বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন

কমলগঞ্জে বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি

কমলগঞ্জে বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি

নিউজটি শেয়ার করুন

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সম্প্রতি বন্যার পানি নেমে গেলেও আগ্রাসী আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রেখে গেছে চারি দিকে। বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে হাঁপিয়ে উঠছেন কৃষক ও মৎস্য খামারিরা। সম্প্রতি কয়েকদিনের ভারী বষর্ণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে এ বন্যা দেখা দেয়।

ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ৫টি স্থানে ভাঙ্গনে পৌরসভার রামপাশা ও কুমড়াকাপন, শমশেরনগর, পতনউষার, মাধবপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায় বন্যার পানিতে। এসব এলাকার কৃষক ও মৎস্য খামারির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও উপজেলা কৃষি বিভাগ ও মৎস্য অধিদপ্তর ক্ষয়ক্ষতির এ চিত্র মেনে নিতে পারছেন না।

জানা যায়, দু’দফা ধলাই নদীর ভাংগনে ৪দিন বন্যার পানিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন। এ বন্যায় উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩শ’ হেক্টরের আউশ ক্ষেত, ৩০ হেক্টরের সবজি ক্ষেত ও প্রায় ৩০ হেক্টরের আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ছোটবড় ১৪৮টি খামার ও পুকুর নিমজ্জিত হয় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে খামারীদের।

পতনউষারের কৃষক তোয়াবুর রহমান, শওকত মিয়া, মসুদ মিয়া, আব্দুল জববার, সৈয়দ রকিবসহ কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, বন্যায় আমাদের আউসের ফসল ও আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। আউসের ফসল এখন আর পাওয়ার আশা নেই সাথে সাথে আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে এখন আমন ও রোপন করতে পারছিনা। এনিয়ে দুরচিন্তায় আছি। নিজে খাব কি ? আর মহাজনের লগ্নির টাকা কি ভাবে পরিশোধ করবো। বন্যায় প্রতি বছরই ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সরকারি বিভিন্ন সহায়তা আসলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা এসব সহায়তা খেকে বঞ্চিত হন।

ক্ষতিগ্রস্থদের দাবী জানান, তারা ত্রান বা সাহায্য চায়না। ধলাই ও লাঘাটা নদী খনন ও স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বন্যায় আউশ ক্ষেত ও বীজতলার কিছু ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে এখনও পুরোপুরি তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।’

পতউষারের মৎস্য খামারী আশিকুর রহমান, শমসেরনগরের আব্দুর রব পৌর এলাকার সৈয়দ সালেহ আহমদ, আবুল কালাম আজাদ বলেন, বানের পানিতে আমাদের খামারের সকল মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। যা পুঁজি ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। সর্বশান্ত হয়ে গেছি। এখন কি ভাবে চলবো তা ভেবে কোন কূলকিনারা করতে পারছি না।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আসাদ উল্ল্যা বলেন, ‘১৪৮টি পুকুর ও খামারের ভেসে যাওয়া মাছের ক্ষয়ক্ষতি হিসাবে ১৮ লক্ষ টাকা নিরূপণ করা হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা (ভারপাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী কর্মকর্তা এসিলেন্ট নাসরিন চৌধুরী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ