মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

এমন ফাইনাল আগে দেখেনি কেউ

এমন ফাইনাল আগে দেখেনি কেউ

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক:এমন ফাইনাল আগে কেউ দেখেনি! কল্পনাতেও বোধহয় আনেনি! টাই হওয়ায় বিশ্বকাপের ফাইনাল গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারেও আলাদা করা গেল না কোনো দলকে! স্কোর সেখানেও সমান-সমান! ‘টাই’ হলো সুপার ওভার। শেষে পুরো ইনিংসে বাউন্ডারি বেশি মারার সুবাদে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ নিলো ইংল্যান্ড।
শিরোপার চাপে ফাইনালটা নাকি ঠিক জমে না! বেশির ভাগ সময়ই ফাইনাল হয় ম্যাড়ম্যাড়ে, একপেশে। গত তিন চারটি ফাইনালে হয়েছেও তাই। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে এই নিউজিল্যান্ডতো ১৮৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে ট্রফিই তুলে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার হাতে! কিন্তু গতকাল লর্ডসে এসব মিথ্যে করে দিলো ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। শিরোপা জিততে যে দুর্দান্ত লড়াইটা করলো দুই দল, নিশ্চিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা ফাইনাল দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব!
পুরো টুর্নামেন্টে যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সেটিরই ধারাবাহিকতা রেখে নিউজিল্যান্ড লর্ডসের ফাইনালেও গড়ে মাঝারি স্কোর। আর ২৪২ রানই পর্বতসমান হয়ে গেল ইংলিশদের সামনে। ৮৬ রানে ৪ উইকেট নেই।
সেখান থেকে বেন স্টোকস আর জস বাটলার কী দুর্দান্ত এক জুটি গড়লেন। মোক্ষম সময়ে সে জুটিও ভাঙলো নিউজিল্যান্ড। এরপর বীরের মতো লড়ে গেলেন স্টোকস। মনে হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এক ওভারে তিন ছক্কা খাওয়ার শাপমোচন করছেন স্টোকস। শেষ পর্যন্ত তাই হলো ওয়েস্ট ইন্ডিন্ডের কালোর্স ব্রাথওয়েটের কাছে হারানো শিরোপা কাল পুনরুদ্ধার করলেন এই ইংলিশ ম্যান। তার হার না মানা ৮৪ রানের ইনিংসের সুবাদে ‘টাই’ হয় ম্যাচ। । যদিও এখানে ভাগ্যের পরশও পেয়েছে স্বাগতিকরা। পুরো টুর্নামেন্টে চোখ ধাঁধানো ফিল্ডিং করা মার্টিন গাপটিলের ওই সর্বনাশা ওভার থ্রোটা না করলে ফল অন্যরকম হতে পারতো! ২ রানের জায়গায় আরও ৪ রান ফ্রি পেয়ে ইংল্যান্ড শিরোপার কাছে অনেকটা চলে যায়। পেছন থেকে আবার টেনে ধরে নিউজিল্যান্ড। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ম্যাচ টাই!

স্নায়ুক্ষয়ী সব মুহূর্ত পেরিয়ে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে । সুপার ওভারেও কী টান টান উত্তেজনা! ইংল্যান্ড করলো ১৫ রান। নিউজিল্যান্ডও করলো ঠিক ১৫! সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই। তখন দেখা হলো, মূল খেলায় বাউন্ডারি বেশি কোন দলের। ইংল্যান্ড তাতেই চ্যাম্পিয়ন! কিউইদের চেয়ে একটি বাউন্ডারি যে বেশি তাদের! মুগ্ধ করা ক্রিকেটীয় দক্ষতা, স্নায়ুর সঙ্গে লড়াই কিংবা ইংল্যান্ডের ভাগ্য বা নিউজিল্যান্ডের দুর্ভাগ্য যেটাই হোক, এমন শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল, এমন টান টান উত্তেজনায় ভরা ফাইনাল বিশ্বকাপের ৪৪ বছরের ইতিহাসেই দেখা যায়নি।
১৯৭৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ১৭ রানে। ১৯৭৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ৯২ রানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছিল ক্যারিবীয়রা। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৩ রানে হারিয়ে ভারত জিতেছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ। জমেছিল ১৯৮৭ বিশ্বকাপের ফাইনাল। ইংলিশদের ৭ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের ফাইনালও একেবারে ম্যাড়ম্যাড়ে হয়নি, ইমরান খানরা জিতেছিলেন ২২ রানে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে অর্জুনা রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা। ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ অস্ট্রেলিয়া যে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতল প্রতিটিতেই ফাইনালে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে। ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল দুই উপমহাদেশের দল ভারত-শ্রীলঙ্কা। মহেন্দ্র সিং ধোনির দল লঙ্কানদের ৬ উইকেটে হারিয়ে ২৮ বছর পর আবার শিরোপা জেতে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালটাও জমেনি, এই নিউজিল্যান্ডকেই ৭ উইকেটে হারিয়ে পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। এবারই প্রথম সুপার ওভারের নিয়ম চালু হয়েছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। নিয়মটা এবারই কাজে লেগে গেল। আর সেখানেও কী নাটক! ৪৪ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের নিষ্পত্তি হলো এমন অদ্ভুত উপায়ে। পুরো ম্যাচ এমনই জমজমাট, কখনো বলার উপায় ছিল না, কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে! তবে হ্যাঁ, তরঙ্গের মতো সমান সম্ভাবনা নিয়ে ম্যাচটা শুধু দুলেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটের আবেদন বাঁচিয়ে রাখতে নখ কামড়ানো এমন উত্তেজনায় ভরা একটা ফাইনাল সত্যি খুব দরকার ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ