সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৪ অপরাহ্ন

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্রীড়া প্রতিবেদক :  লড়াই হবে। জম্পেশ ম্যাচ হবে। এমন ভাবনা নিয়ে যারা মাঠে এসেছিলেন তারা ঠকেছেন। তবে পুরো ম্যাচের প্রায় সারাটা সময় জুড়েই গ্যালারি থেকে উল্লাসের ধ্বনি শোনা গেল। টস থেকে শুরু করে বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং-অধিনায়কত্ব; সব বিভাগে দাপট দেখিয়ে বাংলাদেশ জিতলো সিরিজের শেষ ম্যাচ। ৮ উইকেটের একতরফা এই জয়ে ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি জিতলো বাংলাদেশ। তখনো ম্যাচের ৬৯ বল বাকি।

বোলিংয়ে মেহেদি মিরাজ এবং ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবাল (অপরাজিত ৭৭) ও সৌম্য সরকারের (৮০ রান) আনন্দময়ী ব্যাটিং-এই যুগপৎ সম্মিলনে যে কায়দায় বাংলাদেশ সিলেট ওয়ানডেতে জিতলো তাকে বলে-দুধভাত! বাংলাদেশের দাপুটে পারফরমেন্সের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মনে হচ্ছিলো তারা নতুন ক্রিকেট শিখছে; বাংলাদেশ শেখাচ্ছে!

তামিম ও সৌম্য শেষের দিকের ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ে ¯্রফে ছেলেখেলা করলেন যেন। সৌম্য তো ইচ্ছে হলেই ছক্কা মারছেন। ইচ্ছে হলেই চার! ৮০ রান করে সৌম্য যখন আউট হলেন তখন ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন দাড়ায় ২৩ রান। বল বাকি ৮৮! তামিমের সঙ্গে সেই আনুষ্ঠানিকতা সারেন মুশফিক। ৮ উইকেটের জয় নিয়ে সিলেট আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অভিষেক ওয়ানডেকে স্মরণীয় করে রাখলো বাংলাদেশ।
সৌম্য সরকারের ৮১ বলে ৫ ছক্কা ও ৫ বাউন্ডারির ৮০ রানের এই ইনিংস ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলের আরেকটি সমস্যার সমাধান দিলো; একাদশে এই বাঁহাতির সুনির্দিস্ট জায়গায় টপঅর্ডারেই।

চলতি বছর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়। বছরের ২০টি ওয়ানডে’র ১৩টিতেই জয়। অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির সাফল্যের বছরও বটে।

সিলেট আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের বেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিলো আহা কি কষ্টই না, এখানে ব্যাটিং করা! শুরুর ১০ ওভারের সময়টা বাদ দিলে ব্যাটিংয়ের বাকি সময়জুড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ব্যাটিং করলো তা দেখে মনে হচ্ছিলো অক্সিজেন মাক্স ছাড়া এভারেস্টে উঠছে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। অবশ্য এই তালিকায় ব্যতিক্রম হয়ে রইলেন কেবল একজন-উইন্ডিজ ওপেনার শাই হোপ। শুরু থেকে শেষঅব্দি ব্যাটিং করে গেলেন এই ওপেনার। ১৩১ বলে তার অপরাজিত ১০৮ রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংকে যা কিছু সঞ্চয় এনে দিলো। তিন ম্যাচের সিরিজে দুটি অপরাজিত সেঞ্চুরি এবং একটি ৪৩ রানের ইনিংস খেলে শাই হোপ কিন্তু ঠিকই জানিয়ে দিলেন- খেলতে জানলে বাংলাদেশের স্লো উইকেটেও খেলা যায়। চলতি বছর ব্যাট হাতে দারুণভাবে কাটলো উইন্ডিজ এই ওপেনারের। ওয়ানডেতে পেলেন তিনটি সেঞ্চুরি। যার দুটিই এই বাংলাদেশ সিরিজে।

ইনজুরি থেকে ফিরে আসা সিরিজটা তামিমও ইকবালও রাঙালেন শেষ দুই ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির আলোয়। বোলিংয়ে কম গেলেন না স্পিনার মেহেদি মিরাজও। ২৯ রানে ক্যারিয়ার সেরা ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ী ম্যাচে তিনিও পার্শ্বনায়ক।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ