেট খেলতো। আমরা একসাথে অনেক ক্রিকেট খেলেছি।ওকে বাঁচাতে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন অনেক অনুষ্ঠান করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল,তাও তা পর্যাপ্ত ছিলনা।মৃত্যু মোটামোটি নিশ্চিত ছিল।লামাবাজার, আমার বাসার কাছেই ওর বাসা ছিল,প্রায়ই দেখা হয়ে যেত।ঐ দিনও দেখা হয়ে গেল।সিগারেট ধরাচ্ছিল। আমি তখনও সিগারেট খেতাম না,তাই,আমাকে কিচ্ছু বললনা,খালি জিজ্ঞেস করল,”কেমন আছিস,বন্ধু?”আমি:ভালো, তোর কি খবর? বন্ধু :জানিসই তো।অপেক্ষায় আছি মৃত্যুর।যেকোনো সময় মারা যাবো। আমি:(নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল)কি যে বলিস রে।সুস্থ হয়ে আবার খেলা শুরু কর।বন্ধু :না রে,এ যাত্রা আর পাড় পাবোনা।তোদের খুব মিস করবো রে,অচেনা অজানা একটা জগতে চলে যাবো। মনে রাখবি তো?নাকি আমাকে ভুলে যাবি?আমি :কি যে বলিসরে। (জড়িয়ে ধরলাম,দুইজনের চোখেই পানি।)বললাম কালকে আবার দেখা করবো, ইনশাআল্লাহ। বন্ধু:বেঁচে থাকলে আবার কথা হবে।কিছুক্ষন পরে আরেক বন্ধু ফোন করে জানাল যে ও মারা গেছে।কিছুই বলার ছিল না,শুধু অঝোর ধারায় কানলাম।
একাকিত্ব থাকবেই জীবনে, তাকে জয় করতে হবে,এগিয়ে যেতে হবে কারণ লড়াই করে বেঁচে থাকার নাম জীবন। আর বন্ধু,মা বাবা,ভাই বোন,পরিবার সবগুলো সম্পর্কে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে চলতে হয়,একটার জন্য আরেকটা ছাড়তে নেই।স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেয়ে একাকিত্বকে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।কারন,”মানুষ মরে গেলে পঁচে যায়।বেঁচে থাকলে বদলায়।কারণে অকারণে বদলায়”।নিজেকে বদলে নিন,ভালো থাকুন।

লেখক:তালুকদার তুহিন প্রভাষক:বিশ্বনাথ কলেজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ