রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:২০ অপরাহ্ন

এবার কিছুটা ভিন্নভাবেই হচ্ছে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা!

এবার কিছুটা ভিন্নভাবেই হচ্ছে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা!

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসা চলছে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। পাশের ৬২২ নম্বর কেবিনে রয়েছেন কারারক্ষীসহ তার সেবায় নিয়োজিত লোকজন।

এই দু’টো কেবিন ভিআইপি কেবিন ছিল না, কিন্তু খালেদা জিয়া আসবেন বলে এগুলোকে ভিআইপি কেবিনে রূপান্তর করা হয়েছে। তাছাড়া গঠিত ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করতে রয়েছে তার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুন এবং ডা. শামীম। আদালতের নির্দেশনা থাকলেও যা এর আগে দেখা যায়নি।

কেবিনের তথ্যগুলো জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের ৬ তলায় দায়িত্বরত এক চিকিৎসক। তিনি জানান, এর আগে যখন তাকে আনা হয়েছিল তখন তার জন্য ৬১১ ও ৬১২ নম্বর কেবিন বরাদ্দ ছিল। এই কেবিন দু’টি ভিআইপি কেবিন এবং সব ধরনের আধুনিক সুবিধা ছিল। কিন্তু এটি ৬ তলার একেবারে সামনের দিকের একটি রুম। এখানে ওনাকে রাখলে নিরাপত্তা রক্ষার্থে কেবিনের অন্যান্য রোগীদের সমস্যা হয় এবং সামনের এই অংশটা একেবারে আটকে যায়। তাই একপাশে ৬২১ ও ৬২২ নম্বর কেবিন দু’টোকে শুধুমাত্র ওনার (খালেদা জিয়া) জন্য ভিআইপি কেবিনে রূপান্তর করা হয়েছে। ভিআইপি কেবিনের আলাদা গেস্ট রুম ছাড়া বাকি সব সুবিধাই সেখানে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিআইপি কেবিনের কক্ষটি প্রথমত দুইভাগে বিভক্ত থাকে। রোগী এক রুমে এবং আরেকটি রুম গেস্ট রুম হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে সোফা থাকে। রোগীর রুমে ভালোমানের খাটসহ টিভি, ফ্রিজ, ফ্লোরে কার্পেট ও অন্যান্য সুবিধা থাকে। ৬১১ ও ৬১২ নম্বর কেবিন তেমনই ছিল। ওই চিকিৎসকের মতে, ৬২১ ও ৬২২ নম্বর কেবিন যেহেতু ভিআইপি কেবিন ছিল না তাই সেখানে আলাদা গেস্ট রুম ছাড়া বাকি সব সুযোগ সুবিধা হুবহু ভিআইপি কেবিনের মতোই রয়েছে।

এছাড়া রোববার (০১ এপ্রিল) খালেদা জিয়া আসার আগেই সকালে তার প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র পুলিশের একটি ট্রাকে করে হাসপাতালে এসে পৌঁছে। একটি খাট, দু’টি স্যুটকেস, চেয়ার, প্লাস্টিকের ওয়ারড্রোব, ছোট একটি ফ্রিজ, কয়েকটি লাগেজসহ আরো বেশকিছু মালপত্র ট্রাক থেকে নামানো হয়।

এদিকে চিকিৎসার ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা এ কে মাহবুবুল হক জানান, ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করবেন ডা. মামুন এবং ডা. শামীম। যারা ওনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। গতকালই তাকে এই বোর্ডের চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা শুরু করেছেন এবং ওষুধ দিয়েছেন। আজ আবার নিয়মিত চেকআপ হবে। মাস খানেক আগেই তার মেডিকেল পরীক্ষাগুলো করানো হয়েছে, তাই এখন আর করানো হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এই মেডিকেল বোর্ড গত ২৮ মার্চ গঠন করা হয়েছে। আর কেবিন তারও আগে থেকেই প্রস্তুত করা হয়েছে। তাছাড়া আমরা চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সবসময়ই প্রস্তুত থাকি। উনি রাষ্ট্রের একজন বিশেষ ব্যাক্তি হওয়ায় আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত হয়েছি।

তাছাড়া এর আগেরবার বা গত বছরের ৭ অক্টোবর তাকে মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সাদা প্রাইভেটকারে আনা হয়েছিল। যেটা আরামদায়ক না বলে মন্তব্য করেছিলেন বিএনপির নেতারা। এবার তাকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ডিএমপি স্টিকার লাগানো কালো রঙের একটি জিপ গাড়িতে করে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে শোনা যায়নি।

এর আগে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, চেয়ারপারসন (খালেদা জিয়া) অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে আনা না হলে অবস্থা খারাপ হতো। এছাড়া আমরা তার চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের দাবি জানিয়েছি। সরকার তা মানছে না।

এদিকে হাসপাতালের পরিচালক তার বক্তব্যে বলেছেন, চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর বা এখানে আসার পর তিনি আগের তুলনায় ভালো আছেন। বিছানায় বসে কথা বলছেন চিকিৎসকদের সঙ্গে। আর বিএসএমএমইউ দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্র। এর চেয়ে ভালো আর কোথাও হতে পারে না বা ওনার চিকিৎসার জন্য আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কারো সাহায্য ছাড়া একা হাঁটতে পারছেন না খালেদা জিয়া। অন্যের উপর ভর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।

৭৪ বছর বয়সী খালেদা জিয়া অস্ট্রীয় আর্থ্রাইটিসসহ বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। বিভিন্ন মামলার শুনানিতে আদালতে হাজির করার সময় তাকে হুইল চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। গতবছর হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়ার সময়ও তাকে হুইল চেয়ারে দেখা গিয়েছিল। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী মার্চের শুরুতেও খালেদা জিয়াকে একবার বিএসএমএমইউতে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন রাজি না হওয়ায় তাকে সেখানে নেওয়া হয়নি। পরে বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএসএমএমইউ’র ওপর খালেদা জিয়ার আস্থা নেই, তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ