সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

ভেঙ্গে গেছে গভীর রাতে ধলাই’র বাঁধ প্লাবিত কমলগঞ্জ

ভেঙ্গে গেছে গভীর রাতে ধলাই’র বাঁধ প্লাবিত কমলগঞ্জ

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:শুক্রবার রাত থেকে ধলাই নদীর পানি বেড়ে রাত ২টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার রামপাশা এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম। বানের পানিতে পানিতে শতাধিক পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। উজানের ঢলের পানি নেমে এসে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ধলাই নদীতে পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে। এসময় পানি বিপদ সীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ক্রমে পানি বেড়ে রাত ২টায় রামপাশা গ্রামের শ্যামল পাল চৌধুরীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১শ ফুট পরিমাণ প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে রামপাশা ও কুমড়া কাপন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
জানা যায়, এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বৃহস্পতিবার বিকালে ৪টি পরিবার যথাক্রমে জয়ধন মালাকার, যোগিন্দ্র মালাকার,মনিন্দ্র মালাকার ও সুনিল মালাকারের পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুকবার বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে শনিবার পর্যন্ত রামপাশা গ্রামের শ্যামল পাল চৌধুরী, নির্মল পাল চৌধুরী,প্রতোষ ধর,প্রতীম ধর, পদন্য পাল, অমর পাল চৌধুরী, মনির হোসেন, খোকন মালাকার ,গৌতম কর, সত্তার মিয়া,আজিদ মিয়া . মিটু কর সহ শতাধিক পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।
কমলগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন ও ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরপদার (ফখরু) বলেন, গভীর রাতে বাঁধ ভেঙ্গে ঢলের পানি প্রবেশ করে এ প্লাবনের সৃষ্টি করেছে। প্লাবনের পানিতে রামপাশা ও কুমড়াকাপন গ্রামের ব্যাপক এলাকার ফসলি জমি ও আমনের বীজতলা ও মৌসুমী ফসল তলিয়ে গেছে। শনিবার সকাল থেকে পানি গিয়ে ছাইয়াখালি হাওরে জমা হতে শুরু করে। কাউন্সিলরদয় আরো বলেন ,আগে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্ধী পরিবার গুলোকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন রামপাশা ও কুমড়াকাপন গ্রামসহ পুরো কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর উপর সার্বিক নজরদারি করছে।
ঘটনাস্থলে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধসহ পুরো ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে পাথরের ব্লক স্থাপনের জন্য প্রস্তাব ২ মাস আগে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ প্রস্তাব পাস হলে প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হবে। আপাতত শুক্রবার রাতে ভেঙ্গে যাওয়া অংশে মেরামত কাজ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। পানি কমলে কাজ শুরু হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী রামপাশা গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে তাদের ২জন কর্মকর্তা নজরদারি করছেন। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, উজানে তেমন বৃষ্টি না হলে আশঙ্কার কিছু নেই। তবে উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কমলগঞ্জের ধলাই নদীতে পানি বেড়ে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ