মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

নগরীতে ৩ মাসে গ্রেফতার ৩শ’ জুয়াড়ি, কিশোর ‘জুয়াড়ি’ নিয়ে উদ্বেগ

নগরীতে ৩ মাসে গ্রেফতার ৩শ’ জুয়াড়ি, কিশোর ‘জুয়াড়ি’ নিয়ে উদ্বেগ

ফাইল ছবি

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট:নগরীর তালতলায় পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হওয়া জুয়াড়ীরা। যাদের অধিকাংশই কিশোর। -ফাইল ছবি মো. নাসির উদ্দিন: নানা অপরাধের পর জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান জুয়া বিরোধী ‘কম্পিং’ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এসব অভিযানে বৃদ্ধ, যুবকদের পাশাপাশি অসংখ্য শিশু-কিশোর জুয়াড়ি আটক হওয়ার পর উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়েছে সচেতন মহলে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও।
কী কারণে শিশু, কিশোররা জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ছে-সে ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে, জুয়া খেলাসহ নানা অপরাধে শিশু-কিশোরদের জড়ানোর জন্য তাদের অভিভাবকদের দায়ি করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সচেতন মহলও।
শিশু-কিশোরদের রক্ষা করতে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষাকে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা। জুয়া বন্ধে সামাজিক আন্দোলনের বিষয়েও গুরুত্বারুপ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা।
সিলেটে জুয়া খেলা নতুন নয়। আগে বিভিন্ন ক্লাব এবং হোটেল কেন্দ্রীক বসতো জুয়ার আসর। সেসব আসরে অংশগ্রহণ ছিল পেশাদার ও সৌখিন জুয়াড়ীদের। প্রত্যন্ত অঞ্চলের পেশাদার জুয়াড়ীদের নিয়ে নিয়মিত জুয়ার আসর চলত। কিন্তু হালনাগাদ জুয়া খেলার ধরণ ও শ্রেণী পরিবর্তন হয়েছে। ভারতীয় শিলং তীর জুয়া খেলায় বিভোর ছেলে-বুড়োরা। যেখানে-সেখানে বসছে জুয়ার আসর।

এসব জুয়ার আসরে অংশ নেওয়া অধিকাংশই দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের লোকজন। রাতারাতি টাকাওয়ালা হওয়ার ধান্ধায় তারা জড়াচ্ছে জুয়া খেলায়। আর জুয়ার আসরে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ হচ্ছে শিশু-কিশোর। ফলে জুয়ার নেশায় নানা অপরাধেও যুক্ত তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব-পুলিশের জুয়া বিরোধী তৎপরতা জোরদার এবং ঘন ঘন অভিযানে ইতোমধ্যে কয়েকশ’ জুয়াড়ি ধরা পড়েছে। যাদের মধ্যে অসংখ্য শিশু কিশোর জুয়াড়িও রয়েছে।
১৮ আগস্ট রাতে নগরীর সোবহানীঘাট ও সুরমা মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৯’র সদস্যরা। সোবহানীঘাটের একটি টান্সপোর্ট এজেন্সিতে বসা জুয়ার আসর থেকে আটক করা হয় ১৩ জুয়াড়ীকে। আর সুরমা মার্কেটের বদরুল রেস্টহাউজের জুয়ার আসর থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়। এ দুই অভিযানে ধরা পড়া ২০ জন জুয়াড়ীর মধ্যে শিশু-কিশোর ছিল ৭জন। যাদের বয়স ১৭ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অভিযানে তিন মাসে অন্তত; ৩শ’ জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করা হয়। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যা শিশু-কিশোর, যুবক রয়েছে বলে জানিছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুছা।
তিনি বলেন, শীলং তীরসহ বিভিন্ন ধরণের জুয়ার বোর্ড থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য লোকজনকে আটক করা হচ্ছে। কিন্তু আটকের পর মামলায় কারাগারে প্রেরণ করলেও জামিনে বেরিয়ে এসে ফের জুয়া খেলায় মনোনিবেশ করছে তারা। এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুরক্ষায় কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জুয়া খেলা বন্ধ করা যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। তাই শিশু কিশোরদের জুয়া খেলা থেকে বিরত রাখতে অভিভাবক মহলকে সচেতন হতে হবে।
এদিকে, সোমবার সাত জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সরকারের ৫২ সদস্যের প্রতিনিধি দল তামাবিল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতের শিলংয়ে যান।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ডিসি-ডিএম সম্মলন শেষে বুধবার সন্ধ্যায় তামাবিল ইমিগ্রেশন দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতা জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সম্মলনে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বন্ধসহ বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে সফল আলোচনা হয়। এরমধ্যে শিলং তীর নামক জুয়া খেলার ভয়াবহতা নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দুই পক্ষই একসাথে কাজ করার প্রয়াস ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন সরকারের এই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ