মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

জি কে শামীম-খালেদের অপরাধ জগৎ : অস্ত্রধারী ২০ ক্যাডার অধরা

জি কে শামীম-খালেদের অপরাধ জগৎ : অস্ত্রধারী ২০ ক্যাডার অধরা

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:যুবলীগ নেতা খালেদ ও জি কে শামীমের কাছ থেকে ক্ষমতাসীন দল এবং অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছেন। ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং অস্ত্রবাজির সাম্রাজ্য বিস্তারে প্রভাবশালী নেতাদের তারা অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করতেন।

সঙ্গে রাখতেন অস্ত্রধারী ক্যাডার। খালেদ ও শামীম গ্রেফতার হলেও তাদের অস্ত্রধারী ২০ ক্যাডার এখনও অধরা। খালেদের ১২ এবং শামীমের ৮ জনের মধ্যে কেউ বিদেশে পালিয়েছেন, কেউ বা দেশেই আত্মগোপনে আছেন। সেখান থেকেই এলাকা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন দু-একজন।

জিজ্ঞাসাবাদে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা পূর্বাচল প্রকল্পে প্লটের জন্য ৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউছার এবং ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটও তার কাছ থেকে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের অর্থ।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতাকেও দুই দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের দু’জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিতেন। খালেদ তার সাম্রাজ্য ধরে রাখতে গড়ে তুলেছেন বিশাল ক্যাডার বাহিনী।

এর মধ্যে ১২ অস্ত্রধারী ক্যাডার সার্বক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে থাকত। কিন্তু এখন এদের কারও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। খালেদ জানিয়েছেন, অবৈধ আয়ের টাকা নিজের এবং স্ত্রীর নামে ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিনি গচ্ছিত রেখেছেন।

সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে তার তিনটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে। দেশি-বিদেশি ব্যাংকের এসব হিসাবে প্রায় ৩১ কোটি টাকা গচ্ছিত রেখেছেন তিনি।

এদিকে যুবলীগের আরেক নেতা টেন্ডার কিং জি কে শামীমও কাজ পেতে সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী নেতাদের বড় অঙ্কের অর্থ দিতেন। তার বিশাল ক্যাডার বাহিনীর বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৮ অস্ত্রধারী ক্যাডারসহ অনেকেই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

দুই যুবলীগ নেতা খালেদ এবং জি কে শামীমকে গ্রেফতারের পর দুই দফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে তারা এসব তথ্য দিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর খালেদকে ক্যাসিনো-কাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। এর দু’দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, অস্ত্র ও মাদকসহ জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে খালেদ ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছেন। ক্যাডার বাহিনীতে ঢাকার তিনজন কাউন্সিলরও রয়েছেন। যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যা মামলার তিন আসামিরও ঠাঁই হয়েছে তার বাহিনীতে।

তাদের মাধ্যমে খালেদ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। ঢাকার অপরাধ জগতের ভাড়াটে কিলার, চাঁদাবাজসহ অপরাধীদের সঙ্গেও ছিল তার গভীর সখ্য। এমনকি দুবাই প্রবাসী শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকেও তিনি এক সময় হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন।

র‌্যাব-৩-এর উপপরিচালক এবং মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফায়জুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, খালেদকে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রভাবশালী যাদের নাম বলেছেন খালেদ : জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, খালেদ যাদের নাম বলেছেন তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন।

এদের একজন খালেদের কাছ থেকে পূর্বাচল প্লটের জন্য ৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর ইসমাইল হোসেন সম্রাট একাধিক ঠিকানা বদল করে এই প্রভাবশালী নেতার বাসায় আত্মগোপন করেন।

এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউছার তার কাছ থেকে ২০১৫ সালে ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ টাকা নিয়েছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা।

আবদুর রহমান এবং নুরুল হুদা নামে দু’জন নিয়েছেন ২ কোটি টাকা। আনিছুর রহমান নিয়েছেন ৪০ লাখ টাকা। যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা দুই ঈদে তার কাছ থেকে নিয়েছেন ২০ লাখ টাকা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, খালেদ তাদের বলেছেন, ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবের ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি। তবে ঢাকার ক্লাবপাড়াসহ নগরীর ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট।

এছাড়া ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রক ছিলেন মোল্লা আবু কাউছার। দিলকুশা, মোহামেডান এবং আরমাবাগ ক্লাবের ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রক ছিলেন সিঙ্গাপুরে পলাতক যুবলীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মমিনুল হক সাঈদ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউছার যুগান্তরকে বলেন, খালেদ যদি টাকা দেয়ার দাবি করে থাকে সেটা ঠিক নয়। আর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি আমি। তবে আমি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।

ক্যাডার বাহিনীতে যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যার তিন আসামি : গোয়েন্দা সংস্থার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কীকে হত্যা করে তার প্রতিপক্ষ।

একই দিন রাতে মিল্কী হত্যায় সরাসরি জড়িত যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক এসএম জাহিদ সিদ্দিকী ওরফে তারেক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ওই সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল মতিঝিল, খিলগাঁও, রামপুরা এবং রমনার অপরাধ সাম্রাজ্য।

এ দু’জনের মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই উত্থান ঘটে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার। তারপর ধীরে ধীরে তিনি এসব এলাকার অপরাধ জগতে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। টেন্ডার, চাঁদাবাজি এবং দখলবাজি শুরু করেন তিনি। গড়ে তোলেন বিশাল ক্যাডার বাহিনী।

এই বাহিনীতে মিল্কী হত্যা মামলার তিন আসামিরও ঠাঁই হয়। এই তিনজন হলেন কাইল্লা আমিনুল, অঙ্কুর এবং উজ্জ্বল মোর্শেদ। এমনকি খালেদ বিভিন্ন এলাকায় টর্চার সেলও গড়ে তোলেন।

গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ বলেছেন, অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে তিনি তিনজন কাউন্সিলরকেও দলে নেন। এই তিন কাউন্সিলর হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক একেএম মমিনুল হক সাঈদ, আনিসুর রহমান ও রিজভী।

তাদের মধ্যে ক্যাসিনো-কাণ্ডের পর সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান সাঈদ। এদিকে তার ক্যাডার বাহিনীর অন্যতম গোড়ানের রাউফুল আলম শুভর কাছে ৪-৫টি বিদেশি পিস্তল আছে।

তার ক্যাডার বাহিনীর অন্য সদস্যদের মধ্যে কাউন্সিলর আনিসের সহযোগী পিচ্চি রুবেল, কাউন্সিলর সাঈদের সহযোগী হাসান উদ্দিন, আরামবাগ ক্লাবের প্রহরী জামাল ও সুমন, দক্ষিণ যুবলীগের এনামুল হক আরমান ওরফে ক্যাসিনো আরমান, ক্যাসিনো বকুল, ল্যাংড়া জাকির ও জিসান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খালেদ বিভিন্ন এলাকার জুয়া, টেন্ডার, মাদক ব্যবসা, পরিবহন চাঁদাবাজি, ভবন দখলসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার কথা কেউ না শুনলে তাকে টর্চার সেলে নির্মম নির্যাতন করা হতো।

এমনকি যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও তার হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ পঙ্গু হয়েছেন। অনেকে আবার দেশ ছেড়েও পালিয়েছেন।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে দুবাই প্রবাসী শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। হুন্ডির মাধ্যমে জিসানের কাছে তিনি নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। পরে অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই জিসানের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

বিদেশি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট : মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ বলেছেন, তিন বিদেশি ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্ট আছে। এর মধ্যে দুটি ব্যাংকে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন। মালয়েশিয়ার আরএইচবি ব্যাংকে আছে ৬৮ লাখ টাকা।

সিঙ্গাপুরের ইউওবি ব্যাংকে আছে দেড় কোটি টাকা। ব্যাংকক অব ব্যাংকের ট্রাভেল কার্ডে আছে এক লাখ বাথ। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে তার ছয় থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা আছে। ব্র্যাক ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে আছে আড়াই কোটি টাকা।

এনসিসি ব্যাংকে নিজের নামে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) আছে ১৯ কোটি টাকা। ব্র্যাক ব্যাংকের আরেকটি অ্যাকাউন্টে তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তারের নামে আছে ৫০ লাখ টাকা।

তার মালিকানাধীন অর্পণস প্রপার্টিজের নামে এনসিসি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে আছে ১৫ লাখ টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে আছে ১৫ লাখ টাকা।

অবৈধ আয় : তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদ তার অবৈধ আয়ের কয়েকটি উৎসের কথা বলেছেন জিজ্ঞাসাবাদে। তিনি বলেছেন, মতিঝিলের ইয়ংমেনস ক্লাব থেকে তিন মাসে ৪০ লাখ টাকা আয় করতেন।

মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাবের ক্যাসিনো থেকে তার মাসিক আয় তিন লাখ টাকা। ফুটপাত থেকে তিনি মাসিক ২০ হাজার টাকা নিতেন। শাহজাহানপুর লেগুনাস্ট্যান্ড থেকে নিতেন ৩০ হাজার টাকা। শাহজাহানপুর রেলওয়ে গেট বাজার থেকে নিতেন ৬০ হাজার টাকা।

জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানান, খালেদ বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধ আয়ের যে হিসাব দিয়েছেন, প্রকৃত আয় আরও বেশি।

জি কে শামীমের ৮ অস্ত্রধারী ক্যাডার অধরা : টেন্ডার কিংখ্যাত জি কে শামীম গ্রেফতার হলেও তার সহযোগী অস্ত্রধারী ক্যাডাররা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদার এবং বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে এসব ক্যাডার ব্যবহার করতেন শামীম। চাঁদাবাজি ও গরুর হাটের নিযন্ত্রণ নিতেও এই ক্যাডার বাহিনীকে কাজে লাগিয়েছেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জি কে শামীমের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের মধ্যে অন্যতম সজল। তার কাজ ছিল ৬ থেকে ১০ জনের একটি দল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারকে হুমকি দেয়া। এতে কোনো টেন্ডারে প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদার আর অংশ নিতেন না।

ফলে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকত না। তিনি নির্বিঘ্নে কাজ পেতেন। তার বিশেষ অস্ত্রধারী ক্যাডার দলের প্রধানের নাম আমিনুল এহসান বাবু ওরফে ডিশ বাবু। শামীমের আরেক সহযোগীর নাম দিদার। তার কাজ ছিল কমিশন সংগ্রহ করা।

শামীমের হয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত রওনক। রওনকের কাছে ছোটখাটো অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। সে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন স্থান থেকে শামীমের জন্য অস্ত্রও সংগ্রহ করেন তিনি।

এসব ক্যাডারের বাইরে শামীমের সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকত অস্ত্রধারী মোহাম্মদ হোসেন ও তার ক্যাডাররা। তার সহযোগী সাবেক ছাত্রনেতা ফাহিম খান রনি ও মিলন দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।

একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের শিষ্য এবং তার গাড়িচালক ছিলেন মিলন। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অসাধু সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করা এবং ঘুষ লেনদেনের দায়িত্বে ছিল মিল্টন।

উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর গুলশান-২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে খালেদের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে গুলশান ও মতিঝিল থানায় চারটি মামলা করে র‌্যাব।

১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় করা অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। র‌্যাব ২৭ সেপ্টেম্বর খালেদকে দুই মামলায় পাঁচ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়।

এদিকে ২০ সেপ্টেস্বর জি কে শামীমকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা করে র‌্যাব। ২১ সেপ্টেম্বর দুই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত অস্ত্র মামলায় চার দিন এবং মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ