মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

“কে ভিআইপি, কেনো ভিআইপি?”

“কে ভিআইপি, কেনো ভিআইপি?”

ছবি: সংগৃহীত

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:বাংলাদেশে ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। ভিআইপিদের কারণে সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিপত্তির মুখে পড়তে হয়। সম্প্রতি, সরকারের এটুআই প্রকল্পে দায়িত্বরত যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় ফেরি পার হতে তিন ঘণ্টা দেরি হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নড়াইলের কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা, পুলিশ সবার কাছে অনুরোধ করার পরও ওই কর্মকর্তা না আসা পর্যন্ত কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ফেরি ছাড়েনি। সেদিন মাঝ নদীতে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় তিতাস। অনেকে এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলছেন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এই ভিআইপি বা ভিআইপি নয়- এমন বিভাজনটিই থাকা উচিত নয়। যিনি উচ্চপদে রয়েছেন তাকে মানুষ সম্মান করবেন- এটাই তো যথেষ্ট। কিন্তু, এর জন্যে তিনি সমাজে অন্য মানুষের মৌলিক অধিকারের পথে বাধা হবেন তা কাম্য নয়।”

“সংবিধানে তো ভিআইপিদের বিষয়ে কিছু বলা নাই। সেখানে রয়েছে ‘অর্ডার অব প্রিসিডেন্স’। এটি অন্য জিনিস। সেহেতু সংবিধানে এরকম কোনো বিধান নাই, এমনকী, কোনো বিধিও নাই। সুতরাং, ভিআইপি সৃষ্টি করে সমাজে একটি বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে এটি অসাংবিধানিক।”

এই ভিআইপিদের দায়িত্ব যখন সবকিছু নিয়মের মধ্যে আনার তখন তাদেরকেই নিয়ম ভাঙতে দেখা যায়। কেনো?- “এক কথায় বলা যায় এটা ক্ষমতার অপব্যবহার। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে তারা এটি কোনোভাবেই করতে পারেন না। কিন্তু, আমাদের এখানে নিজেরাই সুবিধা নেওয়ার জন্যে, নিজেরাই নিজেদের মহিমান্বিত করেন। জনগণ তা করেন না। আমি বলবো এটা বেআইনি। এর মাধ্যমে ভিআইপিরা সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করছেন।”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সব দেশে কিছু পদ থাকে যাদেরকে আমরা বলছি ‘ভিভিআইপি’। যেমন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী- এধরনের পদে যারা রয়েছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কারণে তাদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু, এটিকে অপব্যবহার করতে করতে এখন এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যে একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী অর্থাৎ যারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকেন তারা নিজেদেরকে ‘ভিআইপি’ মনে করছেন। এটিকে আবার সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। যদিও এর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। কিন্তু, বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে এ ধরনের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। এর কোনো সুনির্দিষ্ট মাপরেখা বা সূচক নির্ধারণ করা হয়নি। ধারণার ওপর ভিত্তি করে কিছু শ্রেণির মানুষকে ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। ভিআইপি মর্যাদা দিলে এর প্রয়োগ কী হবে এর সুনির্দিষ্ট করে ব্যাখ্যা দেওয়া নেই। সেই কারণেই এর অপব্যবহার হয়।”

“ভিআইপিরা মনে করেন যে তিনি রাস্তায় চলার সময় যেদিকে খুশি যেতে পারবেন।”

কিন্তু, এর ফলে জনদুর্ভোগ, এমনকী, মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।– “হ্যাঁ, ফেরিঘাটে তিতাসের মৃত্যু হয়েছে। মানুষের মৃত্যুর তো কোনো ক্ষতিপূরণ হতে পারে না। তবুও বলছি, এর জন্যে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কেননা, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, যারা জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেই এমন ঘটনা ঘটছে।”

তিনি মনে করেন, “সরকার যদি মনে করে তাহলে ভিআইপিদের জন্যে আলাদা ফেরির ব্যবস্থা করতে পারে। তবে কোনোভাবেই একজন কর্মকর্তার কারণে ফেরি আটকে রাখা যেতে পারে না।”

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ