মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

গোলাপগঞ্জের বাগানবাড়িতে লিচুর বাম্পার ফলন

গোলাপগঞ্জের বাগানবাড়িতে লিচুর বাম্পার ফলন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :গোলাপগঞ্জে মৌসুমী ফল লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মধুমাস জ্যৈষ্ট’র আগমন হওয়ায় অন্যান্য ফলের সাথে চার দিকে এখন রসে ভরা লিচু’র সয়লাভ। উপজেলার বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি সড়কের পাশে বসে লিচু বিক্রি করতে দেখা যায়।

উন্নত জাতে লিচু তেমন দেখা না মিললেও উপজেলার একাধিক গ্রামে স্থানীয় জাতের লিচুর প্রভাব রয়েছে। লিচু ফলনকারী ধারাবহর গ্রামের দিলিপ চন্দ্র নাথ জানান বৃটিশ আমল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাগান বাড়ীতে লিচু গাছ রোপন করা হত। তিনি মনে করেন এই ফল ঐতিহ্যগতভাবে বৃটিশ আমল থেকে এই এলাকায় ফলন হয়ে আসছে।

তবে এখন পর্যন্ত উপজেলার যেসব এলাকায় লিচুর ফলন দেখা যায় সেখানে পেশাদার লিচু ফলনকারীর তেমন খোঁজ পাওয়া যায়নি। শৌখিন ফলনকারী হলেও লিচুর ফলন বেশী হওয়ায় অনেকে অর্থনৈতিকভাবে এই ফল বিক্রয় করে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা যায়। উপজেলার রনকেলী, কানিশাইল, ধারাবহর, রায়গড়, শিলঘাট, বারকোট, ভাদেশ্বর, লক্ষণাবন্দসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ

ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আমিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান গোলাপগঞ্জে স্থানীয় জাতের লিচুর ফলন রয়েছে। পেশাদার লিচু বাগান আছে বলে তিনি জানেন না। চায়না থ্রি অথবা মোম্বাই জাতের উন্নত লিচুর ফলন হলে ক্রেতার চাহিতা পূরণ করতে সহায়ক হত। এই জাতের ফলন হলে দেশে বিদেশে রপ্তানী করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কৃষি অফিসে লিচুর সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কেউ আসেনি যার জন্য এবিষয়ে তাদের কাছে তেমন কোন তথ্য নেই বলে জানান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন কানিশাইল গ্রামের লিচুরতল নামক স্থানে সাকের আহমদ ও বেলাল আহমদ নামে দুইজনকে লিচু বিক্রয় করতে দেখা যায়।

রাস্তার পাশে আবদুল জলিল নামে জনৈক বাড়ীর মালিক তার কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক লিচু ক্রয় করে তারা খুচরা বিক্রয় করছেন বলে  জানান। প্রতি একশ লিচু দুইশত টাকায় বিক্রি করছেন এবং ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দে ক্রয়ের জন্য ভীড় জমাচ্ছেন দেখা গেল। বাজারে না নিয়ে এখানে বসে লিচু বিক্রির কারন জানতে চাইলে বিক্রেতা সাকের আহমদ জানান ক্রেতাদের পাশে লিচু গাছ দেখানো যায় ও ফরমালিনমুক্ত ফল সেটা ক্রেতারা বাজারের চেয়ে এখানে বিশ্বস্থতার সাথে বুঝানো সম্ভব হয় বলে তারা বিক্রয় সুবিধার জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছেন।

এসময় এনামুল হক এনাম ও জাহেদুর রহমান জায়েদ নামে দুইজন লিচু ক্রেতার সাথে কথা হলে তাদের বক্তব্য হলো বাজারের ফলে ফরমালিন থাকায় বাজার থেকে ফল ক্রয় করা চেড়ে দিয়েছেন। গাছের লিচু থাকায় ভেজালমুক্ত খাওয়া সম্ভব ও স্বাদ হবে এজন্য এখান থেকে ক্রয় করছেন। এভাবে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ বাইপাস মোড়, ঢাকাদক্ষিণ সরকারী কলেজ গেইটের পাশে, হাসপাতাল সম্মুখ, বুড়িবাড়ী মোড়ে লিচু বিক্রয় করতে দেখা যায়। বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতি একশত লিচু একশত টাকা থেকে দেড়’শ ও দুই’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সময় যত যাবে তত লিচুর দাম কমে আসবে বলে বিক্রেতারা জানান।

লিচু চাষীরা জানান, স্থানীয়ভাবে লিচু উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ বছর বাদুড়, কাঠবিড়ালি ও বানরের উৎপাত ছাড়া বড় কোনো বিপর্যয় হয়নি। ঝড়ঝাপটার কবলেও খুব একটা পড়েনি লিচু বাগানগুলো। এতে লিচুচাষীরা বেজায় খুশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে গোলাপগঞ্জের চৌমুহনী, হেতিমগঞ্জ, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন, আমুড়া ইউনিয়ন, বুধবারীবাজার ইউনিয়ন, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় লিচু বিক্রি হচ্ছে। এখন বোম্বে ও স্থানীয় জাতের লিচু বাজারে এসেছে। আকার ও ধরনভেদে ১৫০ লিচু ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লিচুর আমদানি যত বাড়বে দাম তত কমবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।

একসময় উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু টিলা এলাকায় লিচু চাষ হলেও এখন বিক্ষিপ্তভাবে সারা উপজেলাতেই কমবেশি প্রায় বাড়িতে লিচুর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৌসুমি এই ফল পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ। সকাল থেকেই দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ধারে ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে লিচু নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা।

উপজেলার অন্যতম লিচুচাষী উপজেলার ঢাকাদক্ষিণের সোহাগ আহমদ বলেন, আমার মরহুম চাচা নেছার আলী শখের বশত: প্রথমে নিজের জন্য কয়েকটি গাছ রোপণ করেছিলেন। এসময় অনেকটা লাভের মুখ দেখলে পরে অবশ্যই আমরা বাণিজ্যিক ভাবে লিচু চাষ করার উদ্যোগ নেই। আমরা এখন গোলাপগঞ্জ উপজেলাই বাণিজ্যিক ভাবে একমাত্র আমরাই লিচু উৎপাদন করছি।

শুধু লিচু নই কাঁঠাল গাছ আছে ৪০০ টি, নারিকেল গাছ, সুপারি গাচসহ বিভিন্ন রকম ফলজ গাছ আমাদের বাগান বাড়িতে আছে। তবে এবার লিচু ফলন খুব ভালো হয়েছে। একদম বাম্পার ফলন। আমার বাগানে ৬০/৭০ টি গাছ এগুলো পাইকার কে দিয়েছি। সে পুরো বছর গাছগুলোর যতœ নিয়েছে। ঔষধপত্র থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত সে সবকিছু দেখবাল করেছে। আমাকে কিছুই করতে হয়নি তবুও আশা করছি তার পুরো খরছ বাদে আমার লক্ষাধীক টাকা আয় হবে। দুটি গাছ রেখেছি নিজেরা খাওয়ার জন্য, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের দেওয়ার জন্য।’

লিচু বিক্রেতা ফটিক মিয়া বলেন, আমি নিজে বাগান বাড়ি লিচুগাছসহ কয়েকটি বাড়ির গাছ কিনেছি। এবার ‘বাদুড়, বানর, কাঠবিড়ালি ছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই। গাছ পাহারা দেওয়ার জন্য লোক আছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। রাতেও দিনের মতো আলো থাকে বাগান এলাকায়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ