মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:১৩ অপরাহ্ন

বুয়েট ভিসির বিলম্বিত আগমন: দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

বুয়েট ভিসির বিলম্বিত আগমন: দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খোদ প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন, হত্যার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের ক্যাম্পাসে যাওয়া উচিত ছিল। ভিসির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, তিনি কেমন ভিসি!

একটা ছাত্র মারা গেল; আর তিনি এতটা সময় বাইরে ছিলেন? আবরারের জানাজায়ও তার অংশ নেয়া উচিত ছিল। উল্লেখ্য, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এমনকি সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে আবরারের জানাজায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে তাকে সশরীরে হাজির হয়ে জবাবদিহি করতে আলটিমেটাম দেয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেয়া সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হন বুয়েট ভিসি। ছাত্রছাত্রীদের মূল অভিভাবক হিসেবে বুয়েট উপাচার্যের ভূমিকা ও আচরণ অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। তিনি কি ভেবেছিলেন, ছাত্রহত্যার ঘটনায় সহানুভূতি ও ‘যথাযথ’ দায়িত্ব পালনের অপরাধে সরকার তাকে পদচ্যুত করতে পারে আর এজন্যই তিনি অন্তরাল বেছে নিয়েছিলেন! পদ-পদবির লোভে কিংবা অন্য যে কোনো কারণেই হোক, সন্তানতুল্য একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু সংবাদ শোনার পরও যে নির্লিপ্ততা তিনি দেখিয়েছেন তা ন্যক্কারজনক। আমরা তার এ ধরনের আচরণ ও মানসিকতাকে ধিক্কার জানাই।

একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশেষ সুনাম ও মর্যাদা ছিল, যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। দুঃখজনক হল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অতীত গৌরব ও ঐতিহ্যের কোনোকিছুই আজ আর অবশিষ্ট নেই। এর কারণ সম্ভবত এই যে, ছাত্র রাজনীতির দৌরাত্ম্য ও ঢালাওভাবে সবকিছুর দলীয়করণ। বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থেকে শুরু করে শিক্ষকসহ অন্যান্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধিকাংশই সম্পন্ন হয় দলীয় বিবেচনায়। দলের প্রয়োজনে নিয়োগপ্রাপ্তরা লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়াসহ অন্যান্য অনৈতিক কাজকর্মে জড়াতেও দ্বিধা করেন না।

অন্যদিকে অলাভজনক ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবাধ দুর্নীতি, অনিয়ম, ভর্তি ও সনদবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে এরকম নৈরাজ্য চলার সংবাদে শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে অরাজকতার অবসান ঘটবে বলে মনে করি আমরা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরসহ দেশের উচ্চশিক্ষার স্তরটিতেও বিরাজ করছে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থা-অসঙ্গতি। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরও কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে বেশকিছু দিন ধরে।

এগুলোর মধ্যে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। দুঃখজনক হল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শুধু ভিসি নন; বর্তমানে প্রোভিসি, ডিন, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর-রেক্টর বলতে গেলে প্রায় সবার নীতি-নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।

এ নিয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ-ক্ষোভ-হতাশা, যার অবসান হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় দলনিরপেক্ষ, শিক্ষানুরাগী, প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, উন্নত রুচি ও মনমানসিকতার অধিকারী সুপণ্ডিত এবং শিক্ষা ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক-উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারে সরকার মনোযোগী হবে, এটাই প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ