রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

প্রযুক্তির রাজত্বে বিলিনের পথে ঈদ কার্ড সংস্কৃতি

প্রযুক্তির রাজত্বে বিলিনের পথে ঈদ কার্ড সংস্কৃতি

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহ মো. তানভীর : কার্ড আদান-প্রদান-প্রদান। শুভেচ্ছা বিনিময়। কার্ড সংস্কৃতি পুরনো ঐতিহ্যের। ডিজিটাল নিত্যনতুন প্রযুক্তির আবিস্কারে বিলিনের পথে কার্ড সংস্কৃতি। ঈদ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত ঈদ কার্ড আজ প্রযুক্তির রাজত্বে বিলিন হতে চলেছে। কাগুজে ঈদ কার্ডের ব্যবহার ক্রমেই পিঠ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আর এর পরিবর্তে আগমন করেছে ডিজিটাল প্রযুক্তির মহানায়করা। ই-কার্ড, মুঠোফোনের ক্ষুদেবার্তা, ইমেইল, ফেইসবুক, টুইটার ইত্যাদি। তবে অধিকাংশের ধারণা- ভার্চুয়াল শুভেচ্ছা মাধ্যমগুলো আজও ছাপিয়ে যেতে পারেনি কাগুজে ঈদ কার্ডের আবেদনকে

। বিখ্যাত মনীষীর উক্তি, প্রিয় গানের লাইন কিংবা কবিতার পঙক্তি দিয়ে সাজানো রঙ-বেরঙের কাগুজে ঈদ কার্ডের প্রচলন এখন নেই বললেই চলে। সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেই কাগুজে ঈদ কার্ডের রাজত্বে থাবা বসিয়েছে প্রযুক্তি। ইন্টারনেট আর মোবাইল এসএমএস জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় হারিয়ে যাচ্ছে ঈদ কার্ড। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে তরুণ-তরুণীরা। ডিজিটাল প্রযুক্তির হাওয়ায় এখন ঈদ বাজারে এখন আগের মতো কার্ডের জৌলুস নেই। ১০/১২ বছর পূর্বে ঈদ উপলক্ষে নগরীর প্রত্যেকটি ৩/৪ লাখ টাকার ঈদ কার্ড বিক্রি হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮/১০ হাজারে। অনেক কার্ডের দোকানে আবার ঈদ কার্ড সরবরাহ করা হয় নাই।

রবিবার  নগরীর বিভিন্ন ঈদ কার্ডের দোকান ঘুরে জানা গেছে এমন চিত্র। বন্দর বাজারের কোর্ঠ পয়েন্টস্থ ন্যাশনাল লাইব্রেরী, কুদরত উল্লাহ মার্কেটের গহরপুর ফটোষ্ট্যাট এন্ড ষ্টেশনারি, এম এ রব ফটোষ্ট্যট এন্ড ষ্টেশনার্স, নিউ নেশন লাইব্রেরী, জিন্দাবাজার আল মারজান মার্কেট সংলগ্ন ঈদ কার্ডের দোকান কার্ডস এন্ড কার্ডস, চৌহাট্টা মহিলা কলেজ বাণিজ্যিক ভবনের রেড, চৌহাট্টা পয়েন্ট সংলগ্ন চলন্তিকা ষ্টেশনার্স, মিতা এন্টার প্রাইজ, চয়ন ষ্টেশনার্স, আম্বরখানা পয়েন্ট সংলগ্ন আলীগর লাইব্রেরী, টিলাগড় বাজারের সুকী এন্টারপ্রাইজ, শিবগঞ্জ বাজারের স্কলার্স ডিমান্ড, গিফট বাজার সহ বিভিন্ন লাইব্রেরী ঘুরে বিক্রেতাদের সাথে করা হয়। তারা জানান, ঈদের ১৫/২০ দিন পূবৃ থেকেই ঈদ কার্ড বিক্রির ধুম পড়ে যেত। সেক্ষেত্রে এখন কোনো কোনো দিন ১০/২০টি, আবার কোনো দিন বিক্রি শূণ্য থাকে। ফলে সর্ব স্বাক্কুলে ৮/১০ হাজার টাকার ঈদকার্ড বিক্রি হয়। তারা জানান এখন ঈদ কার্ডের বদলে অনেকেই নিজেদের ফেসবুক পেজ, হোয়াটসআপ, ভাইবার, ঠ্যাঙ্গু, টুইটারে বিভিন্ন ঈদ কার্ডের ডিজাইন করে শুভেচ্চা বিনিময় করে থাকেন। ফলে ঈদের অন্যতম অনুসঙ্গ ঈদ কার্ড এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। শুভেচ্চা বিনিময়ের শ্বাশত মাধ্যমটি এখন হারিয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিকতার মধ্যে।

এব্যাপারে কার্ডস এন্ড কার্ডস এর সত্ত্বাধিকারী হাফিজ মাওলানা ফজলুল বারী বলেন তথ্যপ্রযুক্তির কারণে ঈদ কার্ডের জৌলুস এখন আর আগের মত নেই। চৌহাট্টা পয়েন্ট সংলগ্ন চলন্তিকা ষ্টেশনার্স এর সত্ত্বাধিকারী গবিন্দ সাধু জানান ১০/১২ পূর্বে আমরা ৩/৪ লাখ টাকার ঈদ কার্ড বিক্রি করলেও এখন বিক্রি নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮/১০ হাজারে। টিলাগড় বাজারের সুকী এন্টারপ্রাইজের ইকরাম জানান ঈদ কার্ডের ডিজাইন করে জন সাধারণ এখন তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন। ফলে ঈদ কার্ডের চাহিদা এখন অনেকটা কম। সিলেট ডাক বিভাগের মৃদুল ভট্টাচার্য্য জানান পূর্বে যেখানে ঈদ কার্ড পাঠাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন ঈদ কার্ডের তেমন বড় ডেলিভারী নাই।

শিবগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী রাহী ফার্মেসীর রুমেল আহমদ জানান তিনি ঈদ কার্ডের বদলে তার ফেইসবুক এবং হোয়াটসআপে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কারণ কার্ড কেনা এবং পাঠানোর চেয়ে ইন্টারনেটে শুভেচ্ছা বিনিময় ঝামেলাধীন। তাই ইন্টারনেটে শুভেচ্ছা বিনিময়ের চাহিদা বেড়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ