রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট :  সিলেটের বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন সিলেটের মহানগর হাকিম আদালত ১।

বৃহস্পতিবার (১৭ মে) আদালতের বিচারক মামুনুর রহমান সিদ্দিকী উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মামলার একমাত্র আসামি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

আদালতে বাদী পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী কল্যাণ চৌধুরী ও প্রদীপ ভট্টাচার্য। আইনজীবী বিমলেন্দু মিত্র তপন, ফেরদৌস আরা বেগম জেনি ও মামলাটির ফাইলিং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী (২) শুনানিতে অংশ নেন। মামলায় রাগীব আলীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মঈনুল ইসলাম ও শাহ মশাহিদ আলী।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৩ এপ্রিল সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে (সিআর মামলা নং ৪৭৭/১৭) এ মামলাটি দায়ের করেন মামলার বাদী নাবিদা ডেভলাপম্যান্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান গুলজার। ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বিগত ২০০৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাউথ ইস্ট ব্যাংকের মঞ্জুরিপত্র মূলে তিন কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। তিন কিস্তিতে মঞ্জুরিকৃত ঋণের মধ্যে ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে ফাউন্ডেশন। নাবিদা ডেভলাপম্যান্ট ফাউন্ডেশনের বেশিরভাগ পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডার যুক্তরাজ্য প্রবাসী। গত ০৫/০৭/২০০৮ ইংরেজি তারিখে রাগীব আলী মালিকানাধীন দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় সাউথ ইস্ট ব্যাংকে বন্ধককৃত সম্পত্তির নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। রাগীব আলীর সাথে বাদীর পারিবারিক পূর্ব পরিচিতি থাকায় ও রাগীব আলী সাউথ ইস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে তার সাথে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন উনার সাথে যদি যোগাযোগ করে লন্ডনে লেনদেন শেষ না করা হয় তাহলে সম্পত্তি নিলাম হয়ে যাবে।

আরও বলা হয়, তার কথায় বাদী অন্যান্য শেয়ার হোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয় রাগীব আলীর সাথে যোগাযোগ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লেনদেন শেষ করা হবে। এক পর্যায়ে রাগীব আলী সাথে শেয়ার হোল্ডারদের সমঝোতা হয় এবং সমঝোতা অনুযায়ী রাগীব আলীর লন্ডনস্থ ব্যাংক একাউন্ট নং- ০০১৫১০৪ শর্ট কোড ৩০৯০৫৯ লয়েডস টি.এস.বি ব্যাংকে আমার কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার তোফায়েল আলম তুহিন ৫ হাজার পাউন্ডের একটি চেক যাহার নং- ০৮১২০১, ০৮/০৮/২০০৮ ইংরেজি তারিখে চেক প্রদান করে টাকা পরিশোধ করা শুরু করেন। পরবর্তীতে রাগীব আলী বলেন, চেকে টাকা নিতে সমস্যা আছে। তাকে নগদে টাকা দিতে। নগদ পরিশোধে রাজি না হলে রাগীব আলী আবারও বন্ধকীকৃত সম্পত্তি নিলাম হয়ে যাবে বলেন।

বিবরণে বলা হয়, সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে তার কথামত তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে এবং সর্বশেষ বিগত ৩০/০৫/২০০৯ ইং তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ২ লক্ষ ১৫ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ২ কোটি ৭৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অনেক কষ্টে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ধার করে নগদ প্রদান করেন। তৎকালীন সময়ে ১ পাউন্ডের মূল্য বাংলাদেশী টাকায় ১৩০ টাকা ছিল। পরে রাগীব আলীর নির্দেশ ও পরামর্শ অনুযায়ী ১০/১২/২০১০ ইং তারিখে সুদ মওকুফের জন্য আবেদন করেন। পরে জানতে পারেন রাগীব আলী প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ