মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০১:১১ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপের জানা-অজানা কিছু স্মরণীয় ঘটনা

বিশ্বকাপের জানা-অজানা কিছু স্মরণীয় ঘটনা

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পোটর্স ডেস্ক:আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলেই বিশ্বকাপ জিতেছিলেন ওয়ালসন
অদ্ভুতুড়ে রেকর্ডের গল্প কম নেই ক্রিকেটে। কিন্তু সুনীল ওয়ালসনের এই ‘অদ্ভুততম’ রেকর্ড ক্রিকেটে আর দ্বিতীয়টি নেই। কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন নি অথচ, তিনিই বিশ্বকাপজয়ী এক ক্রিকেটার! সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমী দূরের কথা, খোদ ভারতীয়দের কাছেই সুনীল ওয়ালসন নামটা তেমন পরিচিত নয়। সেটি খুব একটা দোষেরও নয়। ভারতের হয়ে কোনোদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই মাঠেই নামেন নি এই বাঁ-হাতি পেসার। তিনিই কি না ১৯৮৩ সালে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য!
’৮৩ তে ভারতের বিশ্বকাপ দলে ছিলেন সুনীল ওয়ালসন। সেবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভারত কাপ জিতে নেয়। বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও খেলেন নি সুনীল।
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে খুব একটা আফসোস নেই সুনীলের। নিজ মুখেই বলেছেন, ‘একটি ম্যাচেও সুযোগ পাইনি, এ নিয়ে আমার মধ্যে কোনো আফসোস নেই। আমার স্পষ্ট মনে আছে, জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক আলী শাহ বলেছিল, এই বিশ্বকাপে ভারতই একমাত্র দল যাদের সহজে হারানো যাবে। ওই দল বিশ্বকাপ জিতেছিল শেষ পর্যন্ত। এ দলের সদস্য হতে পারাটা তাই আমার কাছে গর্বের বিষয়।’
দ্রুততম ওভার
ক্রিকেট ইতিহাসে ১শ’ মাইল গতির বল কয়েকজন করতে পারলেও বিশ্বকাপে কেউ পারেন নি। বিশ্বকাপে ১শ’ মাইল গতির মাইলফলক স্পর্শ করা একমাত্র বোলার শোয়েব আখতার। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নিক নাইটকে ১৬১.৩ কি.মি/ঘণ্টা (১০০.২ মাইল/ঘণ্টা) গতিতে বল করে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ডেলিভারিটি করেন। শুধু ওই বলটিই নয়, শোয়েবের সেই ওভারটিই এখনো পর্যন্ত ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ওভার। ওভারের ৬ বলের গতি ছিল যথাক্রমে- ১৫৩.৩, ১৫৮.৪, ১৫৮.৫, ১৫৭.৪, ১৫৯.৫ ও ১৬১.৩ কি.মি/ঘণ্টা। গড় গতি ১৫৮.০৬ কি.মি/ঘণ্টা!
‘মানকাডিং’ না করে পরাজিত দলে ওয়ালশ
ক্রিকেট মাঠে আপাদমস্তক ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশ। বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের সেই ভাবমূর্তি ধরে রেখেছিলেন তিনি এবং তার খেসারত হিসেবে একটি ম্যাচ হারতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ঘটনাটিও ১৯৮৭ বিশ্বকাপে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ১৪ রান, হাতে ১ উইকেট। বল হাতে যখন কোর্টনি ওয়ালশ, জয়ের পাল্লাটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে একটু বেশি হেলে ছিল। প্রথম তিন বলে চার রান নেয়ার পর লক্ষ্য দাঁড়ায় তিন বলে ১০ রান। চতুর্থ বলে ৬ মেরে বসলেন আবদুল কাদির। পরের বলে আরো ২ রান নিলে শেষ বলে পাকিস্তানের জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২ রান। শেষ বল করতে ওয়ালশ যখন ছুটে আসছিলেন, নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান সেলিম জাফর ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন অনেকটাই। ওয়ালশ চাইলেই তাকে রানআউট করে দিতে পারতেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজও ম্যাচটা জিতে যেত ১ রানে। কিন্তু ওয়ালশ তা করলেন না, বরং জাফরকে সতর্ক করে দিয়ে আবার বল করার জন্য ফিরে গেলেন। শেষ পর্যন্ত ওই বলে ২ রান নিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচটা জিতিয়ে দেন কাদির।
স্পোর্টসম্যানশিপের জন্য অনেকেই তখন ওয়ালশের প্রশংসা করেছিলেন, স্থানীয় এক দর্শক তো তাকে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হাতে বোনা একটি কার্পেটও উপহার দিয়েছিল। কিন্তু ওয়ালশের ক্রিকেটীয় চেতনার মাশুল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে হয়েছিল মূল্যবান চারটি পয়েন্ট। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ওই আসরের সেমিফাইনালেই ওঠা হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের!
বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্ভাগা ক্রিকেটার?
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্ভাগা খেলোয়াড়দের তালিকা করতে বসলে সবার আগে কি গ্রাহাম গুচের নামটাই আসবে? আসাটাই বোধ হয় স্বাভাবিক। যে ‘রেকর্ড’ তিনি করে রেখে গেছেন, সেটি যে আর কোনো ক্রিকেটারের নেই! যিনি একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে তিনবার ফাইনাল খেলেও পরাজিত দলে।
দুই ফরম্যাটে বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র দল ভারত
প্রথম তিন আসরে বিশ্বকাপ ছিল ৬০ ওভারের। সে সময় ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। পরবর্তীতে ওয়ানডে ম্যাচ ৫০ ওভারে নেমে আসে। ২০১১ সালে ৫০ ওভার সংস্করণে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। উভয় ফরম্যাটে একমাত্র চ্যাম্পিয়ন তারাই।
টস করা হলো দুবার
২০১১ আসরের ফাইনালিস্ট শ্রীলংকা ও ভারতের অধিনায়ক সাঙ্গাকারা ও ধোনির মধ্যে সম্পর্ক উত্তপ্ত। এতটাই যে, ফাইনালে ধোনি টস নিক্ষেপ করলেন, কিন্তু সাঙ্গাকারা এমনভাবে কল করলেন যে, ম্যাচ রেফারি শুনতেই পেলো না, তিনি কি টেল বলেছেন না হেড বলেছেন। ফলে দ্বিতীয়বার টস হয়।
দর্শকদের কারণে ম্যাচ বন্ধ
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের মাঠে শ্রীলংকা ভারতকে ২৫২ রানের টার্গেট দেয়। ভারত ১ উইকেটে ৯৮ রান নিয়ে ভালোভাবেই এগুচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ তারা খেই হারিয়ে ফেলে। ১ উইকেটে ৯৮ থেকে ১২০ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয় তারা। এরপরই শুরু হয় দর্শকদের তাণ্ডব। প্রিয় দলের এমন অবস্থা দেখে তারা আর ঠিক থাকতে পারেন নি। মাঠে বোতল, প্যাকেট নানা কিছু ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে আম্পায়ার খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড শ্রীলংকাকে জয়ী ঘোষণা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ