রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:০১ অপরাহ্ন

মমতাজউদদীন বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন: ওবায়দুল কাদের

মমতাজউদদীন বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন: ওবায়দুল কাদের

ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে মমতাজউদদীনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ওবায়দুল কাদের। ছবি-সংগৃহীত

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক:শিল্প ও সাহিত্যে অঙ্গনে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে মমতাজউদদীনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মমতাজউদদীন একজন ভাষাসৈনিকও ছিলেন। তার চলে যাওয়ায় শিল্প-সাহিত্যাঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি অত্যন্ত সদালাপী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং বঙ্গবন্ধু-প্রেমিক ছিলেন। তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও অনেক প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত ছিলেন মমতাজউদদীন আহমদ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী। মঞ্চনাটক রচনায় যে পথ তিনি দেখিয়েছেন, দেশের নাট্যাঙ্গন তাকে অনুসরণ করবে, অনুকরণ করবে এটিই আমরা আশা করি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশবরেণ্য এ নাট্যকার ছিলেন একটা বিগ অ্যাসেট। তার মৃত্যুর ক্ষতি সহজে পূরণ হবে না। বিরল প্রতিভার অধিকারী ভাষাসংগ্রামী এই নাট্যকার ব্যক্তিগত জীবনে খুবই সাদাসিধে ছিলেন। এ ছাড়া দেশের প্রয়াত গুণীজনদের কর্মজীবনের আর্কাইভ করতে সরকার উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাবি ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, প্রোভিসি মুহাম্মদ সামাদ, নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, রামেন্দু মজুমদার, রহমতুল্লাহ, খাইরুল আলম সবুজ ও সালাউদ্দিন লাভলুসহ অনেক।

জানাজা শেষে প্রয়াত মমতাজউদদীন আহমদের মরদেহে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রসঙ্গত দীর্ঘদিন রোগভোগের পর রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোববার বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে মারা যান মমতাজউদদীন আহমদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী কামরুননেসা মমতাজ, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ বহু ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।

মমতাজউদদীন আহমদ ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ ও মায়ের নাম সখিনা বেগম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

ছাত্রাবস্থায় তিনি বাম রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালে গোলাম আরিফ টিপুর সঙ্গে তিনি রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজশাহী কলেজে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণেও ভূমিকা পালন করেন। রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে চারবার কারাবরণও করেন।

মমতাজউদদীন আহমদ ৩২ বছরের বেশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।

মমতাজউদদীন আহমদের লেখা জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘বিবাহ’, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘বর্ণচোরা’, ‘এই সেই কণ্ঠস্বর’, ‘কী চাহ শঙ্খচিল’, ‘সাতঘাটের কানাকড়ি’, ‘রাজা অনুস্বারের পালা’, ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’, ‘সুখী মানুষ’, ‘রাজার পালা’, ‘সেয়ানে সেয়ানে’, ‘কেস’, ‘ভোটরঙ্গ’, ‘উলটো পুরান’, ‘ভেবে দেখা’ উল্লেখযোগ্য। রচিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত’, ‘প্রসঙ্গ বাংলাদেশ’, ‘প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু’, ‘আমার ভিতরে আমি’, ‘জগতের যত মহাকাব্য’, ‘সাহসী অথচ সাহস্য’, ‘নেকাবী এবং অন্যগণ’, ‘সজল তোমার ঠিকানা’, ‘এক যে জোড়া’, ‘এক যে মধুমতি’, ‘অন্ধকার নয় আলোর দিকে’। মমতাজউদদীন আহমদের লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বারের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

একজন জাঁদরেল অভিনেতা হিসেবেও তিনি অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন। চির ঠাঁই করে নিয়েছেন মানুষের মনে। মমতাজউদদীন আহমদ শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তার কর্মজীবনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

মমতাজউদদীন ১৯৭৭-৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

শিল্প ও সাহিত্যাঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯৭ সালে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ সম্মাননা, শিশু একাডেমি

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ