শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:১২ অপরাহ্ন

মিলু কাশেম : ষাটে বালাই-ষাট

মিলু কাশেম : ষাটে বালাই-ষাট

নিউজটি শেয়ার করুন

ধ্রুব গৌতম : কোন গুণধর মানুষের সাথে যদি প্রকৃতির কোন উপাদান বা উপকরণ উপমা হিসেবে ব্যবহার করতে হয় তাহলে তা খুবভেকে চিন্তে করাই বাঞ্চনীয়। পৃথিবীর সব সুন্দরের উপমা যেন নারীদের বেলাই প্রয়োজ্য। পুরুষের বেলায় সে কর্ম কঠিন।

দোলনচাঁপা। বাংলাদেশে এক জনপ্রিয় ফুল। চার পাপড়ির সমন্বয়ে দুধেল সাদা রড়ের এ ফুলের সুবাস মনমুগ্ধকর। দোলনচাঁপা ফুলকে আজ যে গুণধর পুরুষের উপমা করব তিনি হলেন। তুখোড় ছড়াকার, সংগঠক, সাংবাদিক ও ভ্রমণপিপাসী শিশুসাহিত্যিক লেখক । দোলনচাঁপার চার পাপড়ির চার গুণ। দুধেল সাদার মত তাঁর মন। নৈতিকতায় অটল অবিচল। আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার এ গুণী ব্যাক্তিত্বের ষাটতম জন্মদিন। তাই তাঁকে শুদ্ধচিত্তে শ্রদ্ধা জানাই।

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের সৈয়দ রাছ উদ্দিন আহমদ ও সৈয়দা দয়া বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু বা মিলু কাশেম। সৈয়দপুর পৈত্রিক নিবাস হলেও সৈয়দ আবুল কাশেম মিলুর জন্ম ১৭সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার ষোলঘর এলাকায়। বাবার চাকুরীর সুবাধে সৈয়দ রাছ উদ্দিন আহমদ ষোলঘরে বসবাস করতেন। তিনি ছিলেন সরকারী চাকুরীজীবি। সুনামগঞ্জে বসবাসকালে চার ভাইয়ের জন্ম সেখানেই। চতুর্থ ছেলে সৈয়দ আবু নাসের (দিলু) বা দিলু নাসের বড় ভাইর ভাবশিষ্য ও অনুসারী। সৈয়দ রাছ উদ্দিন আহমদ ১৯৬৬ সালে সিলেট এসে দাড়িয়াপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। আজ যেখানে সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টার সেখানে পুরাতন জমিদার বাড়ী ছিলো। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত দাড়িয়াপাড়া বসবাস করে পরে ১৯৬৯ সাল থেকে বড়বাজারে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে বনানী ভবন-১৪০, বড়বাজার, আম্বরখানা, সিলেটের স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের দশ ভাই বোনদের মধ্যে অধিকাংশই প্রবাসী এবং সকলেই আপন গুণে উদ্ভাসিত।

সুনামগঞ্জে মফস্বল শহরে জন্মগ্রহণ করলেও সৈয়দ আবুল কাশেম মিলুর লেখাপড়া ও বেড়ে উঠা সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে। তাইতো তিনি অদ্যাবধি আধুনিক। তাঁর পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ ছিলো খুব। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি ছড়া, কবিতা, গল্প, উপন্যাস তাঁকে খুব বেশী টানতো। এরই সাথে ছড়া কবিতা লেখার প্রতি তাঁর ঝোক বেড়ে যায়।

সাহিত্য-

১৯৭৩ সালের ৩০ জুলাই মাত্র পনের বছর বয়সেই সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু নামে জাতীয় দৈনিকে ‘দেশের তরে লড়বো’ শিরোনামে তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। লেখার সাথে সাথে তাঁর নাম দিকে দিকে পরিচিতি লাভ করে সুনাম সঞ্চয় করে। সত্তরের দশকে এ লেখকের প্রচুর ছড়া, কিশোর কবিতা এপার বাংলা ওপার বাংলার বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা, সংকলন, উৎসব স্মারক ইত্যাদিতে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছড়া সাহিত্যে তিনি দাপটের সাথে রাজত্ব করে নিয়মিত লেখা চালিয়ে গেছেন । জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক বাংলা’র শিশুপাতা ‘সাতভাই চম্পা’য় সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু ‘মিলু কাশেম’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের ‘ছড়া ও ছড়াকার’ নামে বাংলাদেশের ছড়াকারদের পরিচিতিমূলক প্রথম গ্রন্থ কিশোর বাংলা ঢাকা থেকে প্রকাশ করেন। বইটির ৩ জন সম্পাদক সম্পাদনা করেন। তারা হলেন কবি আবু হাসান শাহরিয়ার ২) কবি সৈয়দ আল ফারুক ও ৩) কবি সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু।

বাংলা ভাষায় প্রথম ছড়া লিখিয়েও ছড়া বিষয়ক সংবাদপত্র ‘ছড়া সন্দেশ’ ২১ জুলাই ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় কবি তুষার কর ও ছড়াকার সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু এর যৌথ কর্মপ্রচেষ্টায়। যা উভয় বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি ছিলেন এর অন্যতম সম্পাদক। দেবদুলাল বন্দোপাধ্যায় আকাশবাণী কলকাতায় আলোচনা অনুষ্ঠানে সংখ্যাটির বিস্তর আলোচনা করে ভূয়সী প্রশংসা করেন। ৬/৩ রমানাথ মজুমদার স্ট্রিট, কলকাতা থেকে প্রকাশিত সে সময়ের জনপ্রিয় শিশু-কিশোর পত্রিকা ‘তেপান্তর’ সম্পাদক ও শিশু-সাহিত্যিক নির্মলেন্দু গৌতম চিঠি দিয়ে ‘ছড়া সন্দেশ’ প্রকাশে অভিভূত হয়ে সম্পাদকদের অভিনন্দন জানান।

জাতিয় দৈনিক পত্রিকা দৈনিক বাংলার শেষের পাতায় প্রখ্যাত সাংবাদিক হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ তাঁর জনপ্রিয় কলাম ‘লোক লোকালয়ে’ ‘ছড়া সন্দেশ’ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা লিখেন এবং তিনিও ছড়া বিষয়ক এ ভিন্নমাত্রার নান্দনিক কাজকে “ভারী সুন্দর এবং চমৎকার একটি কাজ” হিসেবে অভিহিত করেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সিলেটের সাড়া জাগানো জাতিয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘শাপলা শালুকের আসর’ থেকে ১৯৭৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় রঙিন কিশোর সংকলন ‘ঝিঙে ফুল’। সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু ছিলেন এ সংকলনের সম্পাদক এবং প্রধান সম্পাদক ছিলেন লোকমান আহমদ। এ সংখ্যাটির মাধ্যমে অনেক নতুন লেখকের আত্মপ্রকাশ ঘটে যারা আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত।

প্রবাসে চলে যাওয়ায় তাঁর বিরতি চলে লেখা লেখির জগতে। ভাগ্যের বিড়ম্বনায় পান্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ থেকে হারিয়ে যায়। দেশে ফিরে তথ্য ও প্রযুক্তির জনপ্রিয় ফসল ফেসবুকে নতুন করে জোয়ার তুলছেন। সিলেটের কবি সংগঠন বৃন্দস্বরের গুরুজন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক নৃপেন্দ্র লাল দাশ ও গোষ্ঠীপতি শামসুল আলম সেলিমসহ অন্যদের উৎসাহে তিনি আবার সরব হয়ে উঠেন।

যার ফলে তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশে সক্ষম হন। মার্চ ২০১০ সালে ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থ ‘দূরের দেশ কাছের দেশ’ মার্বেল প্রকাশন থেকে প্রকাশ করেন লেখকের অনুজ দিলু নাসের। কবি সংগঠন ‘বৃন্দস্বর’ এর পক্ষে গীতিকার শামসুল আলম সেলিমের প্রকাশনা কবিতা গ্রন্থ ‘সংগোপন স্বপ্নে’ ১৪২১ বাংলায় প্রকাশিত হয়। ২০১৬ সালে প্রকাশনা সংস্থা ‘নাগরী’ থেকে শিশুতোষ ছড়া-কবিতা গ্রন্থ ‘পদ্মপাতায় প্রীতির নাম’ প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালের বইমেলায় হাওর প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয় কবিতার বই ‘চলো যাই গ্রামে ফিরে’। ২০১৮ সালের বইমেলায় আরেকটি ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থ দিয়া প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয় ‘ইউরোপ থেকে বাংলাদেশ’ শিরোনামে।

দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার শিশুদের সাহিত্য পাতা ‘শাপলা কুঁড়ির আসর’ পাতাটি ‘গল্প বুড়ো’ ছদ্মনামে সম্পাদনা করতেন শ্রদ্ধেয় শিশু সাহিত্যিক বিমান ভট্টাচার্য্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে ১৮ মার্চ ১৯৭৪ সালে তাঁকে নিবেদিত শাপলা কুঁড়ির আসরের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সেদিন সম্পাদক বঙ্গবন্ধুর হাতে সংখ্যাটি তুলে দিলে বঙ্গবন্ধু মনযোগ সহকারে অন্যান্যদের লেখার সাথে সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু’র লেখাও পড়েন। এ সময়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সে মূহুর্তের স্থিরচিত্র ধারণ করেন যা পরবর্তীতে বাংলার বানী পত্রিকায় ছাপা হয়।

ভবানী প্রসাদ মজুমদার, বর্তমান সময়ে যাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘ছড়া স¤্রাট’ বলে অভিহিত করা হয়। সেই ছড়া স¤্রাট ভবানী প্রসাদ মজুমদার মাহবুব হাসান’র সম্পাদনায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ছড়া বিষয়ক লিটলম্যাগ ‘ছড়া’র সাথে ১৯৯৯ সালের ফেব্রয়ারী ৭ম সংখ্যায় ‘বাংলাদেশ আমায় বড়ই টানে’ শিরোনামে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ছড়াকারদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নামসহকারে তিনি তাঁর অগ্রজ, সমসাময়িক ও অনুজদের বিষয়ে ‘এরা সকলেই আমার প্রিয় ও ভালো লিখেন’ মর্মে উল্লেখ করেন, যাদের মধ্যে সৈয়দ আবুল কাশেম মিলুর নামও ছিলো। এটাকেও মিলু কাশেম তাঁর লেখক জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে মনে করেন। ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ সালে প্রকাশিত ছড়া পত্রিকার ‘রাশেদ রউফ সংখ্যা’য় পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত ছড়া পত্রিকা ‘টুকলু’র সম্পাদক ছড়াকার অমল ত্রিবেদী তাঁর দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে তাঁর প্রিয় ও পরিচিত ছড়াকারদের কথা বলতে গিয়ে সিলেটের আবুল কাশেম মিলুর কথাও উল্লেখ করেন।

১৯৭৬ সালে সাপ্তাহিক যুগভেরী পত্রিকার কিশোর সংবাদদাতা হিসাবে তাঁর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে তিনি ঢাকা ও লন্ডনের বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সে সময়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত খবর গ্রুপের ‘সাপ্তাহিক মনোরমা’য় তিনি বিশ্ববিখ্যাত ফুটবল তারকা, টেনিস তারকা ও সঙ্গীত তারকাদের জীবনী ও সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনেক ফিচার ও প্রতিবেদন লিখেন যাসে সময়ে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তৎকালীন পপ স¤্রাজ্ঞী ম্যাডোনাকে নিয়ে তিনি ‘কংক্রিট সভ্যতার জঙ্গলে ম্যাডোনা’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ প্রচ্ছদকাহিনী রচনা করেন এবং সে প্রচ্ছদের ছবিটিও ছিলো তাঁর নিজ হাতে তোলা। ১৯৮৫ সালে ম্যাডোনার ইউরোপ সফরের সময় দুদিন প্যারিসের ব্যবস্ততম রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রচ্ছদের ছবিটি তুলেছিলেন। মিলু কাশেম একজন শৌখিন ফটোগ্রাফার। তিনি অনেক খ্যাতিমান তারকাদের ছবি তুলেছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জার্মান ফুটবল তারকা ব্যাকেন বাওয়ার, ডাচ ফুটবল তারকা রুড গুলিত, ফান বাস্টেন, টেনিস তারকা বরিস বেকার, স্টেফিগ্রাফ, জার্মান সংগীত তারকা নীনা খ্রিস্টিনা ব্রাক প্রমূখ। এদের অনেকেরই অটোগ্রাফ তাঁর সংগ্রহে আছে। মিলু কাশেম ভ্রমণ বিলাসী সৌখিন মানুষ। তিনি বিশ্বের অনেক দেশ ঘুরে ঘুরে সেদেশের মানুষের জীবন জীবিকা কৃষ্টি সংস্কৃতি উপলব্ধি করে তাঁর লেখা ভ্রমণকাহিনীগুলোকে সমৃদ্ধ করেছেন। এবং সে সাথে সে সব দেশের ডাকডিকেট, মুদ্রা ও ভিউকার্ড সংগ্রহ করেছেন যা আজও তাঁর কাছে সযতনে সংগৃহিত।

১৯৮১ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগ প্রবাসে কাটিয়ে দেশে ফিরে তিনি আবারও সাংবাদিকতা শুরু করেন। তখন তিনি ঢাকার সংবাদচিত্র গ্রুপ আব পাবলিকেশন এর সিলেট ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সিলেটের বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রয়াত খায়রুল আমিন মঞ্জুর সাথে মিলে সিলেটের প্রথম রঙ্গিন পাক্ষিক ম্যাগাজিন ‘পনের দিন’ প্রকাশ করেন। এর সম্পাদক ছিলেন খায়রুল আমিন মঞ্জু ও মিলু কাশেম ছিলেন নির্বাহী সম্পাদক। এর কিছুদিন পর সাপ্তাহিক সচিত্র ক্রাইম নামে একটি পত্রিকা তিনি নিজেই প্রকাশ করেন। সাপ্তাহিক সচিত্র ক্রাইম এর সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন তাঁরই ছোটভাই সৈয়দ আবু জাফর এবং তিনি নিজে ছিলেন এর প্রধান সম্পাদক।

এ সময়ে তিনি ঢাকার এইচআরসি মিডিয়া লিমিটেডের ‘সাপ্তাহিক প্রতিচিত্র’র বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এর সম্পাদক ছিলেন বরুণ শঙ্কর। পরবর্তীতে এইচআরসি মিডিয়া জাতীয় দৈনিক ‘যায় যায় দিন’র মালিকানা ক্রয় করলে বরুণ শঙ্কর এরও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং মিলু কাশেম সেই সাথে যায় যায় দিনের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন।

২০০০ সালের দিকে সিলেটে ‘দৈনিক কাজির বাজার’ নামে নতুন পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটলে মিলু কাশেম নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করলে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পত্রিকাটি ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করে। মিলু কাশেম বিভিন্ন সময় ঢাকার খবর গ্রুপ অব পাবলিকেশন, আজকের বিচিত্রাসহ বাংলাদেশ, ভারত ও ইউরোপের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে আজও কাজ করে আসছেন। জনপ্রিয় জার্মান সংবাদ মাধ্যম ‘ডয়েচেভ্যালে’, ‘রেডিও জাপান’ ও ‘বিবিসি’র বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন তৈরীতে সহযোগি হিসেবে অতপ্রতভাবে জড়িত ছিলেন। উল্লেখ্য ‘বিবিসি’র খ্যাতিমান সাংবাদিক গওঈঐঅঊখ চঅখওঘ এর তথ্যচিত্র ‘ভূটান টু বাংলা’র বাংলাদেশের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মিলু কাশেম ১৯৯০ সালে সৈয়দা নাজমিন আক্তাররোজীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘর আলো করে সৈয়দা সাবরিনা শাহনাজ প্রিয়া, সৈয়দা সামিরা শাবনাজ নওরিন, সৈয়দা সামিনা শারমিন নূপুর ও সৈয়দা সামিয়া শাহরীন প্রীতি চার চারটি কন্যা সন্তান।

দেশবরেণ্য ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, বর্তমান সময়ের খ্যাতিমান কবি আবু হাসান শাহরিয়ার, খ্যাতিমান কথাশিল্পী অধ্যাপক মনিরা কায়েস, কবি সৈয়দ আল ফারুক ছড়াকার মিলু কাশেমের কৈশোরের বন্ধু, যার রেশ আজও বহমান।

আজকের এ খ্যাতিমান ছড়াকার হওয়ার পিছনে যে সকল অগ্রজ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তাদের মধ্যে কবি দিলওয়ার, ফজল-এ-খোদা, রফিকুল হক (দাদু ভাই), শামসুল করিম কয়েস, মাহমুদ হক, তুষার কর, রোকেয়া খাতুন রুবী অন্যতম।

তাঁরই সমসাময়িক যেসব লেখকরা তাঁকে- সহযোগিতা করেছেন নানাভাবে তাদের মধ্যে গোবিন্দ পাল, সন্তুচৌধুরী, শেখর ভট্টাচার্য্য’র নাম উল্লেখযোগ্য।

তাঁর প্রিয়দের মধ্যে ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, কবি আবু হাসান শাহরিয়ার, ছড়াকার ফারুজ নেওয়াজ, ছড়াকার আনোয়ারুল কবির বুলু ও ছড়াকার দিলু নাসের এবং অনুজ ও শুভাকাঙ্খিদের মধ্যে সিলেটে- জয়নাল আবেদীন জুয়েল, অজিত রায় ভজন, শাহাদত বখত শাহেদ প্রমূখ।

মিলু কাশেম একজন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। নিজের তিনি ও আদর্শকে ক্ষুন্ন হতে দেননি। যে কোন অন্যায়ে আপোষ করেননি। বিতন্ডা না করে এড়িয়ে গেছেন কত শত জঞ্জাল। তাইতো আজও তিনি মধ্য দিনের সূর্যের মত জ্বলজ্বলে আলোকময়। শততম অতিক্রম করুণ এই রূপ রস গন্ধের সমন্বয়ে। শুভ জন্মদিনের এ শুভ কামনা নিরন্তর।

ধ্রুব গৌতম : সাহিত্যকর্মী ও কলাম লেখক

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ