সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:৪৯ অপরাহ্ন

‘ধানের শীষ মানে দুর্নীতি, নৌকা মানেই সমৃদ্ধি’

‘ধানের শীষ মানে দুর্নীতি, নৌকা মানেই সমৃদ্ধি’

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধানের শীষ মানেই দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাৎ। আর নৌকা মানেই স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি, জনগণের ভাগ্যবদল ও কল্যাণ, যার শুভফল মানুষ ভোগ করছে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলেই মানুষের জীবনের আয়-রোজগার বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। দেশের অর্থনীতি আরও উন্নত হবে। বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমাদের লক্ষ্য। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আসি নাই। আমরা সরকার পরিচালনা করি মানুষের জন্য। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে রোল মডেল। বাংলাদেশের মানুষ সুস্থভাবে বাঁচবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর ৬ বছর আমাকে জিয়াউর রহমান দেশে ফিরতে দেয়নি। পরে আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। দেশে ফিরে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করি। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারে এসে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়। পিছিয়ে দেওয়া হয় দেশকে। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষের দেশ নয়, উন্নয়নের রোল মডেল। আজকে কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না। বাজেট বাড়িয়েছি ৭ দশমিক ৬ ভাগ। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে এসে দেখি এই ঢাকা শহরেই পানির অভাব, বিদ্যুৎ নাই, লোডশেডিং, রাস্তাঘাট নাই। ছিনতাই-জঙ্গিবাদতো ছিলই। সব কিছু কাটিয়ে উঠেছি আমরা। ২০০৮ সালে যেখানে আমাদের বিদ্যুৎ ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট, এখন আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের ভাগ্যবদল নয়, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। আগে চিকিৎসার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ওই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হতো। আজকে প্রত্যেকটি এলাকায় হাসপাতাল করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কেবল বিত্তশালীদের দিকে তাকায় না, নিম্নবিত্তের লোকজনের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও কাজ করে। স্বল্প আয়ের মানুষ যেন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করবো। যেন কেউ দৈনিক হারে, সাপ্তাহিক হারে বা মাসিক হারে ভাড়া দিতে পারে। স্বল্প-নিম্ন আয়ের সব মানুষ যেন সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রত্যেকের হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। বিএনপির একজন মন্ত্রী ছিলেন, মোবাইল ব্যবসা করতেন। তখন একটা মোবাইল ফোন কিনতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগতো। কল করলেও ১০ টাকা, ধরলেও ১০ টাকা। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন, আমরা এই সুযোগ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার করে দিয়েছি। ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে। পাতাল ট্রেনের ব্যবস্থা করবো। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করবো। রাজধানীর আশপাশে অনেক ইউনিয়ন ছিল, সেগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় এনে দিয়েছি, যেন মানুষ নাগরিক সুবিধা পায়। আমাদের লক্ষ্যই এ দেশের মানুষের উন্নয়ন করা।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের স্থান বাংলাদেশে নেই। এই গুলশানেই হলি আর্টিজানে হামলা হয়েছিল। অনেকে ভেবেছিল এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা দ্রুত সেই অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছি। কঠোর হাতে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। মাদক নির্মূলে অভিযান শুরু করেছি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, গুলশানে যখন হলি আর্টিজানে হামলা হলো, সবাই ধারণা করেছিল এর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কিন্তু মাত্র ৮-৯ ঘণ্টায় আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এরপর থেকে আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। জীবনমান উন্নত হয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, বেতন-ভাতা বেড়েছে সবার। আয়-রোজগারও বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করি না। এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল তারই পছন্দের ইয়াজউদ্দিন আহমেদ-ফখরুদ্দিন আহমেদ-মইন ইউ আহমেদের সরকার। সেই মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে। এতিমের টাকা চুরি করলেতো শাস্তি ভোগ করতেই হবে, এটা কোরআনেরও বিধান।

এসময় ঢাকার বিভিন্ন আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচনে তাদের জন্য ভোট চান। উপস্থিত জনতা হাত তুলে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ