মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

বিশ্বনাথে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের দুর্বিসহ জীবনযাপন মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপচেষ্টার অভিযোগ

বিশ্বনাথে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের দুর্বিসহ জীবনযাপন মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অপচেষ্টার অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট :বিশ্বনাথের মিরগাঁও গ্রামে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা এখনো দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। বসতভিটা অগ্নিকান্ডে পুঁড়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন তারা। সরকারসহ বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। তাদের অভিযোগ মামলা দায়েরের পর পুলিশ আশিক ও লোকমান নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল ঘটনাকারী রবাইসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের অব্যাহত হুমকিতে শংকিত মামলার বাদী নুরুন্নেছা।
গত বৃহস্পতিবার বাদী পক্ষের প্রতিবন্ধী যুবক মোস্তাককে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার রাতে তাকে বাড়িতে পৌছে দেয়া হয়। বাদী নুরুন্নেছা আশঙ্কা করছেন পুলিশ প্রতিবন্ধী মোস্তাককে দিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে। বিবাদী পক্ষের লোকজন ধনে জনে বলীয়ান হওয়ায় মামলাটির সুষ্টু তদন্ত নিয়েও শঙ্কা বাদীর। প্রতিবন্ধী যুবক মোস্তাক সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক নানা স্বীকারোক্তি নিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ থানায় আটকে রেখে তাকে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মোস্তাক।
সরেজমিন মীরগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায় সাতটি পরিবারের বসতভিটা আগুনে পুঁড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত ৮ অক্টোবর ঘটনা ঘটলেও এখনো আগুনের লেলীহান শিখার চিহ্নটুকু রয়েছে সর্বত্র। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা নির্বাক থাকিয়ে রয়েছেন পুঁেড় যাওয়া বসতভিটার দিকে। তাদের চোখে এখনো অশ্রু। বাড়ির আঙ্গিনায় ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করছেন এসকল অসহায় লোকজন। একমাত্র সম্বল বসতভিটার সাথে আসবাবপত্রটুকও পুঁড়ে ছারখার। সাতটি পরিবারের প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিমত তাদের। ঘটনার পরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামান্য সহযোগিতা করলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আর কোন সাহায্য মিলেনি। ক্ষতিগ্রস্থদের সকলেই দিনমজুর। সর্বস্ব হারিয়ে তারা এখন পাগলপ্রায়। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্থ নুরুন্নেছা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন বিশ্বনাথ থানার এসআই সফিকুল ইসলাম।
মামলার সাক্ষী আনোয়ার মিয়া বলেন, আমরা ধারণা করছি পূর্ব বিরোধের কারনে পাশের বাড়ির রবাই, শায়েস্তা মিয়া, আসকর, ফারুকসহ এজাহারে উল্লেখিতরা আমাদের বসতভিটায় অগ্নিকা- ঘটিয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাত ৯ টার দিকে রবাই তার ব্যাবহৃত মোবাইল থেকে আমাদের বাড়ির আব্দুল মানিকের মোবাইলে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেছে,“ আজ তোদের বাড়ির সবাইকে জালিয়ে পুঁড়িয়ে মেরে ফেলবো”। ঠিক রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমাদের বাড়িতে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আনোয়ার বলেন, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এ ঘটনা ঘাটয়েছে। যা আমা বুঝতে পারিনি। এখন তারা মামলা থেকে বাঁচতে নানা ফন্দি আটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলার বাদী নুরুন্নেছা এ ব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সিলেটের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, পুরো ঘটনাটি আমরা এখনো তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থেই মোস্তাক নামের যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থানায় নিয়ে আসা হয়। সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালতের নিকট দিয়েছে। এরপর থাকে বাসায় পৌছে দেয়া হয়েছে। তাকে নির্যাতন কিংবা আটকের বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান তিনি। এছাড়া মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ