বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

ওসমানীনগরে টাকার জন্য বৃদ্ধকে হত্যা: তিন ঘাতক আটক

ওসমানীনগরে টাকার জন্য বৃদ্ধকে হত্যা: তিন ঘাতক আটক

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট : সিলেটের ওসমানীনগরে পানির ট্যংকি থেকে আনিক আলী (৬০) নামক এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাত ৩ টায় উপজেলার সাদীপুর ইউপির পূর্ব তাজপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

নিহত আনিক আলী সাদীপুর ইউপির ধরকা গ্রামের মৃত দুয়াব উল্যার ছেলে।

নিহতের স্ত্রীর অভিযোগের  প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে তিন ঘাতককে আটক করে। আটকৃত প্রধান ঘাতক মোঃ সুমন রশিদ (৩০), পিতা-মোঃ আজমল আলী, মাতা-পারুল বেগম, সাং-দক্ষিন রাইকদ্বারা বর্তমানে দিগল গয়াছপুর, ২। মোঃ শাওন মিয়া (৩৫), পিতা-মোঃ ইব্রাহীম, মাতা- মিনা বেগম, সাং-মঙ্গলপুর, উভয় থানা-ওসমানীনগর, জেলা-সিলেটদ্বয়কে থানাধীন মঙ্গলপুর সাকিন হতে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৩। নানু মিয়া (২৪), পিতা-মৃত আবু মিয়া, মাতা- জমিলা বেগম, সাং-সোরাবই, থানা- শায়েস্তাগঞ্জ, জেলা-হবিগঞ্জকে শেরপুর এলাকা হতে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদকালে আটক আসামীরা জানায় যে, আনিছ উল্লাহ @ আনীক পূর্ব তাজপুর এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচুর পরিমাণ টাকা বন্টন করেন। আসামী সুমন লোকজনের নিকট হতে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছে, বর্ণিত ঋণের জন্য এলাকা হতে পলাতক হয়ে শেরপুর এলাকায় আত্মগোপন করে।

সুমনের ধারণা ছিল যে, ভিকটিমকে আটক করলে বড় অংকের কিছু টাকা পাওয়া যাবে। উক্ত টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে গত ১৭/০৩/২০১৯খ্রিঃ বিকাল বেলা আটক আসামীরা শেরপুর পয়েন্টে গিয়ে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পানকালে আসামী সুমন, শাওন ও নানুদের সাথে পরামর্শ করে যে, সুমন পূর্ব তাজপুরের একজন লোকের নিকট ১৫,০০,০০০/- টাকা ও ১৫ (পনের) ভরি স্বর্ণ পায়। সে সুমনকে টাকা না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করছে।

তাকে হত্যা করার জন্য শাওন ও নানু সুমনকে সহযোগীতা করলে, তাদেরকে বড় অংকের টাকা দিবে। তারা দুজনই সুমনের প্রস্তাবে রাজি হয়। আটক আসামীরা কিছু সময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাফেরা করে রাত অনুমান ০৮.০০ ঘটিকায় শেরপুর গোলচত্ত্বর হতে রিক্সাযোগে টোলপ্লাজায় আসে। রিক্সা হতে নেমে তারা পায়ে হেঁটে প্রবাসী আলা উদ্দিনের দু’তলা বাসায় যায়।

নানু ও শাওনকে প্রবাসী আলা উদ্দিনের বাসায় রেখে সুমন নিজে প্রবাসী আলা উদ্দিনের বাসার কেয়ার টেকার ভিকটিমকে বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে আসে। কেয়ারটেকার আসার পর আটক আসামীরা তিনজন বিভিন্ন রুমে ঘুরাফেরা করে বাসা দেখতে থাকে।

দু’তলায় যাওয়ার সিঁড়ির পাশের রুমে সুযোগ বুঝে সুমন গামছা দ্বারা পেঁচ দিয়ে ভিকটিমের মুখ বেঁধে ফেলে এবং শাওন ও নানু দুজনে সুতলী দ্বারা হাত-পা বেঁধে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিলঘুষি মারতে থাকে। সুমন ও নানু রশি দ্বারা ভিকটিমের গয়ায় ফাঁস লাগিয়ে স্বজোরে টান দেয়। এক পর্যায়ে আটককৃত আসামীরা নিশ্চিত হয় যে, ভিকটিমের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে তিনজনই কাঁধে করে ছাদের পানির ট্যাংকির মধ্যে ভিকটিমের মৃতদেহ লুকিয়ে রাখে।

আটককৃত আসামীরা অনুমান ০১ ঘন্টা বাসার ভিতরে অবস্থান করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে। সুমন ও শাওন পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয় যে, কেয়ার টেকারের বউকেও মেরে ফেলবে। ধৃত আসামীরা তিনজন এক সাথে উক্ত বাসা হতে বের হয়ে বাসার দরজা লক করে চাবি দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে শেরপুরের দিকে চলে যায়। পরবর্তীতে সুমন ও শাওন ভিকটিমের বাসার আশেপাশে ঘুরাঘুরি করে ভিকটিমের বউকে হত্যা করার সুযোগ না পেয়ে নিজ নিজ বাসায় চলে যায়। সন্দেহভাজন আরও ০২ জনকে গ্রেফতারের লক্ষে ওসমানীনগর থানা পুলিশ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা অব্যাহত আছে।

আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত ‍পুলিশ সুপার মো: মাহবুবুল আলম।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত আনিক আলী দীর্ঘ দিন যাবৎ উপজেলার সাদীপুর ইউপির পূর্ব তাজপুর গ্রামের কানাডা প্রবাসী আলাউদ্দিনের বাসার কেয়ার টেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রবিবার সন্ধা ৮ টার দিকে কয়েকজন লোক বাসা থেকে আনিক আলীকে ডেকে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অনেক রাত হয়ে গেলে আনিক আলী ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজাখুজি করে তার কোন সন্ধান না পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বাসার পানির ট্যাংকিতে হাত-পা বাধা মুখ থেতলানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ