বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

“কুলাউড়ায় ‘খাবারে বিষ’ : মেয়ের মৃত্যু, মা ও ছেলে হাসপাতালে”

“কুলাউড়ায় ‘খাবারে বিষ’ : মেয়ের মৃত্যু, মা ও ছেলে হাসপাতালে”

নিউজটি শেয়ার করুন

কুলাউড়া প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিষ মেশানো খাবার খেয়ে এক প্রবাসীর মেয়ে মারা গেছে। এছাড়া প্রবাসীর স্ত্রী ও ছেলেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হেলানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের নাম ইমা আক্তার (১৭)। সে ওই গ্রামের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী আবদুর রহিমের মেয়ে এবং স্থানীয় হিঙ্গাজিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

পুলিশ, কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী আবদুর রহিমের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫) তাঁর দুই সন্তান ইমন মিয়া (২০) ও ইমাকে নিয়ে হেলানগর গ্রামে থাকতেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনজন একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর হঠাৎ করে তিনজনই বমি করতে শুরু করেন। রাতেই স্বজনেরা তিনজনকে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ইমা চিকিৎসা না নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। পরে সকাল ৮টার দিকে ইমাকে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তার। জাহানারা ও ইমনকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল হক শনিবার রাতে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে হাসপাতালে আসার পর জাহানারা, ইমন ও ইমা বমি করছিলেন। সঙ্গে মাথাব্যথাও ছিল। তবে ইমা চিকিৎসা নিতে রাজি হয়নি। খাবারে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তারা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোন ধরনের বিষ ছিল তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না।’

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্যমতে, প্রবাসী আব্দুর রহিমের ভাই আব্দুস শহীদ পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তানদের খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত ও শহীদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ইমার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার জেলা সদরের ২৫০ শয্যার হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ