সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

গোলাপগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডারের রমরমা ব্যবসা

গোলাপগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডারের রমরমা ব্যবসা

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোন রকম নিয়মনীতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়া সিলিন্ডার ব্যবসা চলছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার যত্রতত্র। উপজেলার ছোট বড় বাজারগুলোর শতাধিক দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস।

আইন কানুন না মেনে শুধু মাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওই জ্বালানির রমরমা ব্যবসা উপজেলার সর্বত্র চলছে। দেশের অন্যতম এলপিজি প্লান্ট কৈলাশটিলা এলপিজি প্লান্টের অবস্থান গোলাপগঞ্জে হওয়ায় অনুমোদনহীন এলপিজি সিলিন্ডার’র দোকানের ছড়াছড়ি এ উপজেলায় অনেকাংশে বেশী বলে মনে করছেন প্রকৃত ব্যবসায়ী। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার, পাড়া মহল্লার মুদি দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ইলেকট্্রনিক্সের দোকান, রিক্সা গ্যারেজ, এমনকি ফেক্সিলোডের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।

এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জানা নেই প্রতিকারের ব্যবস্থা। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্যবসার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এ কারণে জন নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় জ্বালানি অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান গ্যাস বিক্রি করবে তাদের গ্যাস বিক্রির স্থানকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে হয়। আইন অনুযায়ী গ্যাস বিক্রির স্থানে কমপক্ষে ফ্লোর পাকাসহ আধপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার মওজুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকার কথা। এছাড়া থাকতে হবে জ্বালানি অধিদপ্তরের অনুমোদন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে ২-৩ জন ছাড়া উপজেলার গ্যাস ব্যবসায়ীদের কারো এবিষয়ে কোন কাগজপত্র নেই। এমনকি তারা এ বিষয়ে জানে না সাধারণ দ্রব্য সামগ্রী বেচা কেনা মত সিলিন্ডার বিক্রি আইনত দন্ডনীয়। এসকল ব্যবসায়ী সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বাড়তি লাভের আশায় দোকানের বাইরে ফুটপাতে রোদে ফেলে রাখেন এসব সিলিন্ডার। রাস্তার কিনারে রাখা এসব সিলিন্ডারের পাশ ঘেঁষে চলছে দ্রুতগামি যানবাহন। অধিক লাভের আশায় মান ও মেয়াদহীন অনেক কোম্পানির সিলিন্ডার রাখায় এসব দোকানিরা নিজের অজান্তে বোমার চেয়ে ভয়ানক বিপদের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। সচেতন গ্রাহক এবিষয়ে নজরে নিলে ক্রেতা বিক্রেতার ঝগড়া প্রায় লক্ষ করা যায়। সম্প্রতি মেয়াদ উত্তীর্ণ সিলিন্ডারের বোতল নিয়ে সরস্বতি গ্রামের আমিরুল ইসলামের সাথে রহমান সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন কর্তৃপক্ষের সাথে বিবাদ তৈরী হয়। গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ ১২টি বোতল উদ্ধার করে থানা নেওয়া হলে এএসপি সার্কেল বোতলগুলো জব্দ করেন। এছাড়া উপজেলার অলিতে গলিতে গড়ে উঠা বিভিন্ন সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ, ওজনে কমসহ বাড়তি দাম নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। ফলে একদিকে নিয়ম নীতি মেনে পরিচালনা করা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অপরদিকে প্রতিনিয়ত এসব দোকান থেকে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। বিগত দিনে সিলিন্ডার জালিয়াত করতে গিয়ে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। অনেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোলাপগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, সিলিন্ডার মানে জাল জালিয়াতি। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সিলিন্ডার ব্যবসায় বড় ধরনের অনিয়ম হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর এর শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজান রহমান জানান এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু বলতে পারছেন না তবে খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেস।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ