সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫২ অপরাহ্ন

এফ আর টাওয়ার নির্মাণে অনিয়মের অনুসন্ধান হবে: দুদক

এফ আর টাওয়ার নির্মাণে অনিয়মের অনুসন্ধান হবে: দুদক

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, বনানীর এফ আর টাওয়ার নির্মাণে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হবে। তারা আদালত থেকে ছাড়া পেলেও দুদক তাদের ছাড়বে রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার অডিটোরিয়ামে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদকের শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী, দুদক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান ও সততা সংঘের সমাবেশ উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, কেন যেন মনে হয় অনিয়মকে সবাই নিয়মে পরিণত করছে। বনানীর এই বিয়োগান্ত ঘটনা এসব অনিয়মের পরিণতি। এ জাতীয় অনিয়মকে দুর্নীতি হিসেবে অবহিত করে তিনি বলেন, সময়মতো কাজ করবেন না, এটাও দুর্নীতি।

ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেক আগেই কাজ শুরু হয়েছে, এবার এসব অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ শুরু হবে। ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন পেলেন, বানালেন ২৩ তলা। এই অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ক্ষমা হবে না। এভাবে জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আর সহ্য করা ঠিক হবে না।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ২০১৯ সাল হবে দুদকের কাজের বছর । দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজে গতি ফিরিয়ে আনার বছর। যেসব দুর্নীতিবাজরা লুটপাট করেছে, লুটপাটের অংশীদার হয়েছেন বা সরকারি সম্পত্তি গ্রাস করেছেন তারা সাবধান হয়ে যান। যারা গণপূর্ত, সড়ক ও জনপথ ,বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি দখল করেছেন কিংবা বন বিভাগের সম্পত্তি দখল করে যারা রেস্ট হাউজ বানিয়েছেন তারা সরকারের সম্পত্তি সরকারের কাছে সমর্পণ করুন। নইলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। যারা অনিয়মের মাধ্যমে জনগণের অর্থ নিয়েছেন অথবা যারা অর্থ দিয়েছেন এইসব অর্থ লোপাটকারীরাও আইনের আওতায় আসবে। তাই যারা অবৈধভাবে অর্থ নিয়েছেন অথবা অর্থ দিয়েছেন দয়া করে জনগণের অর্থ বিধিমত জনপ্রতিষ্ঠানের জনগণের কাছে জমা দিন। কারণ এসব জনগণের সম্পদ। যারা জনগণের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তাও ফেরত দিতে হবে। না হলে আমরা তা ফেরত আনার ব্যবস্থা করব।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এখন দুর্নীতির মাত্রা কমছে কি না, প্রশ্ন আছে। আশা করি কমছে। তবে রাজনীতি বা অর্থবিত্তের কাছে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান যাতে চাপা না পড়ে, সে বিষয়ে নজর দিতে দুদকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার ক্ষেত্রে সবাই জিপিএ-ফাইভের দিকে ছুটছে। কিন্তু শুধু জিপিএ-ফাইভের মাধ্যমে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অর্জন করা যাবে না। দুদক শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। সে জন্য শিক্ষা আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে দুদককে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, এ কথা স্বীকার করতেই হবে, দুদক যদি কোচিংবাজ শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন না করত, তাহলে হয়তো কোচিং-বিরোধী নীতিমালা আইনি বৈধতা পেত না। অনেকেই বলেন ব্যাংক লুটপাট নিয়ে দুদক কাজ করুক। আমি বলবো এ কাজ দুদক করবে। আগামী দিনে যারা ব্যাংক চালাবে তাদের নিয়ে যে কাজ করছে এটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

রাশেদা কে চৌধুরী নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি সিলেটের একজন মেয়ে শিক্ষার্থী জানিয়েছিল, তার বাবা তাকে ঈদ উপলক্ষে ১৫ হাজার টাকার লেহেঙ্গা তাকে উপহার দেয়। সে তার বাবার বেতনাদি সম্পর্কেও জানতো। সেই মেয়েই প্রকাশ্যে তার বাবাকে বলেছিল এটা কি দুর্নীতি না? পরবর্তীতে কোরবানির ঈদে ওই মেয়েটি তার বাবার দামি উপহার গ্রহণ করেনি। সে তার বাবাকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দুদক কাজ করছে। তবে এ কথাও ঠিক কমিশনের একার পক্ষে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

কেন সম্ভব নয় প্রশ্ন করে তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সমাজের সকল স্তরে মূল্যবোধ বিকশিত করার জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।

তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কমিশনের ত্রুটি –বিচ্যূতি নিয়ে লিখবেন। গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা সর্বদাই স্বাগত জানাই।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, দুদক মিডিয়া জুরি বোর্ডের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বিতার্কিক আলিফ আল জামাল , সততা সংঘের সদস্য সঞ্চিতা রহমান মিম, নেত্রকোনা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ খান, সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দীন নাঈম প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান ও এএফএম আমিনুল ইসলাম।

এবারের দুদক মিডিয়া আ্যওয়ার্ড বিজয়ীরা হলেন- ইলেকট্রনিক ক্যাটাগরিতে মাছরাঙা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বদরুদ্দোজা বাবু, ৭১ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার পারভেজ নাদির রেজা এবং প্রিন্ট ক্যাটাগরিতে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম হারুন ও দৈনিক সমকালের হকিকত জাহান হকি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ