রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি সিলেট বিভাগ’র ওয়েব পোর্টালে

ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি সিলেট বিভাগ’র ওয়েব পোর্টালে

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটালের হাওয়ায় ভাসছে দেশ। দেশকে ডিজিটাল করতে কতো স্বপ্ন আঁটছেন সরকার। কিন্তু খোদ বাতির নিচ অন্ধকার। এখনো সরকারি বেশিরভাগ ওয়েবে পাের্টালগুলোতেও লাগে নি ডিজিটালের ছোঁয়া।মোঘল আমলের প্রাচীণ ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ’র অবস্থান হলেও পুরো বিভাগজুড়ে খোঁজে পাওয়া গেলো না কোন ঈদগাহ। সিলেটজুড়ে আপনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মন্দির, আশ্রম কিছুই পাবেন না। সিলেট বিভাগের তথ্য-উপাত্ত, সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকার র্বশেষ আপডেট পেতে আপনি যদি ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্টফোন দিয়ে ক্লিক করেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এইhttp://www.sylhetdiv.gov.bd/

এই ওয়েব সাইট ভিজিট করুন। আর বামপাশে থাকা হোমপেজ থেকে ৫ম স্থানে থাকা ‘অন্যান্য প্রতিষ্ঠান’ ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করুন। দেখবেন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় কিছুই নেই। নেই মসজিদ-মন্দির, ঈদগাহ। তবে সিলেটের চার জেলার শুধূ সিলেটে আছে মাত্র দু’টি শশ্মানঘাট। আশ্রম নেই, বিভাগের চার জেলার সিলেটের বাগবাড়ির আছে শুধু এতিমখানা।৫/৭ বছর থেকে হালনাগাদ হচ্ছে না। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে ডিজিটাল দেশ হিসেবে ২০২১ ভিশন বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করছেন। ঠিক সেই মুহুর্তে খোদ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোর ওয়েবপোর্টালগুলো ডিজিটালের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। ব্যাপারটা ‘বাতির নিচ অন্ধকার’ থাকার মতোই।
খোদ বিভাগীয় কমিশনারের ওয়েব পোর্টালে অতিরিক্ত কমিশনার, রাজস্ব, সার্বিকদের প্রোফাইলে ক্লিক করলে শুধু ছটি দেখা যায়, কর্মসূচি, দায়িত্বের বিবরণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা অপশন থাকলেও এগুলোতে ক্লিক করলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়, না।
অসংখ্য-অগণিত জ্ঞানী-গুণি ও প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ যাারা লাল-সবুজের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরেছেন এমন সব খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের তীর্থস্থান সিলেট। এতদসত্ত্বেও সিলেট বিভাগের ওয়েব পোর্টালের ‘বিভাগ সম্পর্কিত’ ক্যাটাগরিতে প্রখ্যাত ‘ব্যক্তিত্ব’ অপশনে ক্লিক করলে কোনো কিছুই নেই। তার মানে প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের স্বীকৃতি এই ডিজিটাল যুগেও কি হবে না? এমন প্রশ্ন ভিজিটরদের।
দেখা গেছে, সিলেট সফরে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছিলেন, সিলেটকে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনও তথ্যপ্রযুক্তিখাতে সিলেটকে আরো উন্নত করার কথা বলেছেন। সিলেট বিভাগের ওয়েবপোর্টাল এ ভিজিট করে সিলেটের বিভিন্ন তথ্য দেখলে মনে হয় সরকারের কোনো কর্তব্যক্তি এসব ওয়েবসাইট হালনাগাদ হচ্ছে কিনা তদারকি করা তো দুরের কথা ভিজিটও করেন না।

স্থানীয় সরকার ক্যাটাগরি: এই ওয়েব পোর্টালের ‘স্থানীয় সরকার’ ক্যাটাগরিতে ক্লিক করে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি সিলেট সিটি করপোরেশন’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। তার ০১৭১৫১০৬২০৭ নাম্বারে কল দিলে কাউসার নামের এক যুবক ফোন রিসিভ করে বলেন, ভাই এটা মেহেদী হাসানের নাম্বার নয়, আমি বরিশালের বাসিন্দা।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মেহেদি হাসান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) হিসেবে ২০১০ সালের ২২ নভেম্বর ২২থেকে২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিসিকের এই দায়িত্বে ছিলেন। এরপর আরো ৬ জন এ পদে সমাসীন হয়ে দায়িত্ব পালন করে গেলেও সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ সিলেট বিভাগীয় কমিশনার এর এই পোর্টালে এরকম তথ্য বিভ্রাট রয়েছে। মমতাজ বেগম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে ওয়েবপোর্টাল বলছে অথচ এই দায়িত্বে আছেন মো. বদরুল হক।সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুধাময় মজুমদার এর নাম দেওয়া আছে অথচ এই গুরুদায়িত্বে আছেন ডা. জাহিদুল ইসলাম।ওয়েব পোর্টাল থেকে পাওয়া ০১৭১১-৮২০২৩২ এই নাম্বারে কল দিলে সুধাময় মজুমদার বলেন, তিনি ২০১৫ সালের আগস্টের দিকে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট রেড ক্রিসেন্টর ডাইরেক্টর।

এই তথ্য বিভ্রাট নিয়ে তিনি বলেন, প্রায়ই অনেক লোক আমার মুঠোফোনে কল করেন। আমি সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবগত করেছি। এটা খুব বিরক্তিকর মনে হয়। ডিজিটাইলেশন’র ছোঁয়া সরকারি ওয়েব পোর্টালে এখনো লাগেনি। তাহলে কীভাবে দেশ ডিজিটাল হবে।যারা কর্মরত ছিলেন তাদের নাম পদবী ওয়েব পোর্টালে রাখা যায়। তবে এটাও একটি ক্যাটাগরিতে পড়ে। প্রাক্তণ কর্মকর্তাদের নাম-পদবী দিয়েও কিন্তু এই তথ্যটা ওয়েবে সংরক্ষণ রাখা যায়। তা না করে আজ এতোটা বছর হালনাগাদ ছাড়াই চলছে ওয়েবপোর্টাল।
সৈয়দ হোসেন জামাল তিনি সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) শাখার দায়িত্বে আছেন বলে সরকারি এই পোর্টাল মারফত জানা যায়।তার ব্যবহৃত এই মুঠোফোন ০১৭১১-৯৬৭৯১০ নাম্বারে কল দিলে ২০১৪ সালের ২১ জুলাই থেকে চাকুরির বয়স সীমা শেষ হওয়াতে তিনি অবসর নিয়েছেন বলে শ্যামল সিলেটকে জানান। বর্তমানে তিনি রাজধানী ঢাকায় একটি প্রাইভেট চাকুরি করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ দায়িত্বে আছেন আলী আকবর।

সিলেট’র অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মৃণাল কান্তি দেব বলেন, আমাদের ওয়েব পোর্টাল তো হালনাগাদ করা আছে। তারপরও তথ্যবিভ্রাটের বিষয়টি আমি দেখবো।এব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আছলাম উদ্দিন বলেন, ওয়েবপোর্টাল হালনাগাদ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এবছরও আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সিলেটের প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবপোর্টাল আপডেট করাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ