বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ১১:২২ অপরাহ্ন

নগরীতে যেখানে বসা নিষেধ, সেখানেই বসে হকার!

নগরীতে যেখানে বসা নিষেধ, সেখানেই বসে হকার!

ছবি : এমরান ফয়সল

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠছে ফুটপাতে ব্যবসাকারী হকাররা। কোনোভাবেই তাদের ফুটপাত থেকে তাড়ানো যাচ্ছে না। শুধু ফুটপাতই নয়, এসব হকাররা এখন রীতিমত রাজপতও দখল করে রেখেছে। যে কারণে নগরীতে জনযটের পাশাপাশি যানজটও তীব্র হয়ে ওঠছে।

উচ্ছেদ ইস্যু নিয়ে মেয়রের সঙ্গে হকারদের ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনাও। খোদ মেয়রকেও আক্রান্ত হতে হয়। ফুটপাতে ব্যবসাকারী হকাররা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। ফুটপাত থেকে সকালে তাড়িয়ে দিলে হকাররা বিকেলে ফিরে আসে পুরনো ঠিকানায়। তাই কোনোভাবেই দখলমুক্ত হচ্ছে না নগরীর ফুটপাত।

অন্যদিকে আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও হকাররা কীভাবে ফুটপাত দখল করে রাখে এমন প্রশ্নও সিলেটের সাধারণ মানুষের।

জানা গেছে, সিলেট নগরীর সড়ক আর ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এমনকি মেয়র ফুটপাত ছাড়তে হকারদের প্রতিদিনই দিচ্ছেন নানা হুমকি, আল্টিমেটাম। দিনশেষে ফলাফল শূণ্য! ফুটপাত থেকে সকালে হকার তাড়ালে বিকেলেই তারা ঠিকানা গেঁড়ে বসে সেই ফুটপাতেই। সিটি কর্পোরেশন তাদের অভিযানের খবর ফলাও করে প্রচার করলেও হকার উচ্ছেদে তেমন সাফল্যের চিত্র চোখে পড়েনি।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর অধিকাংশ সড়ক আর ফুটপাত এখনও রয়েছে হকারদের দখলেই। তারা এখন ফুটপাতের পাশাপাশি রাজপথও দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছে।

আর এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নগরীর প্রধান সড়ক চৌহাট্রা-বন্দরবাজার, বন্দরবাজার-সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, বন্দরবাজার-রংমহল পয়েন্ট সড়কের ফুটপাত ছাড়িয়ে বেশিরভাগ সড়কই হকারদের দখলেথাকে। এমনকি নগরভবনের প্রধান ফটকের সামনটিও রয়েছে হকারদের দখলে। যার ফলে এসব সড়কেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

অপরদিকে ফুটপাত উচ্ছেদে সিসিক মেয়রের অব্যাহত অভিযানটি অনেকটা চোর-পুলিশ খেলায় রূপ নিয়েছে। মেয়র যতক্ষণ অভিযানে থাকেন ততক্ষণ হকারমুক্ত থাকে সড়ক আর ফুটপাত। কিন্তু মেয়রের প্রস্থান হলেই ফের সড়ক-ফুটপাত দখলে যায় হকারদের!

সিলেটে ফুটপাতে হকার সমস্যা অনেক পুরনো; দীর্ঘ দিনের। নগরীর ফুটপাত আর সড়কের অনেকাংশ দখল করে নিজেদের পণ্যের সমাহার ঘটিয়ে বসেন হকাররা। এতে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারছেন না পথচারীরা।

ফলে সড়কজুড়ে লেগেই থাকে যানজট। প্রথম মেয়াদে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর অন্যতম প্রধান এ সমস্যা নিরসনে তৎপরতা চালান। হকার উচ্ছেদে নামেন অভিযানে। এনিয়ে মেয়রের সঙ্গে হকারদের ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনাও। খোদ মেয়রকেও আক্রান্ত হতে হয়। তবুও থেমে থাকেন নি মেয়র। দ্বিতীয় মেয়াদে এসেও হকার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখলেও খুব একটা সাফল্যের মুখ দেখতে পারেছেন না। হকারমুক্ত হচ্ছে না নগরীর সড়ক আর ফুটপাত।

৯ মে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্রায় অভিযান চালায় সিটি কর্পোরেশন। এসময় রাস্তার দু’পাশের ফুটপাত দখল করে ইফতারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনার দায়ে বিপুল পরিমাণ মালামাল ও আসবাবপত্র জব্দ করা হয়।

সর্বশেষ ১৫ মে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্রা সড়ককে দখলমুক্ত করতে গাড়ির অবৈধ স্ট্যান্ড ও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালান মেয়র। ওই অভিযানে কমপক্ষে ৪টি মোটরসাইকেল, ৩টি বাইসাইকেল এবং ফুটপাত ও রাস্তার পাশের অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করে বিপুল পরিমাণ মালামাল ও আসবাবপত্রও জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেট’র সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আন্তরিক থাকলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা কঠিন কাজ না। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি মেয়র ছাড়া আর কোনো সংস্থার কোনো ধরণের তৎপরতা নেই উল্লেখ করে সুজন সভাপতি বলেন, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থ জড়িত এই ফুটপাতে। সরকার দলের নেতাদের চেয়েও শ্রমিক নেতাদের হাত অনেক লম্বা। তা না হলে আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও হকাররা কীভাবে ফুটপাত দখল করে রাখে। উচ্ছেদ করায় হকাররা কীভাবে মেয়রের ওপর হামলা চালায় এমন প্রশ্নও সুজন সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর।

এদিকে নগরীর সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও সিটি কর্পোরেশন ছাড়া সরকারি অন্য কোনো সংস্থার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নেই কোনো তৎপরতা। সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জনসাধারণ, প্রশাসন, শ্রমিক নেতা এবং সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে এককভাবে এ সমস্যা নিরসন করা সম্ভব না।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই নগরীর কোনো না কোনো সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছি। এ ব্যাপারে সবাই আন্তরিক না হলে আমি একা কত করবো? সবার সহযোগিতা ছাড়া ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। সবাই যদি আইন মানতো, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতো তাহলে এ সমস্যা তৈরি হতো না। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মানসিকতায় সমস্যা রয়েছে। মেয়র বলেন, একদিকে উচ্ছেদ করি আরেক দিকে হকাররা এসে বসে যায়।

ঈদের পরপরই টাউন বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন, সড়ক বহুমুখী করার পরিকল্পনা হচ্ছে। এসব হয়ে গেলে হকার সমস্যাও থাকবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ