রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

মোস্তাফিজই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে: মাশরাফি

মোস্তাফিজই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে: মাশরাফি

নিউজটি শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক:টনটসে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে অসাধারণ জয় এনে দেয়ায় সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে তরুণ পেসার মোস্তাফিজ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন টাইগার অধিনায়ক।

ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা যখন বাংলাদেশের বোলারদের বেদম পেটাচ্ছে তখন মাশরাফি বল তুলে দেন কার্টার মাস্টার মোস্তাফিজের হাতে।তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে তুলে দেন। ম্যাচের ৪০ তম ওই ওভারটিই টার্নিং পয়েন্ট।ম্যাচশেষে মাশরাফি তাই ভোলেননি মোস্তাফিজের ওই ওভারটিকে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে বললেন, ‘মোস্তাফিজের ওই ওভারটিই (৪০তম ওভার) টার্নিং পয়েন্ট ছিল।’

মাশরাফি বলেন, মুস্তাফিজের এক ওভারের দুই উইকেটই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট’। মুস্তাফিজের ওই ওভারে দুই উইকেট নিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সে সময় এমনভাবে খেলছিল, তাদের রান হয়ে যেত ৩৬০-৭০। তা ছাড়া শুরুতেই গেইলের আউট এবং সাকিবের দুই উইকেট ম্যাচে বাংলাদেশকে অনেকটাই ফিরিয়ে নিয়ে আসে।ক্যারিবীয়দের ইনিংস শেষ হয় ৩২১ রানে।

টনটনে সোমবার ৩২২ তাড়া করতে নেমে ৫১ বল হাতে রেখেই জয় পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় এই জয়ের মূল কারিগর সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। সাকিব অপরাজিত ১২৪ রান করে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকেই রক্ষা করেননি। দলের জয় নিশ্চিত করে তবেই মাঠ ছাড়েন। তাকে যোগ্য সমর্থন দেন বিশ্বকাপে অভিষিক্ত লিটন দাস। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে সাকিবের ১৮৯ রানের জুটি দলের জয় নিশ্চিত করে। এই দুই ব্যাটসম্যান জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন।সাকিব অনবদ্য ১২৪ রান করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকসহ কয়েকটি রেকর্ড নিজের করে নেন এ ম্যাচে।লিটন দাস ৬ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন।তার আগেই খেলা শেষ।

এই জয়ের কৃতিত্ব সবাই সাকিব-লিটনকে দিলেও অধিনায়কের চোখে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার নায়ক আরেকজন। তিনি মোস্তাফিজুর রহমান।

মাঝের ওভারগুলোয় বাংলাদেশি বোলাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কিছুটা চেপে ধরেছিলেন। তবে উইকেটে এসেই চাপ কাটাতে শুরু করেছিলেন শিমরন হেটমায়ার। শুরু থেকেই ছিলেন পেটানো মেজাজে। মাত্র ২৫ বলে তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। হেটমায়ারের ব্যাটে চড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন রানের পাহাড় গড়ার অপেক্ষায়। ৩৯ ওভার শেষে ২৪০ রানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তখন সাড়ে তিনশ’ মামুলি ব্যাপার।

ঠিক সে মুহূর্তেই প্রেক্ষাপটে অধিনায়ক বল তুলে দেন মোস্তাফিজের হাতে। ৪০তম ওভারটিতে অধিনায়কের আস্থার পূর্ণ প্রতিদানও দেন মোস্তাফিজ। ক্রমেই বিপদজনক হয়ে ওঠা হেটমায়ারকে ফেরান ঠিক ৫০ রানেই। ডিপ মিড উইকেটে অনেকটা দৌড়ে এসে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন তামিম ইকবাল।

তবে হেটমায়ার ফিরলেও বাংলাদেশ তখনো শঙ্কামুক্ত ছিল না। কারণ বিধ্বংসী আন্দ্রে রাসেল যে তখনো নামেনইনি! মোস্তাফিজ নিজের সেরাটা দিয়েছেন তখনই। প্রথম বলে খোঁচা মারার চেষ্টা করেও ব্যাটে না লাগায় বেঁচে গিয়েছিলেন রাসেল। তবে পরে বলে আর সুযোগ দেননি।নিজের ট্রেডমার্ক হয়ে ওঠা কাটার মেরে রাসেলকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন উইকেটের পেছনে।

ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাকি কাজটুকু সেরেছেন মুশফিকুর রহিম। ওই ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ৩২১–এর বেশি করতে পারেনি, সেটির পেছনে বড় অবদানও মোস্তাফিজের এই ওভারটিই।

ম্যাচশেষে সবাই সাকিব-বন্দনায় মাতলেও মাশরাফি তাই ভোলেননি মোস্তাফিজের ওই ওভারটিকে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে বলেন, ‘মোস্তাফিজের ওই ওভারটিই (৪০তম ওভার) টার্নিং পয়েন্ট ছিল।’

তবে মোস্তাফিজকে প্রশংসা করতে গিয়ে জয়ের নায়ক সাকিবকে খাটো করেননি অধিনায়ক। ‘সাকিব বরাবরের মতোই দলের জন্য খেলেছে। প্রতি ম্যাচেই সে নেমে এমন কিছু করেছে, এক কথায় অনবদ্য। আশা করছি, দলের বাকিরাও সবাই এ রকম পারফর্ম করে ওকে যোগ্য সঙ্গ দেবে।’

বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পাওয়া লিটন সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন কড়ায় গণ্ডায়। মূলত ওপেনার হলেও এ ম্যাচে তাকে খেলানো হয়েছে পাঁচ নম্বরে। নিজের স্বাভাবিক পজিশনে না নেমেও বিশ্বকাপ অভিষেকেই খেলেছেন ৬৯ বলে ৯৪ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। মাশরাফির কণ্ঠে তাই লিটনের জন্যও আলাদা করে প্রশংসা ঝরল, ‘গত দুই ম্যাচে মুশফিক ভালো ব্যাট করেছে, আজ লিটন অসাধারণ খেলেছে। সাধারণত, সে টপঅর্ডারে ব্যাট করে, ওর জন্য পাঁচে নামাটা তাই কঠিন ছিল। কিন্তু ও মানিয়ে নিয়েছে এবং পারফর্মও করেছে।’

মাশরাফির পুরোনো চোট এদিনও দেখা যায়।বাংলাদেশ ইনিংস শুরুর আগে ড্রেসিংরুমে বসে শুশ্রূষা নিতে হচ্ছিল মাশরাফিকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস চলার সময়ই মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। ঠিক কী সমস্যা হচ্ছিল, সেটি পরিষ্কার করে বলেননি মাশরাফি। তবে সমস্যাটা যে হ্যামস্ট্রিংয়ের কারণেই, সেটি স্বীকার করেছেন। তবে মাঠ থেকে উঠে গেলেও পর্যাপ্ত বিকল্প বোলার থাকায় চাপ নেননি মাশরাফি।

শেষ চারে ওঠার জন্য টনটনের ম্যাচটি জেতা খুবই প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এই জয় খুবই প্রয়োজন ছিল আমাদের জন্য। এমন সাফল্য দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে। এ সম্পর্কে মাশরাফি বলেন, ‘নটিংহামের উইকেট কিছুটা ব্যাটিং সহায়ক। সে পরিকল্পনা নিয়েই খেলতে হবে আমাদের। তবে বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ না হওয়াটা আমাদের জন্য কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তাই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে।’

গতকাল ৩২২ রান তাড়া করতে গিয়ে ৭ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। অবশ্য ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডেটি ছিল বিশ্বকাপেই। গত বিশ্বকাপে নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল। এবার সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

এই জয়ের সুবাদে শেষ চারে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা। তারা দুটি ম্যাচ জিতে, একটিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। আর দুটি ম্যাচ হেরেছে। সমান ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *







© All rights reserved © 2017 Nonditosylhet24.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ