রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

বিদায় সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ!

বিদায় সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ!

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :নীরবে বিদায় নিয়েছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ মে’র মধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার কথা চেম্বার নেতৃবৃন্দের। এদিন দায়িত্ব না ছাড়লে ক্ষমতা বিলুপ্ত হওয়া ছাড়াও আদালত অবমাননায় পড়তে পারতেন তারা।

সে সুবাদে একদিন বাকি থাকতেই বৃহস্পতিবার চেম্বার অব কমার্স সচিব ফারুক আহমদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিদায় নিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদ। ফলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চেম্বারের প্রশাসক ইস্যু। কে আসছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রশাসক হয়ে- প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাকি রাজনৈতিক কোনো নেতা?

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কাউকে প্রশাসক করা হলে, বিতর্ক আসতে পারে। সে কারণে প্রশাসনের কর্মকর্তাই প্রশাসক হওয়াই শ্রেয়।

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চেম্বার পরিচালনা পর্ষদকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। যেহেতু নির্বাচন হয়নি, তাই চেম্বার সচিবের কাছেই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে প্রশাসক হয়ে আসছেন কে? এ বিষয়ে কোনো কিছুই জানেন না তিনি।

তিনি বলেন, এখন প্রশাসক কাকে দেবে, এর এখতিয়ার বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের। এরপর কতদিনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া যায়-সে এখতিয়ার প্রশাসকের। তিনি নির্বাচন বোর্ড ও আপীল বোর্ড গঠন করবেন। নিয়মানুযায়ী ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে ১২০ দিন সময় পাবেন প্রশাসক।

নির্বাচন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ আগামি ছয় বছর চেম্বারের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের এমন আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন ও আপীল বোর্ড গঠন করেছি। এরপর পুরোটাই ছিল তাদের এখতিয়ার। এখানে আমাদের ব্যর্থ বলার সুযোগ নেই।

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান বিজিত চৌধুরী বলেন, চেম্বারের ভোটার তালিকায় গলদ ধরার কারণে চেম্বার নেতারা আমার উপর নাখোশ ছিলেন। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও ভোটার তালিকার অনিয়ম ধরা পড়েছিল। তারা মেয়াদান্তে নির্বাচন করতে না পারায় বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তিন মাস সময় চেয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩ মাস সময় বৃদ্ধি করে দেয়।

এরপর তারা নতুন নির্বাচনী বোর্ড গঠন করেছেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত থেকে তারা সময় পাননি, তাই পদত্যাগ করতে হচ্ছে। ব্যর্থ এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ আগামি ৬ বছর চেম্বারের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

বিগত ২০১৭ সালের ০১ জুন সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহমদের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল খন্দাকার সিপার আহমদের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। ২ বছর মেয়াদের শেষ দিকে এসে ভোটার তালিকায় গলদ বিতর্কে জড়ায় এই পরিচালনা পর্ষদ।

ভোটার তালিকা ইস্যুতে সিলেট চেম্বারের সদস্য ব্যবসায়ী তাহমিন আহমদ বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে বাণিজ্যমণ্ত্রনালয় গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে এবং ভুয়া কাগজপত্রে অযোগ্য প্রায় ৪০ ভাগ ব্যবসায়ীকে ভোটার তালিকায় করার বিষয়টি প্রতিয়মান হয়। কিন্তু চেম্বার সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে করা আবেদন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে ৩ মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করান।

এরপর চেম্বার অব কমার্সের নতুন নির্বাচনী বোর্ড ও আপীল বোর্ড গঠন করেন। এতে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন খানকে এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদকে আপীল বোর্ডের প্রধান করা হয়।

এ ঘটনার পর সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হন ব্যবসায়ী তাহমিন আহমদ। এর প্রেক্ষিতে চেম্বার নেতৃবৃন্দ ৩ মাস সময় বৃদ্ধির জন্য আদালতে রীট আবেদন করেন। গত ১৩ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল ডিভিশন সিলেট চেম্বারের সময় বাড়ানোর আবেদন সংক্রান্ত রিট খারিজ করে দেন।

ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিন মাস সময় বাড়ালেও আদালতের রায়ে আগামী ৩১ মে খন্দকার সিপার আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পর্ষদকে ক্ষমতা ছাড়তে হলো।

প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে জানতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সন্দ্বিপ সিংহ ও জেলা প্রশাসনের মুখপাত্র (গণমাধ্যম) উম্মে ছালিক রুমাইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ