সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ

বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:শীত পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। শনিবার প্রথমবারের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ মৌসুমের ‘তীব্র’ শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগের দিন শুক্রবার ‘মাঝারি’ শৈত্যপ্রবাহ ছিল।

সব মিলে এদিন দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নানান মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। নির্বাচনের উত্তাপের ভেতরে মধ্য পৌষের এ তীব্র শীতে জবুথবু অবস্থা। জনজীবনে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই বিপর্যস্ত। এরই মধ্যে আজ সমাগত ভোট। শীত উপেক্ষা করেই মানুষকে যেতে হবে ভোট কেন্দ্রে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে উত্তরাঞ্চলের শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে কম্বলসহ গরম কাপড় বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
পৌষের শুরুর দিকে ঘূর্ণিঝড় ফেথাইয়ের ওপর ভর করে আগমন ঘটে এবারের শীতের। মাঝখানে কয়েকদিনের ব্যতিক্রম বাদে সেই থেকেই শীতের প্রকোপ চলছে। সেই শীত পরিণত হয় শৈত্যপ্রবাহে। কয়েকদিন ধরেই সারা দেশে বয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ। শনিবার তা আরও নতুন এলাকা যুক্ত করে। এদিন দেশের সর্বনিু তাপমাত্রা ছিল রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে ৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সর্বনিু তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই হিসাবে শীত পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

শীতের সঙ্গে বেড়েছে শীতল বায়ুপ্রবাহ। বেড়েছে কুয়াশার প্রকোপ। ফলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোরে কুয়াশা আর দিনভর ঠাণ্ডা বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ। রাতে তা আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে। নগরীর তুলনায় গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি। শীতের কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগ-বালাইয়ে প্রকোপ ঘটে থাকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এ কারণে জনসাধারণকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে ‘মাঝারি’ মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা যদি ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামে তবে তা ‘তীব্র’ শৈত্যপ্রবাহ। আর ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে বলে ‘মৃদু’ শৈত্য প্রবাহ। এ হিসাবে দেশের বেশির ভাগ স্থানে বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ বইছে।

আবহাওয়া অফিসের (বিএমডি) শনিবার রাতের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, ফেনী, শ্রীমঙ্গল অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকতে পারে। বিএমডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এ কারণে সারা দেশে শীতের অনুভূতি বেড়েছে। শীতের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশার প্রকোপ বেড়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় সূর্য দেখা যায়নি। কুয়াশার কারণে সড়কপথে বাস ও নৌপথে লঞ্চ চলাচল বিঘিœত হচ্ছে।

রাজশাহীতে ৫ দশমিক ৮ তাপমাত্রা : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে শনিবার সকালে মৌসুমের সর্বনিু তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজশাহী আবহাওয়া দফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, রাতে আরও ঠাণ্ডার প্রকোপ বাড়তে পারে। রোববারও (আজ) একই ধরনের তাপমাত্রা বিরাজমান থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত : দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে শনিবার সর্বনিু তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই এই শীত মৌসুমে দিনাজপুরে সর্বনিু তাপমাত্রা।

পঞ্চগড়ে সারা দিনই কনকনে শীত : পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পাঁচ দিন ধরে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ওঠানামা করছিল। উত্তরের হিমেল বাতাসের সঙ্গে রাতভর ঝরতে থাকা কুয়াশা থাকছে সকাল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৮টার মধ্যেই সূর্যের মুখ দেখা গেলেও সারা দিনই কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ