সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

এবার ফিক্সিং নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য আফ্রিদির

এবার ফিক্সিং নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য আফ্রিদির

ছবি: ক্রিকইনফো

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক:আফ্রিদির আত্মজীবনী ‘গেম চেঞ্জায়’ এক সপ্তাহ হলো পাকিস্তানে এবং ভারতে প্রকাশিত হয়েছে। বাজারে আসার পরই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে চলেছে বইটি। প্রথম বিস্ফোরণ নিজের বয়স নিয়ে। আফ্রিদির হিসেবে তার জন্ম ১৯৭৫ সালে। ক্রিকেট প্রোফাইলে দেওয়া আছে ১৯৮০। পরের বিস্ফোরণ ওয়াকার উইনুস এবং গৌতম গম্ভীরের কড়া সমালোচনা। এবার তার আত্মজীবনী থেকে জানা গেল, ইংল্যান্ডে ২০১০ সালের সেই স্পট ফিক্সিংয়ের কথাও জানতেন তিনি।

শ্রীলংকায় এশিয়া কাপ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-২০ বিশ্বকাপ শেষে ইংল্যান্ড সফরে যান আফ্রিদি। দলের অধিনায়ক তিনি। কিন্তু হুট করেই প্রথম টেস্টের পর নেতৃত্বসহ টেস্ট ক্রিকেট ছেড়ে দেন। নেতৃত্ব পান সালমান বাট। চতুর্থ টেস্টে পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম কলঙ্কিত স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে আফ্রিদি আত্মজীবনীতে লিখেছেন, দুর্নীতি চক্রের প্রমাণ তার হাতে এসেছিল। যারা ফিক্সিং করেছিলেন তাদের ফোনের খুদেবার্তা তার হাতে আসে। তিনি তা টিম ম্যানেজমেন্টকে দেখান। কিন্তু ম্যানেজমেন্টের ভূমিকায় তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

তিনি ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে লিখেছেন, সালমান বাট ও আমরা তখন শ্রীলংকা সফরে। সেখানে সালমান বাটের এজেন্ট ও ম্যানেজারের মাজহার মাজিদের (যিনি পরে সাজা পান) একটি খুদে বার্তা আমরা হাতে আসে। ওটা হাতে পাওয়া ছিল কাকতালীয়।

শ্রীলংকা সফরে দলের সঙ্গে যোগ দেয় মাজিদের পরিবার। সেখানে শ্রীলংকার এক সৈকতে মাজিদের ছেলে তার বাবার মুঠোফোন পানিতে ফেলে দেয়। পরে মাজিদ ইংল্যান্ডে ফেরার পথে ফোনটি নিয়ে যায় এবং দোকানে তা ঠিক করতে দেয়। সেই দোকানের মালিক আমার এক বন্ধুর বন্ধু। খুদেবার্তাগুলো দোকানের মালিক উদ্ধার করেছিল।

পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের পাঠানো মাজিদের বার্তাগুলো ফোন মেরামতকারী দেখে ফেলে। সে পরে বার্তাগুলো আমার বন্ধুসহ আরও কয়েকজনের কাছে ফাঁস করে। যেটা আমার হাতেও আসে। এই খুদেবার্তা ফাঁস হওয়াতেই সতর্ক হয়ে যায় ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর প্রতিবেদক দল।

খুদেবার্তাগুলো আমি কোচ ওয়াকার ইউনুসকে দেখাই। কিন্তু তিনি বিষয়টি বোর্ডকে জানাননি। আসলে ওয়াকারের সঙ্গে আমি তখন ওটাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করিনি। ওই বছরের টি-২০ বিশ্বকাপের সময় আবদুর রাজ্জাক আমাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিল, ‘সালমান, আমির ও আসিফ ভালো কিছু করছে না’। আমি তার কথায় পাত্তায় দেয়নি।

২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরের আগে মাজিদকে আবারও দলের আশপাশে দেখি। তখন বিষয়টি গড়বড় মনে হওয়ায় তৎকালীন টিম ম্যানেজার ইয়ার সাঈদকে জানায়। তিনিও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কাগজে সেই বার্তা প্রিন্ট করেও তাকে দেখিয়েছি। কিন্তু তার উত্তর ছিল, ‘এ নিয়ে আমরা কী করবো? এ কিছুই না।’

হতাশ হয়েছিলাম। তবে খুব বেশি প্রতিবাদ করিনি। খুদেবার্তা অনেকের কাছেই ততক্ষনে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু একটা ঘটছে ধরেই সম্ভবত ঠিক সময়েই ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ অপারেশন চালায়। প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন সালমানকে বললাম, এখন থেকে তুমি দায়িত্ব নিতে পারো। তবে স্বীকার করি ওভাবে আমার দল ছাড়া উচিত হয়নি। বাড়ি না ফিরে দ্বিতীয় টেস্ট খেলা উচিত ছিল। পরে মনে হয়েছে, টেস্ট ক্যারিয়ার অকালেই থেমে গেল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ