বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

প্লাবিত হচ্ছে কমলগঞ্জের নতুন নতুন এলাকা, পানিবন্দি ৮ হাজার মানুষ

প্লাবিত হচ্ছে কমলগঞ্জের নতুন নতুন এলাকা, পানিবন্দি ৮ হাজার মানুষ

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। রোববার সারা দিন ব্যাপী অবিরাম বর্ষনে ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রোববার বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে রোববার বিকালে নতুন করে আদমপুর ইউনিয়নের হকতিয়ারখলার উত্তর ও দক্ষিন পল্লীতে ২টি ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করছে।
এছাড়া শুক্রবার গভীর রাতে রামপাশা এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গনে কমলগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্ধি অবস্থায় আছে। গত শুক্রবার থেকে অবিরাম বর্ষনের কারনে পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীতে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা গ্রামে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এছাড়া আদমপুর ইউনিয়নের কোনাগাঁও, ঘোড়ামারা ও রহিমপুর ইউনিয়নের প্রতাপী গ্রামে ধলাই নদীর পুরাতন ভাঙ্গা প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ২০টি গ্রামে পানিবন্ধি অবস্থা বিরাজমান করছে।
জানা যায়, কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে রামপাশা ও কুমড়াকাপন এবং কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রাজারগাঁও, নারায়নপুর, ছতিয়া গ্রাম পানিবন্ধি অবস্থায় আছে। রবিবার দুপুরে আদপুর ইউনিয়নের হকতিয়ারখলা উত্তর ও দক্ষিণ পল্লীতে আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা ও কোনাগাঁও এর পুরাতন ভাঙ্গা প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ইউনিয়নের ঘোড়ামারা এবং এই বাঁধের পানিতে আলীনগর ইউনিয়নের রানীরবাজার, যোগিবিল, লাংলিয়া, কামুদপুর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রহিমপুর ইউনিয়নের প্রতাপী পুরাতন ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করে কান্দিগাঁও, জগন্নাথপুর, প্রতাপী, রামচন্দ্রপুর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে ফসলিজমি নিমজ্জিত রয়েছে। তাছাড়া আরও বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকা রয়েছে। হকতিয়ারখলা গ্রামের অনুপম সিংহ জানান, নদী ভাঙ্গনে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। আমারা বাইরে বের হতে পারছি না। ঘরে দুয়ারে পানি প্রবেশ করছে। ফসলি জমি এখন পানির নিছে। তাছাড়া হকতিয়ারখলার দক্ষিন পল্লীতে নতুন বাঁধ দিলেও তা ভেঙ্গে গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
কমলগঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা মো: আনিসুরজামান জানান, প্রাথমিকভাবে বন্যার পানিতে কমলগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে নিমজ্জিত আছে বলে জানা যায়। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক জানান, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কমলগঞ্জের বন্যা কবলিত এলাকাবাসীর জন্য ২শ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্ধ করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় আমরা খাবার প্রদান করেছি। ক্রমান্ময়ে প্রতিটি ভাঙ্গন এলাকায় শুকনো খাবার পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী জানান ,রবিবার বিকাল ৫ টা ২০ মিনিটে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৪৯ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ