রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মোকাব্বির

দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় মোকাব্বির

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:প্রতিষ্ঠার পর গণফোরাম থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান। একাদশ সংসদে তিনি সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচিত হন।

কিন্তু ভোটে জিতেও বিপাকে পড়েছেন মোকাব্বির খান। জোটের সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তিনি। এর মধ্যে একবার শপথ নেবেন বলে স্পিকারকে চিঠি দিয়েও আবার সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে তিনি শপথ না নিলে আসনটি শূন্য হয়ে যাবে।

শুধু দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন এবং ৯০ দিনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই তিনি শপথ নেবেন বলে আশাবাদী তিনি।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তা নির্বাচনে জিততে সাহায্য করেছে কিনা জানতে চাইলে মোকাব্বির খান বলেন, ‘না, আসনটি অত্যন্ত জটিল। এখানে একাধিকবার আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছেন, জাতীয় পার্টি জয়ী হয়েছেন এবং ইলিয়াস আলীও জিতেছেন। এই আসনে কারও একক জনপ্রিয়তা নেই।’

‘তবে ইলিয়াস আলীর ব্যাপারটা অন্যরকম। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ গুম, এটি অনস্বীকার্য যে ওনার ব্যাপারে একটি আবেগ আছে। আমিও বলেছিলাম, সংসদে যেতে পারলে ইলিয়াস আলী কোথায় আছেন অনুসন্ধানের দাবি জানাবো।’

শপথ না নেওয়ায় ভোটারদের মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কিনা জানতে চাইলে মোকাব্বির বলেন, ‘মারাত্মক প্রতিক্রিয়া আছে। শুনলাম, শত শত লোক আমার দলীয় প্রধানকে চিঠি লিখছেন যে, আপনি (ড. কামালা হোসেন) সারাজীবন গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, আজকে কার স্বার্থে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সংসদে যেতে দিচ্ছেন না?’

শুধু কি দলের সিদ্ধান্তে শপথ নিচ্ছেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দল ইতিবাচক আছে, কিন্তু আগামীকাল বা পরশু নেব, এমন অবস্থানে নেই।’

শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত একাই নিয়েছিলেন উল্লেখ করে মোকাব্বির বলেন, ‘প্রতি বৈঠকেই দল ইতিবাচক ছিল। আমি ধরেই নিয়েছিলাম, এটা কনভেনশন হয়ে গেছে। তাছাড়া এলাকার একটি অনুষ্ঠানে আমি কথা দিয়েছিলাম যে, মার্চে শপথ নেব।পরে দলের সিদ্ধান্তে তা পরিবর্তন করি।’

দল অনুমতি না দিলে কী করবেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, দলকে বোঝাতে পারবো। এটি জনগণের ম্যান্ডেট, দল এটিকে বিবেচনায় নেবে না, আমার বিশ্বাস হয় না।’

তার মানে আপনি শপথ নেবেন- এই প্রশ্নের উত্তরে মোকাব্বির বলেন, ‘হ্যাঁ, দলীয় সিদ্ধান্তেই আমি শপথ নেব। আমি খুবই আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘গণফোরাম ইতিবাচক আছে, কিন্তু সমস্যা হলো ড, কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টেরও নেতা। গণফোরাম সিদ্ধান্ত নিলে ওনাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদি ঐক্যফ্রন্টের ফোরামে আলোচনা করে একসাথে যেতে পারি, সেটি চমৎকার।’

নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন নাই, তারা জনগণের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন; আর আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও সেখানে জনগণের কথা বলতে পারবো না- আমার মনে হয় না মানুষ এটিকে যুক্তিসঙ্গত মনে করবে।’

বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে মোকাব্বির বলেন, ‘এই যে অসুস্থ, বর্জনের রাজনীতি, সেটি একদিনে হয়নি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুই দলই সেটি করছে। ক্ষমতায় গেলে আর ছাড়তে চায় না, আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়।’

গণফোরাম শপথের অনুমতি দিলেও যদি ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলো মেনে না নেয় তখন কী করবেন জানতে চাইলে মোকাব্বির বলেন, ‘তাদেরকে যুক্তি দিয়ে বোঝাব। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যদি সংসদে না যাই, তাহলে সেখানে উপ-নির্বাচন হবে, আসন তো শূন্য থাকবে না। তখন ক্ষমতাসীনরা বলবে, ঐক্যফ্রন্ট জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে জানে না।’

মোকাব্বির খান বলেন, ‘সরকারকে সেই সুযোগটা দিতে চাচ্ছি না। আমার অভিমত হলো, আটটি আসন ছাড়া যে অনিয়ম হয়েছে সেটি সংসদে গিয়ে বলবো। ক্ষমতাসীন দলের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, তা জনগণকে জানাবো।’

‘আমরা আট জন যদি সংসদে যাই, তবে সারাদেশের মানুষের পক্ষে কথা বলবো। সারাদেশের মানুষের বক্তব্য তুলে ধরবো।’

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে মোকাব্বির বলেন, ‘আমাদের আবেদন আলাদা ছিল। ওনার রাজনীতি আমার রাজনীতি থেকে ভিন্ন। আমার সিদ্ধান্ত আমার দল, এলাকার জনগণকে বাদ দিয়ে নয়।’

দল থেকে বহিষ্কারের ভয়ে শপথ নেওয়া থেকে বিরত আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই না। আমাকে বোঝাতে হবে কোন কারণে আমি শপথ নেব না। আর আমি দলকে বোঝাব, কী জন্য শপথ নেওয়া উচিত।’

দল থেকে শপথ নেওয়ার অনুমতি পাবেন বলে আশাবাদী মোকাব্বির খান। নির্বাচনের পরে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতদের শপথ না নেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার মতামত নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ