মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে গোয়াইনঘাটে পর্যটকদের ঢল

প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে গোয়াইনঘাটে পর্যটকদের ঢল

নিউজটি শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পটগুলোতে বরাবরের ন্যায় এবারো ঈদ আনন্দকে ভাগাভাগি করতে পর্যটক দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। জাফলং জিরো পয়েন্ট, ফাটাছড়া মায়াবতী ঝর্ণা,রাতারগুল, সোয়াম ফরেষ্ট,বিছনাকান্দিসহ সবকটি স্পটই যেন লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। পিকনিক সেন্টার,জিরো পয়েন্ট, খেয়াঘাট সর্বত্রই শুধু পর্যটক আর পর্যটক। এবারের ঈদের অতিতের ন্যায় জাফলংয়েই বেশি উপস্থিতি পর্যটক,দর্শনার্থীর।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের তামাবিল থেকে জাফলং বিজিবি ক্যাম্প, জাফলং বল্লাঘাটসহ প্রকৃতির কন্যা জাফলংয়ের সড়ক ছিল দীর্ঘ যানজটে আবদ্ধ। পর্যটক দর্শনার্থীরা পায়ে হেটে শত কষ্টেও ছুটে চলেছেন প্রকৃতির কাছাকাছি। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে পর্যটন স্পটগুলো। কোথাও কোন জায়গা খালি ছিলনা।

ভারতের মেঘালয়ের দন্ডায়মান সবজু বিস্তৃত পাহাড়, টিলা, পাহাড়ের গায়ে মেঘের আভা, ভয়ে আসা নদী ও ঝর্ণাধারার নির্গত স্বচ্ছ জলারাশির সাথে খেলা করে সাঁতার কাটায় বিমুগ্ধ পর্যটকরা।

শুক্রবার সরেজমিন জাফলংয়ে ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার পর্যটক দর্শনার্থীর ভিড়। পযর্টক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকা । বিজিবি ক্যাম্প ঘেষা সদ্য নির্মিত সিঁড়ি বেয়ে পর্যটকরা নিরাপদে জিরো পয়েন্টসহ আশপাশে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা করে দেয় প্রশাসন। ডিঙ্গি নৌকা, ইঞ্জিল চালিত বড় নৌকা কিংবা স্পীডবোডে পরিবার পরিজন কিংবা বন্ধু বান্ধবদের সাথে নিয়ে ঈদের আনন্দের সময়টুকু কাটাতে তারা ছুটে আসেন জাফলং, রাতারগুল, পান্তুমাই মায়াবতি ঝর্ণা, বিছনাকান্দিসহ অত্রাঞ্চলের সবকটি পর্যটন স্পটে। বিছানাকান্দিতেও জাফলংয়ের ন্যায় পাহাড়, নদী আর স্বচ্ছ জলারাশির মাঝে পর্যটকদের দীর্ঘ পদযাত্রা লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজিমেন দেখা যায়, রাতারগুলেও ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে নিরব নিস্তব্ধ বনের ভিতর ঘুরে বেড়িয়ে ব্যাকুল হৃদয়কে প্রকৃতির উদারতায় ভরে তোলার চেষ্টা করেছেন আগত পর্যটক দর্শনার্থীরা।

বিছনাকান্দি ও রাতারগুলের পাশাপাশি জৈন্তাপুরের লালাখাল, গোয়াবাড়ী, শ্রীপুর, কোম্পানিগঞ্জের সাদা পাথর স্পটটিও পর্যটক দর্শনার্থীর নজর কেড়েছে। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুলসহ আশপাশের পর্যটক স্পট সমূহে পর্যটক দর্শনার্থীর আগমন বেশি হলেও তাদের কষ্টের অন্ত নেই। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের তামাবিল হতে জাফলং-৪ কিলোমিটার, সারীঘাট থেকে গোয়াইনঘাট হয়ে বিছনাকান্দি যাওয়ার পথে সড়কের খনাখন্দ গর্তময় সড়কে যানবাহন আটকে পর্যটকদের দূর্ভোগ আর ভোগান্তির চিত্র ছিলো চোখে পড়ার মতো। ঈদ উপলক্ষ্যে জাফলংসহ আশপাশে গড়ে উঠা সবকটি আবাসিক হোটেল, রেষ্ট হাউস, কটেজ, রিসোর্টগুলোআগেই বুকিং হয়ে গেছে বলে জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। খাবার হোটেল এবং পর্যটন কেন্দ্রীক গড়ে উঠা দোকানগুলোতে বেচাকেনা বেড়েছে বহুগুণ।

সরেজমিনকালে কথা হয় পর্যটক দর্শনার্থীদের সাথে। গজারিয়া মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক ইসমাইল আলী পেশায় একজন সবজি ব্যবসায়ী। তিনি জানান,পরিবার পরিজনকে নিয়ে তিনি সিলেট হয়ে জাফলং বেড়াতে এসেছেন। পথিমধ্যে সড়ক যোগাযোগের ভোগান্তির কারণে কষ্টের শিকার হন তারা। জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করে বিমুগ্ধ হয়ে তিনি বলেন, জাফলং আসতে সড়কে যে কষ্ট হয়েছে তা ভুলিয়ে দিয়েছে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম প্রাকৃতির দৃশ্যাবলি। এক জায়গায় পাহাড়,টিলা, মেঘ,বহমান নদী, সবুজ বিস্তৃত দিগন্ত জোড়া সুবজ বৃক্ষারাজি, নুড়ি পাথর, স্বচ্ছ জলারাশিতে সাঁতার কাটা, পাহাড়ের বুক ছিড়ে আসা স্বচ্ছ পানির ঝর্ণাদ্বারান স্বচিত্র দৃশ্যাবলি আমাদের এখানে আসার উপলক্ষ্যে ভরিয়ে দিয়েছে।

অভয়নগর যশোর থেকে আসা ৪০জনের একটি ঈদ ভ্রমণ প্যাকেজ টিমের প্রধান নিয়ামুল কবির। তিনি জানান, আমাদের এই প্যাকেজ ট্যুরে সমাজের সব শ্রেণী পেশার মানুষ আছেন। বাসে করে এখানকার সৌন্দর্য্য অবলোকনে আমরা এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে আমরা অভিভূত। তবে সরকারের কাছে আমাদের সবিনয় অনুরোধ দ্রুত জাফলংয়ের মতো এত দৃষ্টিনন্দন স্পটকে পর্যটন অবকাঠামো ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত করে আধুনিকায়ন করা হোক।

শুক্রবার বিকাল ৩টায় বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রে কথা হয় ঘুরতে আসা নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানার পর্যটক সালমান বেপারীর সাথে। তিনি জানান, ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত জাফলং ও রাতারগুল ঘুরে বিছনাকান্দি এসেছেন। জাফলং রাতারগুলের মতোই মনোলোভা স্পট বিছনাকান্দি। জাফলং, বিছনাকান্দির পাথর উত্তোলন নামক ধ্বংসলীলা চিরতরে বন্ধ করে একটি পরিবেশ নিরাপত্তার বেষ্টনীভূক্ত করে পর্যটনের জন্য বিনিয়োগ করলে আমার বিশ্বাস জাফলং ও বিছানাকান্দি থেকে সরকারের বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব।

রাতারগুল ভ্রমণ করে আসা জাফলং অভিমুখের ঢাকা বংশাল থেকে আসা পর্যটক আব্দুস সামাদ জানান, গোয়াইনঘাটসহ উত্তর সিলেটজুড়ে পর্যটন স্পটের অভাব নেই, কিন্তু অনুন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে পর্যটক দর্শনার্থীর দুর্ভোগ, ভোগান্তির শেষ নেই।

গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যাপারে কথা হলে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবিশ্বজিত কুমার পাল জানান, বরাবরের ন্যায় এবারো জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, পান্তুমাইসহ পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটক দর্শনার্র্থীর আগমন বেড়েছে। পর্যটক নিরাপত্তায় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। রোবার স্কাউটসহ স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠনও কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাফলংয়ে পর্যটকদের পানিতে ডুবে মৃত্যুহ্রাস কল্পে নেয়া হয়েছে মাইকিংসহ তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে বিহীত ব্যবস্থা।

পর্যটন পুলিশ জাফলং অঞ্চলের অফিসার ইনচার্জ দেবাংশু কুমার দে জানান, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিবন্ধসহ পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে পর্যটন পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন পয়েন্টসহ পুরো পর্যটন স্পটে অবস্থান নিয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন পর্যটক অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনার শিকার হয়েছেন এমন খবর পাওয়া যায়নি। ঈদের ছুটির পুরোটা সময় পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করণ অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ