বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

এখনো বিপদ সীমার উপরে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

এখনো বিপদ সীমার উপরে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট:সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেটের বিভিন্ন নদ নদীর পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এখনো প্লাবিত রয়েছে নিম্নাঞ্চল। মঙ্গলবার থেকে বুধবার নদীগুলোর পানি কিছুটা কমে এসেছে। অবশ্য কিছুটা বেড়েছে সারি নদীর পানি।

সিলেট পানি উন্নয়ন রোর্ডের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ১৩ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহমান ছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি কমে আসা স্বত্বেও এই পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহমান ছিল।

সুরমা নদী সিলেট পয়েন্টে আগের দিন ১০ দশমিক ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় ১৯ সেন্টিমিটার মে ১০ দশমিক ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরপরও এখনো বিপদ সীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানির প্রবাহমান রয়েছে।

জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি আগেরদিন ১৬ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় ৪২ সেন্টিমিটার কমে ১৫ দশমিক ৬৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখনো বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহমান রয়েছে এই নদীর পানি।

কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের বিয়ানীবাজার শেওলা পয়েন্টে মঙ্গলবার গতিপ্রবাহ ছিল ১৩ দশমিক ৪০। আজ তা ২৩ সেন্টিমিটার কমে ১৩ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখনো বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এই নদীর পানি।

মৌলভীভাজারের শেরপুর পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি অপরিবর্তিত থেকে ৮ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার ৪ সেন্টিমিটার কমে ৮ দশমিক ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহমান ছিল। এখনো বিপদ সীমার ৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটের জৈন্তাপুরে পাহাড়ি নদী সারি মঙ্গলবার ১০ দশমিক ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার তা বেড়ে ২৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ১০ দশমিক ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিপদ সীমার ১ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে।

এছাড়া কানাইঘাটের লোভাছড়ার পানি আগেরদিন ১৪ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত ছিল। আজ তা ৩৬ সেন্টিমিটার কমে ১৪ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সিলেটের নদ নদীর পানি প্রতিঘন্টায় কমে আসছে। বৃষ্টি কম হওয়াতে পানিও কমে আসছে।

এদিকে, পানি কমতে শুরু করায় মানুষ পানিবাহি রুগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বন্যা কবলিত সিলেটের ১৩টি উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবা দিতে ১৪০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মীর মাহবুবুর রহমান। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আগেরদিন মঙ্গলবার তিনি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। এ কয়দিনে ১৩ উপজেলায় বন্যা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

সিলেটের সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেটে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও মানুষ রোগাক্রান্তের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এটা এক রকম স্বস্থিদায়ক। তারপরও ১৩ উপজেলার ১৪০টি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম কাজ করছে। প্রতি উপজেলায় স্থাপন করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। প্রান্তিক পর্যায়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে তা’ক্ষনিক সেবা দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ