মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

নানক-সাদেক খানের কর্মীদের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ২ কিশোরের

নানক-সাদেক খানের কর্মীদের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ২ কিশোরের

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক : ঢাকার মোহাম্মদপুরে নবোদয় হাউজিং এলাকায় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের কর্মীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে পিকআপ ভ্যান চাপায় দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া দুই কিশোরের নাম সুজন (১৭) ও আরিফ (১৫)। এরা নবীনগর হাউজিংয়ের বাসিন্দা।

সংঘর্ষের প্রত্যক্ষদর্শী লোহার গেট এলাকার মোহাম্মদিয়া হোমসের নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল জব্বার বলেন, ‘একটি পিকআপ ভ্যানে করে আসা বেশকিছু লোক লোহার গেট এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকভ্যানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় সবাই ছুটোছুটি করছিল। এর মধ্যে এক চালক পিকআপ ভ্যানটি ঘোরাতে গেলে এর নিচে আরিফ ও সুজন চাপা পড়ে।’

সুজনের বন্ধু মো. আমিন জানান, সুজন নবীনগর হাউজিংয়ের ১০ নম্বর রোডে থাকত। পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করে সে। তার বাবার নাম রুহুল আমিন।

সকালে কাজে যাওয়ার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুর আলম তাদের একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার দাওয়াত দেয়। এ জন্য তারা ১০/১২ জন বন্ধু মিলে নবোদয় হাউজিংয়ের লোহার গেটে যায়। সেখানে একটি পিকআপে ওঠেন তারা। এরপরপরই কিছু লোক পিকআপ ভ্যানে ঢিল ছুড়তে থাকে। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই পিকআপ ভ্যান থেকে সবাই তাড়াহুড়ো করে নামতে শুরু করে। পিকঅ্যাপ ভ্যানটি ব্যাকগিয়ারে চলতে থাকে। এ সময় সুজনসহ বেশ কয়েকজন লাফিয়ে পড়ে। এ সময় পিকআপ ভ্যানটি সুজন ও আরিফের ওপর দিয়ে উঠে যায়।

আহত অবস্থায় সুজনকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত আরিফকে নেওয়া হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে আরিফের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এছাড়া নবোদয়ের পাশাপাশি আদাবরের ১০ ও ১৬ নম্বর সড়ক, শম্পা মার্কেট এলাকা এবং উত্তর আদাবরের সুনিবিড় হাউজিংয়েও একই সময়ে সংঘর্ষ বাধে। তাতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘দুইপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছিল। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।’

তবে হামলার বিষয়ে সাদেক খান বলেন, ‘যুবলীগ নেতা তুহিনের নেতৃত্বে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’

আদাবর থানা যুবলীগের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম তুহিন জাহাঙ্গীর কবির নানকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এ বিষয়ে তুহিন বলেন, ‘আমার কোনো কর্মী এই হামলায় জড়িত নয়। অন্য কেউ হামলা চালিয়ে আমাকে দোষারোপ করছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ