বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

ভবন ধ্বসের শঙ্কা তবুও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুঝুঁকিতে ঠেলছেন তারা!

ভবন ধ্বসের শঙ্কা তবুও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুঝুঁকিতে ঠেলছেন তারা!

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :ভবনের দেয়াল ও ছাদে ফাটল ধরে যাওয়ায় পর ভবন ধ্বস আর মৃত্যুর ঝুঁকির সাথে কোলাকুলি করে শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। যদিও কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে খোলা আকাশের নিচেও চলে পাঠদান। ঝুঁকি অভিভাবকদের প্রতিনয়ত ভবন ধ্বসের শঙ্কা নিয়ে থাকতে হয়। এলাকাবাসী ভবন সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এই বিদ্যালয়টি এলাকাবাসীর উদ্যোগে ১৯৪৬ সালে স্থাপিত হলেও সরকারী করনের আওতায় আসে ১৯৯৫ সালে। এরপর ৯৫-৯৬সালে সরকারীভাবে নতুন ভবন নির্মাণ হয়। ৩টি শ্রেণি কক্ষ ও ১টি অফিস কক্ষ নির্মানের কিছুদিনের মাথায় বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষের দেয়াল ও রুমের ছাদের প্লাস্টার খসে পড়তে শুরু করে। এনিয়ে বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিক বার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে আবেদন করলেও কোন সুফল লাভ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের শুধু পরিদর্শন আর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এমন আশ্বাসে রয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে ভবনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিতে হচ্ছে এমনটি জানালেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন কবির। সামান্য বৃষ্টি হলে ভবনের ভেতরে অজর ধারায় পানি পড়ে। বিদ্যালয়টি নানা মুখী সমস্যায় জর্জরিত হওয়ার ফলে অভিভাবকরা এ বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তি করতে ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় অনেকে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অতি দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোন সময় কোমলমতি
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন। দূর্ঘটনার শংকায় বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ ছাড় পত্র নিয়ে পার্শ্ববর্তী আমনিয়া-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলিভিউ একাডেমীসহ অন্যান্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ থেকে কদমরসুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় যেকোন সময় ঘটতে পারে করুন পরিনতি।
কদমরসুল গ্রামের অধিবাসী আজিব আলী বলেন, আমার ১ মেয়ে ও ৩ ছেলে ঐ বিদ্যালয়ে পড়ে। প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্য দিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতংকে থাকতে হয়। কামাল আহমদ নামে অপর এক অভিভাবক জানান, ১ ছেলে ২ মেয়ে এই বিদ্যালয় লেখাপড়া করছে। বর্তমানে বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা খুব নাজুক আর জরাজীর্ণ। দ্রুত সংস্কার উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে আমার মত সকল অভিভাবকদের। এব্যাপারে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া কুলসুম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ও বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মুঠোফোনে কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন কবির’র সাথের কথা হলে তিনি জানান বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষের দেয়াল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত রড বেরিয়ে এসেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছিনা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, কদমরসুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আমি পরিদর্শন করেছি। বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে এবং এর রিপোর্ট আমাদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি সংস্কার করার ব্যবস্থায় রয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ