বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯, ০৭:১৯ অপরাহ্ন

ঢাকায় আটকে আছে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের ১৫ কোটি টাকা

ঢাকায় আটকে আছে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের ১৫ কোটি টাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত রিপাের্ট : চার বছরের বকেয়া পাওনা ১৫ কোটি টাকা পাচ্ছেননা সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরা। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পাওনা পরিশোধ করছে না ঢাকার ট্যানারী মালিকরা। ফলে এবারো চামড়া ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার শংকা সিলেটে। তবে সবচেয়ে বড় শংকা ভারতে পাচারের। এ নিয়ে মাথায় হাত সিলেটের পেশাদার চামড়া ব্যবসায়ীদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দফায় দফায় সময় নিয়েও পূর্বের পাওনা পরিশোধ করেনি ট্যানারি মালিকরা। অথচ সিলেটের ব্যবসায়ীরা কোরবানীর সময় আসলে ধার দেনা বা জমি বিক্রি করে হলেও চামড়া ক্রয় করেন তারা। অথচ ট্যানারী মালিকরা চামড়া নিয়ে আর টাকা দেয়না। সরকারেরও কোন পৃষ্ঠপোষকতা নেই। তাই কেউ কেউ এ ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন। টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কেউ কেউ হার্ট এ্যাটাক করে মারাও গেছেন বলে দাবী চামড়া ব্যবসায়ীদের। জীবিকার তাগিদে সিএনজি, টমটম চালিয়ে জীবনযুদ্ধে ঠিকে আছেন কোনোমতে। সিলেটের ৫০০ ব্যবসায়ীর মধ্যে এখন আছেন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জন।

ব্যবসায়ীদের দাবী, সরকার যদি তাদের ট্যানারি মালিকদের মত স্বল্প সুধে ঋন দিত তাহলে এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারতেন তারা। সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, সরকার চামড়া খাতকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ট্যানারি মালিকদের স্বল্প সুদে টাকা ঋন দিচ্ছে। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা সেই টাকা চামড়া খাতে ব্যয় না করে ব্যয় করছে অন্য খাতে। আমরা চাই তারা মাঠ পর্যায়ে চামড়া ক্রয় করে বিল ভাউচারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সাথে টাকার লেনদেন করবে।
দক্ষিণ সুরমার চামড়া ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী বলেন, এক সময় এই চামড়া ব্যবসা খুব লাভজনক ছিলো। কিন্তু এখন লোকসানের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সরকার বা কোন ব্যাংক থেকে জেলা পর্যায়ে চামড়া শিল্পের উপর কোন ঋন দেয় না। আমরা ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা না বাঁচলে এই ব্যবসা বাঁচবে না।
জানা গেছে, মাঝারি সাইজের প্রতিটি গরুর চামড়া ৭ থেকে ৯ বছর আগে দাম ছিলো ১৩০০ থেকে ১৯০০ টাকা। আর এখন এটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বেশি দামে কেনা সম্ভব নয় বলে।

সিলেট শাহজালাল বহুমুখী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, আমরা দিন দিন ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছি একমাত্র সরকার ও ট্যানারি মালিকদের কারণে। চামড়া খাতে বরাদ্দকৃত টাকার সঠিক ব্যবহার হয় না। আমরা টাকা পাইনা। তাই সরকারকে সরাসরি এই শিল্পের দিকে নজর রাখতে হবে। আমাদের বাকি টাকা পরিশোধ না করলে এই চামড়াগুলো সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার আশংকা অনেকগুন বেড়ে যাবে। এতে করে সরকার এই চামড়া থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। আর আমরা ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা বাঁচলে দেশের চামড়া শিল্প বাঁচবে। তিনি বলেন, ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীরা সরকারকে ধোঁকা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারা স্বল্প সুদে ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে অন্য ব্যবসা করছে। কেউ কেউ সিনেমা ব্যবসায়ও বিনিয়োগ করছে। তিনি বলেন, সিলেটে এবার প্রচুর চামড়া নষ্ট হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

এদিকে ঢাকায় ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায়ে শাহজালাল বহুমুখী সভাপতি শেখ শামীম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহজাহান গত ১ সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। গতকাল পর্যন্ত তারা কোন টাকা পাননি বলে জানান তিনি।
সিলেট প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেট জেলায় চলতি বছর কোরবানী হবে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৬৫ টি পশু। আর সিলেট জেলায় ১০ হাজার ৮৪৩ টি খামারে ৮৭ হাজার ১৯০ টি গবাদিপশু রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৯৯২ টি ষাঁড়, ৯ হাজার ৭৫৬ টি বলদ, ৭ হাজার ৭৯৮ টি গাভী, ৩ হাজার ১১৪ টি মহিষ, ৯ হাজার ৭৩৬ টি ছাগল, ৫ হাজার ৬৭৬ টি ভেড়া ও ১১৮ টি অন্যান্য পশু।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ