সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

ওসমানী মেডিকেলের সেবিকাদের প্রাইভেটে ডিউটি

ওসমানী মেডিকেলের সেবিকাদের প্রাইভেটে ডিউটি

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত কিছু সংখ্যক নার্সদের বিরুদ্ধে প্রাইভেট হাসপাতালে বাড়তি দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় তাদের সেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর স্বজনরা। তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি নির্ধারিত শয্যার চেয়ে প্রতিদিন কয়েকগুন বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় অনেক সময় চিকিৎসক নার্সদের হিমশিম খেতে হয়। যে কারণে মাঝে মধ্যে রোগীর স্বজনদের সাথে সেবিকাদের বাকবিতন্ডা হয়ে থাকে। এদিকে রোগীর স্বজনদের দাবি অনেক সময় সেবিকাদের কাছ থেকে তারা ভালো আচরণ পান না।

জানা যায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত একাধিক নার্স সরকারি দায়িত্ব পালনের পর নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালেও কাজ করছেন। এর ফলে দুটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক নার্সই নিজেদের শারীরিক এবং মানসিক শক্তি হারিয়ে পেলেন। ফলে তাদের মেজাজ থাকে অনেকটাই খিটখিটে। এতে করে হাসাপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনরা অনেক ক্ষেত্রে নার্সদের রুঢ় আচরণের শিকার হন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৬শ’৪২জন সেবিকা কর্মরত রয়েছেন। তিনটি শিফটে ৩০টি ওয়ার্ডে সেবিকারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন। সেবিকা রয়েছেন তিন ক্যাটাগরির। এই তিন ক্যাটাগরি হলো সিনিয়র নার্স, স্টাফ নার্স এবং ইন্টানী নার্স। এদের মধ্যে রয়েছেন পুরুষ সেবক ‘ব্রাদার’ও।

সকাল ৮ থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শুরু হয় প্রথম শিফট। ২য় শিফট চলে ২ টা থেকে রাত ৮ টা এবং তয় শিফট চলে রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রত্যেক নার্সকে বাধ্যতামূলক মাসে ৫ বার দায়িত্ব পালন করতে হয় নাইট শিফটে। নিয়ম থাকলেও বিএনএ সভানেত্রী নাসরিন আক্তার প্রভাব কাটিয়ে নাইট ডিউটি পালন করেননি কোনোদিন- এমন অভিযোগও রয়েছে।

সিনিয়র স্টাফ নার্স শিউলি আকতার । তিনি হাসপাতালের সেবা তত্তাবধায়ক। ওসমানী হাসপাতালের পর বিকেলে তিনি কাজ করেন নগরীর আল হারমাইন হাসপাতালে। নাসরিন আক্তার বিএনএ ওসমানী হাসপাতাল শাখার সভানেত্রী। তিনি কাজ করেন হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে । অপর এক নাসরিন কাজ করেন ওয়েসিস হাসপাতালে। এভাবে ভ্রান্তি বালা , রোকেয়া বেগম, শ্যামলী বাড়ই, ইতি রানী সিনহা, ইলা সিনহা, খাদিজা আক্তার, ব্রাদার সামছুদ্দিন, রকিব, জলিলসহ আরো অনেকে। এরকম অসংখ্য নার্স রয়েছেন যারা, ৮ ঘণ্টা সরকারি দায়িত্ব পালনের পর নগরীর বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে মাসিক বেতনে কাজ করছেন।

সেবিকাদের বাড়তি দায়িত্ব পালনের তালিকায় শুধু ওসমানী হাসপাতালই নয়, সদর হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের অনেক নার্স ও ব্রাদার কাজ করছেন এসব ক্লিনিকগুলোতে।

সরকারি দায়িত্ব পালনের পর অন্য কোনো হাসপাতালে চাকুরী করার নিয়ম নেই সেবিকাদের। এ ব্যাপারে সরকারি বিধিনিষেধও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। অনিবার্য কারণে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেউ যদি অন্য কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক/হাসপাতালে চাকুরী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন-তবে সংশিষ্ট অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবরে যথারীতি আবেদন করার বিধান রয়েছে। এইসব নিয়মীতির তোয়াক্কা না করেই ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে কর্মরত সেবিকারা বছরের পর বছর প্রাইভেট হাসপাতালে চাকুরী করে যাচ্ছেন।

সরকারি সুযোগ-সুবিধার দিকে দিয়ে কোনো অংশেই পিছিয়ে নয় সরকারি সেবিকারা। সরকারি বাসস্থান, দ্বিগুণ সেলারী পাওয়ার পরও তাদের একসাথে দুটি প্রতিষ্ঠানে একই দায়িত্ব পালন সরকারি নীতিমালা লংঘনের অপরাধে পড়লেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের। এর খেসারত দিতে হচ্ছে প্রতিদিন দুর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী ও তাদের স্বজনদের।

জানতে চাইলে সেবা তত্বাবধায়ক শিউলি আক্তার বলেন, আপনি অফিসে এসে কথা বলুন। ফোনে সমস্যা আছে বলেই লাইনটি কেটে দেন। নার্স ভ্রান্তিবালার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি হাসপাতালের পর ক্লিনিকে চাকরী করিনা, একটি ট্র্যাভেলিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। তবে জানতে চাইলেও ওই প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে পারেননি তিনি।
বিএনএ সভানেত্রি নাসরিন আক্তার ফোন রিসিভ করলেও পরিচয় প্রদানের পর,মিটিংয়ে ব্যস্থ আছেন বলে সাথে সাথে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।

এদিকে, বিএনএ সভানেত্রী নাসরিন আক্তার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চাকুরী করার সত্যতা নিশ্চিত করেছে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল কতৃপক্ষ। অপরদিকে ওয়েসিস হাসপাতালে ওসমানীর সেবিকা নাসরিন কাজ করেন এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে হাসপতালের অনুসন্ধান বিভাগ। রোববার এই প্রতিবেদক হাসপাতালের ভালো নার্স নেই-এমন মন্তব্যের বিপরীতে তিনি ওসমানী হাসপাতালের প্রায় ৫/৬ জন সেবিকার নাম বলেন-যার মধ্যে নাসরিনের নাম রয়েছে।

সরকারি সেবিকাদের প্রাইভেট হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ম লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায় বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে করা যেতে পারে (শর্ত প্রযোজ্য)। তিনি বলেন, সরকারি নার্সদের বাহিরে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আমার জানা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ