সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

মাদকের গডফাদারসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীদের খোঁজে আজ থেকে সাঁড়াশি অভিযান

মাদকের গডফাদারসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীদের খোঁজে আজ থেকে সাঁড়াশি অভিযান

নিউজটি শেয়ার করুন

নন্দিত ডেস্ক :  সারা দেশে মাদকের সহস্রাধিক গডফাদার ও আড়াই হাজারের বেশি শীর্ষ ব্যবসায়ীর খোঁজে মাঠে নামছে পুলিশ। আজ থেকে পুলিশের মাদকবিরোধী সাঁড়াশি এ অভিযান শুরু হচ্ছে। অভিযান চলবে রমজানজুড়ে।

আর এটি মনিটরিং করবেন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী। একজন অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে সদর দফতরের একটি টিম অভিযানের সার্বক্ষণিক আপডেট জানবে। সময়ে সময়ে তা জানানো হবে আইজিপিকে।

মাদকবিরোধী এ বিশেষ অভিযান চালাতে ১৩ মে সারা দেশে পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার এবং এসপিদের কাছে চিঠি দেয়া হয়।

ওই চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ, জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের নামের তালিকাও পাঠানো হয়। পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মনিরুজ্জামান বলেন, সারা দেশে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আমরা মনে করি, অভিযানের জন্য একটি বিশেষ সময় বেঁধে দিলে বড় ধরনের সফলতা আসতে পারে। তাই মাসব্যাসী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা সারা দেশে মাদকের গডফাদার, শীর্ষপর্যায়ের ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী এবং খুচরা বিক্রেতাদের তালিকা করেছি। সেই তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলবে।

এক্ষেত্রে গডফাদার ও শীর্ষপর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীদের দিকে পুলিশের নজর থাকবে বেশি। তালিকায় যেসব পুলিশ সদস্য বা জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে, তাদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই।

মনিরুজ্জামান আরও বলেন, মাদক হল সব অপরাধের মা। প্রতিদিন মাদকে আসক্ত হচ্ছে হচ্ছে কিশোর ও তরুণ সমাজ। আসক্তরা নেশার টাকা জোগাড় করতে নানা অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। মাদক নির্মূল করতে পারলে অনেক অপরাধ এমনেতেই কমে যাবে।

সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকাতে গঠিত এনফোর্সমেন্ট কমিটির চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার আলোকে পুলিশের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের ১ হাজার ১৫১ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

ওই তালিকা অনুযায়ী কক্সবাজারে মাদকের গডফাদার অর্ধশতাধিক। তালিকাটি ৪ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতর থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কাছে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রস্তুত করা এক তালিকায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৩৮ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের পৃষ্ঠপোষকের নাম রয়েছে। এসব জেলায় রয়েছে দেড় শতাধিক মাদকের হাট বা স্পট।

সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিদের কাছে এরই মধ্যে ওই তালিকা পাঠানো হয়েছে। গত বছরের ২ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের ৪৫তম সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজিবির পক্ষ থেকে দেশের ২৫টি জেলার ৩৩৭ জন শীর্ষ মাদক পাচারকারীর তালিকা তৈরি করা হয়।

এছাড়া দেশে মাদকের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন রোধে গত বছর গঠিত কোর কমিটির বিশেষ সভা নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ৭০৬ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ওই তালিকায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার ৫৭১ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ