শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

চুনারুঘাটের দুলা মিয়ার লাশ ঢাকার কবরস্থানে, চাচার মদদে খুন!

চুনারুঘাটের দুলা মিয়ার লাশ ঢাকার কবরস্থানে, চাচার মদদে খুন!

ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে চুনারুঘাটের অপহৃত দুলা মিয়ার লাশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:এক খণ্ড জমির জন্য ভাতিজাকে ভাড়াটে পেশাদার খুনিকে দিয়ে অপহরণ করিয়ে ঢাকায় নিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দিয়েছেন তারই চাচা।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাকে জুরাইন কবরস্থানে দাফনও করে দেয়। কিন্তু এক কিশোরের তোলা মাইক্রোবাসের ছবির ওপর ভিত্তি করেই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। আর অপর দুই পেশাদার খুনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে চাচা সাদেক মিয়াকে।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ উল্ল্যা।

আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে এসপি জানান, চুনারুঘাট উপজেলার পাট্টাশরিফ গ্রামের সাদেক মিয়ার বাড়ির সামনের ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তার ভাতিজা দুলা মিয়া।

‘জমিটির ওপর সাদেক মিয়ার লোভ ছিল। জমিটি পেতে তিনি ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমাও করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো ফল না পেয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঢাকায় তার পরিচিত কিলারদের সঙ্গে কথা বলেন।’

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ জুন একটি মাইক্রোবাসযোগে কিলারদের চুনারুঘাটের পাট্টাশরিফ গ্রামে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের সহযোগিতা করে সাদেক মিয়ার ভাগনে আফরাজ মিয়া।

ঘটনার সময় দুলা মিয়া একটি টমটমযোগে (ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক) স্থানীয় শাকির মোহাম্মদ বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে আসামিরা তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নেয়।

এ সময় গ্রামে মাইক্রোবাস দেখে এক কিশোর গাড়িটির ছবি তুলে। পথে দুলা মিয়া পানি পান করতে চাইলে তাতে ঘুমের বড়ি মিশিয়ে খাইয়ে দেয় আসামিরা। পরে ঢাকার হাজারিবাগে সিকদার মেডিকেলের পেছনে নিয়ে গলায় রশি দিয়ে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়।

১৮ জুন নদীতে লাশ পড়ে আছে খবর পেয়ে হাজারিবাগ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরিচয় না পেয়ে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় হাজারিবাগ থানায় পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এর আগে ১৯ জুন নিহত দুলা মিয়ার ছোট ভাই ইদু মিয়া বাদি হয়ে ৩ জনকে আসামি করে চুনারুঘাট থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। নিহত দুলা মিয়া ৫ মেয়ের জনক।

পুলিশ সুপার জানান, অপহরণ মামলাটির খবর নেয়ার পর নিহতের পরিবারের অবস্থা জেনে বিষয়টি তাকে বেশ পীড়া দিয়েছে। কোনো ক্লু না পেয়ে মানসিকভাবে বেশ অশান্তিতেও ছিলেন।

তিনি বলেন, তদন্তটি সম্পূর্ণ নিজে তত্ত্বাবধান করেন। অবশেষে ওই গ্রামের এক কিশোরের তোলা গাড়ির ছবির বিষয়টি জানতে পারেন। তার কাছ থেকে ছবি নিয়ে মহাসড়কে বিভিন্ন টোল প্লাজার সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ভৈরব সেতুর সিসি টিভির ফুটেজে পাওয়া একটি গাড়ির সঙ্গে ছবির গাড়িটির মিল পাওয়া যায়।

সেই সূত্র ধরে মাইক্রোবাসের চালক ভোলা জেলার লালমোহন থানার টিটিয়া গ্রামের ইউসুফ সরদারকে ১৪ জুলাই ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার রায়ের বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয় কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার টামনিকোনাপাড়া গ্রামের মামুন মিয়াকে। তারা উভয়েই ১৫ জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

১৬ জুলাই গ্রেফতার করা হয় ভাড়াটিয়া খুনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার গৌরবধন গ্রামের শামীম সরদারকে।

এর আগে ৩০ জুন সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল অহরণের অন্যতম সহযোগী সাদেক মিয়ার ভাগনে আফরাজ মিয়াকে।

পুলিশ সুপার জানান, দুলুর চাচা সাদেক মিয়াকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ