শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন

কলা’য় কার্বাইড: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সিলেটবাসী, প্রশাসন নির্বিকার

কলা’য় কার্বাইড: স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সিলেটবাসী, প্রশাসন নির্বিকার

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহ মো: তানভীর : হলদে বর্ণের খোসা। দেখলে মনে হবে যে পাকার কারণে তা হয়তো নরম হবে। কিনে বাসায় নেওয়ার পর দেখবেন খোসা ছিলিয়ে কলাটা টিপে গলানো যাচ্ছে না। খুব শক্তই মনে হচ্ছে।
কার্বাইড জাতীয় রাসায়নিক দিয়েই পাকানো হচ্ছে এসব কলা।
আর কলা বিক্রেতারা ফুটপাতে গলার জোরে ‘গাছপাকনা’ বলে প্রতিনিয়ত মানুষকে ঠকানো হচ্ছে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না কোন অ্যাকশন।

সিলেট নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাজার কিংবা ফুটপাতের দোকানে কলা পাকাতে মেশানো হচ্ছে কার্বাইড জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। ফলে কলার বাহ্যিক রং ১২ ঘন্টার মধ্যেই হলুদ রং ধারণ করছে। বিষাক্ত এই কেমিক্যাল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রমজানে মাসে কলার প্রচুর চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অসাধু কলা ব্যবসায়ীরা এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর কদমতলী, সোবহানীঘাটসহ পাইকারী বাজার থেকে শত শত পিকআপ লোড হয়ে কলা যাচ্ছে সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

এসব কলার দোকানে প্রতিদিন কলা পাকানো এবং কলার রং আকর্ষণীয় করার জন্য কার্বাইড জাতীয় পদার্থ মেশানো হচ্ছে। এসব হাটবাজারে যে কলা বিক্রি করা হচ্ছে তার বেশিরভাগ কলাই বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো। খুব তাড়াতাড়ি যাতে এসব কলা পেকে যায় তাই ব্যবসায়ীরা এই কেমিক্যাল মিশিয়ে থাকেন।

ঢাকাদক্ষিণ বাজারের কলা ব্যবসায়ী সানুর মিয়া জানান, কলায় এসব পদার্থ মেশালে কলা দ্রুত পাকে এবং কলা দেখতে খুব সুন্দর দেখায়, এতে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে কিনে তাই অনেকে মেশায়। পাশাপাশি কেমিক্যাল ছাড়া পাকা কলাও আমরা রাখি। আমি ৩৮ বছর ধরে কলার ব্যবসা করছি। শুধু মাত্র গত ১৬ মে বৃহস্পতিবার বাজার মনিটরিংয়ে এক্সিকিউট ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব কলার বাজারে এসেছিলেন আর কোন দিন কাউকে দেখি নাই। ঐ দিন আসায় অনেকে দোকান রেখে পলায়ন করছিলেন। এভাবে যদি মাঝে মধ্যে আসতেন তাহলে জনসাধারণের অনেক উপকার হত। স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে এই ব্যবসায়ী বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে সবাই মেশায়।

কেমিক্যাল মেশানোর প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, কলা আমরা অনেক দুর থেকে নিয়ে আসি। আনার পর একটি বদ্ধ ঘরে রেখে রাসায়নিক ছিটানো হয়। ছিটানোর ফলে এই কলা তাড়াতাড়ি পেকে যায়। আমাদের বিক্রি করতেও সুবিধা হয়।

এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, বিষাক্ত এসব দাহ্য পদার্থ মিশানো কলা খাওয়া স্বাস্থ্যে জন্য ক্ষতিকর এবং সাথে সাথে বমিভাব ও ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কেমিক্যাল মিশ্রিত কোন খাদ্য গ্রহণ করলে তার প্রভাব পড়ে লিভার ও কিডনীর উপর। ওইসব খাদ্য গ্রহণের পরে তা দাহ্যে পরিণত হওয়ার পর নি:সরণ ঘটে লিভার এবং কিডনীর মাধ্যমে। ফলে কেমিক্যাল মেশানো খাদ্য শরীরের এই দুটি অংশের উপর প্রভাব ফেললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিডনীকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করে।

এ ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গির আলম বলেন, কলার মধ্যে যদি রাসায়নিক কেমিক্যাল মিশিয়ে কলা পাকানো হয় তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শ্রীঘই ফরমালিন ও কার্বাইড পরীক্ষা যন্ত্র নিয়ে এইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ