শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১৯ অপরাহ্ন

পৃথিবী বাঁচাতে সময় আর দেড় বছর?

পৃথিবী বাঁচাতে সময় আর দেড় বছর?

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:গত বছর বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, পৃথিবীকে বাঁচাতে আর সময় আছে মাত্র ১২ বছর। এক বছর না গড়াতেই এখন বলা হচ্ছে- ১২ বছর নয়, সামনের দেড় বছরের মধ্যে পৃথিবীকে রক্ষা করতে হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তন বিষয়ে জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের দল ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) গত বছর বলেছিল, এই শতকের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে চাইলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে। খবর বিবিসির।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতটা সময় আর হাতে নেই। কার্বন নির্গমন কমাতে একেবারে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে ২০২০ সালের আগেই। পৃথিবী রক্ষায় ২০২০ সাল শেষ সময়সীমা- সেটা বিশ্বের কয়েক জন শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু বিজ্ঞানী প্রথম ঘোষণা করেন ২০১৭ সালে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী এবং পটসড্যাম ক্লাইমেট ইন্সটিটিউটের হ্যান্স জোয়াকিম শেলনহুবার বলেন, ‘জলবায়ুবিষয়ক অংকটা বেশ নির্মমভাবেই স্পষ্ট এখন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়তো পৃথিবীর ক্ষত সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়, কিন্তু ২০২০ সালের মধ্যে অবহেলার মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারি।’

ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসও সম্প্রতি কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী ১৮ মাসেই নির্ধারিত হবে আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনকে আমাদের টিকে থাকার মাত্রায় আটকে রাখতে পারব কিনা।’

কেন ১৮ মাস : আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আছে। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রয়েছ এ চুক্তিটির একটি ‘রুলবুক’ তৈরির জন্য।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে আরও ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছিল। গত বছর আইপিসিসির রিপোর্টে কার্বন নির্গমন বৃদ্ধির হার ২০২০ সালেই থামিয়ে দেয়ার টার্গেট নেয়া হয়েছিল। সেটিও সেভাবে আলোচনা হয়নি। প্রায় সব দেশেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো সাধারণত পাঁচ বা দশ বছরমেয়াদি।

কাজেই ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে পরিকল্পনাগুলো টেবিলে হাজির করতে হবে ২০২০ সাল শেষ হওয়ার আগেই। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের ডাকা ২৩ সেপ্টেম্বরের বিশেষ জলবায়ু সম্মেলনটি সফলভাবে সম্পন্ন হতে হবে।

গুতেরেস বেশ খোলাখুলিই বলেছেন, কোনো দেশ যদি তাদের কার্বন নির্গমনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব করতে পারে, তবেই যেন তারা এ সম্মেলনে আসে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ চিলির সান্টিয়াগোতে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ বলে একটি সম্মেলন হবে। এরপর ২০২০ সালের শেষ নাগাদ ব্রিটেনে জলবায়ু সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের অধ্যাপক মাইকেল জ্যাকবস বলছেন, যদি সামনের বছর ব্রিটেনের জলবায়ু সম্মেলনের সুযোগ যদি কাজে লাগানো না যায়, তাহলে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য অর্জনের কোনো সুযোগ থাকবে না।’

আশার কথা হল, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সুইডেনের স্কুলছাত্রী গ্রেটা থানবার্গের আন্দোলন অনেককে উজ্জীবিত করেছে।

‘এক্সটিংশন রেবেলিয়ন’ নামের বিপ্লবী পরিবেশবাদী গোষ্ঠীর আন্দোলনও জনমতকে প্রভাবিত করেছে। মানুষ এখন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছে। অনেক দেশেই রাজনীতিকরাও এখন এটা নিয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন। ব্রিটেন তো ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিজ্ঞা করেছে। পাশাপাশি আশঙ্কার কারণও রয়েছে।

ব্রিটেনে যখন সামনের বছর এই জলবায়ু সম্মেলন হবে, ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো পাকাপাকিভাবে প্যারিস চুক্তি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গেলে এবং ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বিজয়ী হলে উল্টোটাও হতে পারে। এছাড়া বেশ কয়েকটি দেশ জোট বেঁধে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকানোর কাজে বাগড়া দেয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, কুয়েত এবং রাশিয়া।

জলবায়ু তহবিল গঠনের ঘোষণা নতুন ইইউ প্রধানের : ভবিষ্যতের ইউরোপ গঠনের লক্ষ্যে বিশেষ জলবায়ু তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন নতুন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লিয়েন।

বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতেউজ মোরাউয়েকির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। উরসুলা বলেন, ভবিষ্যতের ইউরোপ গড়তে আমরা একটি সম্মেলনে বসতে চাই। ইইউ’র সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে বসে আমাদের নাগরিকরা ভবিষ্যতের ইউরোপকে কেমন দেখতে চায় সে বিষয়ে জানতে চাই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ