রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন

ফের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত দোয়ারাবাজার

ফের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত দোয়ারাবাজার

নিউজটি শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গত তিনদিনের ভারি বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অর্ধ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানিতে অধিকাংশ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। রোপনকৃত আউশ-ইরি ফসল, আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের আশংকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে পানির নিচে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত। উপজেলা সদরে সুরমার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে।

চিলাই, মৌলা, মরা চেলা, চলতি, কালিউরি, খাসিয়ামারা, ধূমখালী ও ছাগলচোরাসহ উপজেলার সকল নদী-নালার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার সুরমা, বোগলাবাজার, লক্ষীপুর, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার সদর ছাড়াও বাকি চার ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

বোগলাবাজারের বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, বোগলাবাজার ইউনিয়নে বহমান চিলাই নদীর ক্যাম্পেরঘাট-ইদুকোনা রাস্তায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও একই জায়গায় ভাঙ্গন সৃষ্টি হওয়ায় বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকে বিভিন্ন হাওরের শতাধিক একর আউশ-ইরি ফসল তলিয়ে গেছে। চাষীদের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বোগলাবাজার ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ, বোগলাবাজার এবং এর আশপাশের প্রায় ১৫টি গ্রামের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্যাম্পেরঘাট-ইদুকোনা রাস্তা ও অধিকাংশ গ্রামের বাড়িঘরে হাটুসমান পানি থাকায় গবাদিপশু নিয়ে এখনকার কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। টিউবওয়েল ও নলকূপ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এখানে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার আছে যারা এখনো রান্না করা খাবার খেতে পারছে না। তারা শুকনো খাবারের উপর নির্ভর করছে। ইদুকোনা দক্ষিন জামে মসজিদে পানি ঢুকে চলমান নির্মাণাধীন মসজিদের কাজের ৪৮ বস্তা সিমেন্ট পানিতে ভিজে যায়।

ওই এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আকন্দ বলেন, প্রশাসনিকভাবে সুষ্ঠ তদারকির অভাব না থাকায় ও নিম্ন মানের কাজ হওয়ায় ক্যাম্পেরঘাট -ইদুকোনা চিলাই নদীর রাস্তায় একই জায়গায় প্রতি বছর ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। নদীভাঙন বাধ প্রকল্পের কর্তারা কাজের গুণগত মান না রেখে লোক দেখানো কাজ দেখিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। এর ফলে পাহাড়ী ঢলে এলাকাবাসীর উপর নেমে আসে দূর্ভোগ, সীমা নেই ক্ষয়ক্ষতিরও।

আল-আমিন আরো বলেন, গত বছর যখন চিলাই নদীর ভাঙ্গন বেরিবাধের কাজ করা হয় তখন নিম্ন মানের কাজ হয়েছে এবং আবারও বাঁধ ভাঙ্গবে- এই আশংকা করে তিনি তৎকালীন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মমতাজ মহুয়য়া কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু তিনি ভাঙ্গনের স্থান পরিদর্শন করেও কোনো উদ্যোগ গ্রহন করেন নি।

আল-আমিন তার ফেইসবুকে গতকাল একটি স্টেটাস দেন। তিনি লিখেন , “বছর না ঘুরতেই আবারও বোগলাবাজার ইউনিয়নের ক্যাম্পেরঘাট -ইদুকোনা রাস্তার ক্যাম্পেরঘাটে একই স্থানে আবারও চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন। গত বছর যখন এই বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন কাজ শেষ হয় তখন এই কাজ নিম্নমানের মর্মে আমি তৎকালীন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছিলাম এবং এই নিম্নমানের কাজের চিত্র ফেইসবুকে পোষ্ট করেছিলাম। তখন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন স্থান পরিদর্শন করেও তিনি কোনো উদ্যোগ গ্রহন না করে বলেছিলেন এখানকার ইউ/পি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছেন এবং জেনেছেন অতীতের যে কোনো সময় থেকে এই বেড়িবাঁধ টেকসই ও মজবুত হয়েছে। যা ছিল অসত্য এবং বানোয়াট। তারপরও ইউএনও আমাকে আস্থত্ব করে বলেছিলেন আমার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের পূর্ণ কাজ করবেন কিন্তু তিনি তা করেননি এবং করাননি। এখন একই স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পাহাড়ী ঢলে বোগলাবাজার ইউনিয়নের ইদুকোনা, ক্যাম্পেরঘাট, বোগলাবাজার, কৈয়াজুরি, পেশকারগাও, ধর্মপুর সহ অনন্ত ১৫টি গ্রামের বাড়ি ঘর ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ইদুকোনা দক্ষিন জামে মসজিদে পানি ঢুকে মসজিদ চলমান নির্মাণাধীন কাজের ৪৮ বস্তা সিমেন্ট পানিতে ভিজে গেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে আলমখালী, ইদুকোনা ক্যাম্পেরঘাটের হাজারও মানুষ। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে আউশ ধান। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আগামী আমন ফসল।”

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ