সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

প্রবাসীর বাড়িঘর দখল করতে চাইছেন ফুলসাইন্দ মাদ্রাসা অধ্যক্ষ গফুর’ সংবাদ সম্মেলণে অভিযোগ

প্রবাসীর বাড়িঘর দখল করতে চাইছেন ফুলসাইন্দ মাদ্রাসা অধ্যক্ষ গফুর’ সংবাদ সম্মেলণে অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত সিলেট ::: ভূমিদস্যুদের প্ররোচনায় মিথ্যা অভিযোগে গোলাপগঞ্জের ফুলসাইন্দ দাখিল মাদ্রাসা অধ্যক্ষের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, হয়রানী বন্ধ পূণঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও মামলাবাজ মাদ্রাসা অধ্যক্ষের পদচ্যুতির দাবি জানিয়েছেন ফুলসাইন্দ গ্রামের তোতা মিয়ার স্ত্রী জয়তুন বিবি। শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলসাইন্দ গ্রামের মরহুম সরফ উদ্দিন (সুরুজ)-এর পুত্র আব্দুল মতিন, খানম বেগম ও রুবি বেগম যুক্তরাজ্য প্রবাসী। গত প্রায় ২০ বছর ধরে তাদের বাড়িঘর পাহারার দায়িত্বে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন একই গ্রামের জিলাল উদ্দিনের পরিবার। সহায়-সম্পত্তির আম-মোক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন একই গ্রামের মসব্বির আলীর পুত্র খলিল উদ্দিন। এই গ্রামে ফুলসাইন্দ দারুল ক্বেরাত দাখিল মাদ্রাসা নামে একটি মাদ্রাসা আছে। এই প্রতিষ্ঠানকে পুঁিজ করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও ভূমিদস্যু চক্র মতিন, খানমদের পৈত্রিক ভিটেবাড়ি জবরদখল ও তাদের বাস্তুহারা করার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। স্বার্থান্বেষীরা মাদ্রাসায় তাদের অনুগত ব্যক্তিকে অধ্যক্ষ নিয়োগ ও তাকে দিয়ে মাদ্রাসার নামে ওই প্রবাসী পরিবারকে উচ্ছেদে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে আম-মোক্তার খলিল উদ্দিন জবরদল থেকে প্রবাসী পরিবারের পৈত্রিক ভিটেবাড়ি রক্ষার্থে তাদের পক্ষ হয়ে দেওয়ানী আদালতে স্বত্বমোকদ্দমা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে চলমান আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি বলেন, দেওয়ানী আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় ভূমিদস্যুরা মাদ্রাসার নামে প্রবাসী পরিবারের বাড়িঘর দখলে নিতে পারছে না। তাই তারা মিথ্যা অভিযোগে ফৌজদারী মামলা দিয়ে হয়রানীর পথ বেছে নিয়েছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা প্রবাসী পরিবার ও তাদের স্বজনদের অতিষ্ট করে তুলেছে। জেল-জুলুম-আর পুলিশী নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।

জয়তুন বিবি বলেন, তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদ্রাসার বারান্দার গ্রীলে চটের বস্তা পুড়িয়ে অগ্নি সংযোগের একটি ঘটনা সাজায় এবং তাদের অনুগত সুপার মো. আব্দুল গফুরকে দিয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে পুলিশ তাদের সাজানো মামলা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে তারা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে আদালত থেকে মামলা এফআইআর-এর আদেশ হাসিল করে। ঐ বাড়ির কেয়ারটেকার ও আম-মোক্তারসহ তার স্বজনদের বিরুদ্ধে সাজানো ঘটনায় দ্রুতবিচার আইনে একটি মামলা রেকর্ড করায় (নং-০৯(৯)১৮)। পাশাপাশি খলিল উদ্দিনকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনি বর্তমানে জেলে রয়েছেন। অন্যদের পুলিশী হয়রানীর মাধ্যমে বাড়িছাড়া করার চেষ্টা করছেু স্বার্থান্বেষী এ মহল।

তিনি বলেন, ঐ মামলায় অসুস্থ চলাফেরায় অক্ষম আমার বয়োবৃদ্ধ স্বামী তোতা মিয়াকেও তারা আসামী করতে লজ্জাবোধ করেনি। একজন আলেমে দ্বীন হয়ে চাকরি ও পদের লোভে মাদ্রাসা সুপার আব্দুল গফুর স্বার্থান্বেষীদের প্ররোচনায় মাদ্রাসার নাম ব্যবহারে সম্পূর্ন মিথ্যা ও সাজানো ঘটনায় এ মামলা দায়ের করে নিজের আখের গোছাতে শুরু করেছেন। এ ছাড়াও মামলায় এমন কিছু মানুষকে সাক্ষী করা হয়েছে যারা সমাজে ভন্ড ও দুষ্টচক্র বলে পরিচিত। তাদেরই একজন ৯নং সাক্ষী ফুলসাইন্দ গ্রামের মৃত মছন’র পুত্র সাঈদ আহমদ (পাহারাদার)। সাঈদ একজন ভন্ড, প্রতারক, তাবিজ-তোবার ব্যবসায়ী ও জ্বিনসাধক। তার ভন্ডামির শিকার হয়ে অনেক ছাত্রীর পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে তারা মূখ খুলতে পারেনা।

জয়তুন বিবি আরও বলেন, প্রবাসী মতিন পরিবারকে বাড়িছাড়া করতে প্রভাবশালী মহলের অপতৎপরতা ও মামলা-হামলার শেষ নেই। এর আগেও তারা তাদের অনুগত মাদ্রাসা সুপার আব্দুল গফুরকে দিয়ে প্রবাসী পরিবারের স্বজন পুরুষ ও মহিলাদের আসামী করে সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতে পোলাপগঞ্জ বিবিধ ১৮৫/২০১৮, গোলাপগঞ্জ থানার নন.এফ.আই.আর ৬৩/১৮-সহ আরো কয়েকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। মাদ্রাসা ও মসজিদ ব্যবহার করে ভূমিদস্যুরা তাদের হীনস্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কন্ঠে উপস্থিত গ্রেফতারকৃত খলিলের স্ত্রী ও অবুঝ দুই সন্তান স্বামী ও তাদের পিতার মুক্তির দাবি জানায়।

খলিলের ভাই জিলাল উদ্দিনের স্ত্রী জানান, তার এসএসসি পরীক্ষার্থী পুত্রকেও আসামী করা হয়েছে। সে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি পুলিশী হয়রানির ভয়ে। তার স্বামী ও সন্তানরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা সবাই মিথ্যা ও সাজানো হামলা-মামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার, পূণঃতদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান। পাশাপাশি অবিলম্বে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের পদচ্যুতি এবং ফুলসাইন্দ দাখিল মাদ্রাসার জন্য একজন সৎ নিষ্ঠাবান ও চরিত্রবান অধ্যক্ষ নিয়োগে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলণে আরও উপস্থিত ছিলেন, জয়তুন বিবির দেবর আজাদ মিয়া, অনু মিয়া, রেহান মিয়া, খলিল উদ্দিনের ভ্রাতুষ্পুত্র রেদওয়ান, রাসেদ, জয়তুন বিবির জা রুসনা বেগম, পারভীন বেগম, রানু বেগম, রহিমা খাতুন প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ