বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:১১ অপরাহ্ন

‘জামায়াতের প্রতি প্রেম নেই, জিতলে থাকবে না সরকারেও’

‘জামায়াতের প্রতি প্রেম নেই, জিতলে থাকবে না সরকারেও’

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি বিএনপির বিশেষ কোনো টান নেই, এমনকি ভোটে জিতলে নতুন সরকারে জামায়াতের কেউ থাকবে না বলে জানিয়েছেন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কিন্তু জামায়াত নয়। বিএনপি ইসলামি আইনে বিশ্বাস করে না। বিএনপি মৌলবাদে বিশ্বাস করে না। জামায়াতের প্রতি আমাদের বিশেষ কোনও প্রেম নেই।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করলেও জোটগতভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে লড়ছেন জামায়াতের ২২ নেতা।

তবে নির্বাচনে জিতলে নতুন সরকারে জামায়াত নেতাদের থাকার কোনও সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত এখনও ফখরুলের জন্য বোঝা হিসেবে রয়ে গেছে এবং তিনি তাদের আড়ালে রাখতে চাইছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০১-২০০৬ সালে কৌশলগত কারণে বিএনপি-জামায়াত জোট গঠন হয়েছিল। তাদের সঙ্গে থাকলে ৫০টি আসনে আমরা সুবিধা পাই। এসব আসনে ব্যবধান খুব কম এবং লড়াই হাড্ডাহাডি। আমাদের ছাড়া তারা মাত্র তিনটি আসন পায়।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনের ভালো যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের বর্তমান সরকার ডানপন্থী হলেও তাদের সঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই বিএনপির। বিজেপি ডানপন্থী রাজনৈতিক দল, আরএসএস-ও তাই। কিন্তু তাদের সঙ্গে কাজ করতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। দুর্ভাগ্যবশত আমি জানি না কেন ভারত আওয়ামী লীগ সরকারের অপকর্ম এড়িয়ে যায়। যে অপকর্মে রয়েছে নির্যাতন, গুম ইত্যাদি। সাধারণ মানুষ ভারতকে দোষ দিচ্ছে, মানুষ মনে করে ভারত আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করছে। আওয়ামী লীগ দেশে ঘৃণিত রাজনৈতিক দল। কিন্তু শুধু ভারতের কারণেই তারা টিকে আছে, ভারতই আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা দেশের বাইরে ভারতের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলাম। আমরা ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম। তিনবার দেখা করেছি। ভারতীয় কূটনীতিকেরা সাক্ষাৎ করতে তেমন আগ্রহী নন বলে মনে হয়েছে। সম্ভবত তাঁরা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে দেখা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরাগভাজন হতে চাননি।

প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুলকে জিয়া পরিবারের অবর্তমানে বিএনপিকে নেতৃত্বদানকারী গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, এখানে কোনো নির্বাচনী প্রচার নেই। এটা সন্ত্রাসের রাজত্ব, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের।

নির্বাচনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগে তার (খালেদা জিয়া) অনুমতি নিয়েছি। তারেকের সঙ্গেও পরামর্শ করেছি।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করি। আমরা উদার গণতান্ত্রিক দল। আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ